শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৮ ১৪২৬   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

বদলগাছীতে খালের অভাবে জলাবদ্ধতায় কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি অনাবাদি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নওগাঁ দর্পন

প্রকাশিত : ০৬:৫৭ পিএম, ৯ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় একটি খালের অভাবেজলাবদ্ধতায় কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। ওই মাঠেপ্রায় ১ কিলোমিটার একটি খাল খনন করা হলে জমিগুলো তিনটি ফসল আবাদ করা সম্ভব। এতে করে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে বলে মনেকরছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিষয়টি নিয়ে কৃষি বান্ধব সরকারের সুদৃষ্টিকামনা করছেন এলাকাবাসী।

জানাগেছে, উপজেলার বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদের কুশারমুড়ী মাঠের পানিনিষ্কাষণের জন্য একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল। মাঠের পানি ওই ড্রেন দিয়েবের হয়ে মাঠের পশ্চিম পাশ দিয়ে খলসি ও নিহনপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে মাগুরাগ্রামে অবস্থিত মাগুরা বিলে চলে যেত। এতে করে ওই মাঠের চাঁনপুর,মির্জাপুর, দোনইল, খলসি, পাইকপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় আড়াইথেকে তিন হাজার বিঘা জমির ফসলের কোন সমস্যা হতো না। ফলে মাঠেবোরো, আমন ও পাটের আবাদ করা হতো।

কিন্তু ১৫ থেকে ২০ বছর আগে মাগুরা গ্রামের শেষ প্রান্তে ওই ড্রেনের মুখ বন্ধকরে মাটি ৯াট করে দিয়ে সেখানে একটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়। এতে করেকুশারমুড়ী মাঠের পানি বের হয়ে খলসি গ্রাম পর্যন্ত যেতে পারলেও মাগুরাবিলে যেতে পারেনা। ফলে পানি বের হয়ে যাওয়ার বিকল্প কোন পথ না থাকায়মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণেমাঠে বোরো, আমন ও পাটের ফসল ডুবে যায়। এভাবে কৃষকরা প্রতি বছরক্ষতিগ্রস্থ হতে শুরু হলে আমনের আবাদ করা ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে আবারপাটের আবাদ করাও ছেড়ে দেন কৃষকরা।

সর্বশেষ শুধু একটিমাত্র বোরোআবাদ করা হয়। কিন্তু বৃষ্টি হলে বোরো আবাদও হাঁটু পানির মধ্যে কাটতেহয়। এতে করে তিন ফসলি জমি এখন এক ফসলে পরিনত হয়েছে। পানি জমেথাকায় জমিতে কচুরি পানার স্তুপ জন্মেছে। খাবারের জন্য স্থানীয়রা এ মাঠথেকে মাছ শিকার করে থাকেন। এ মাঠের প্রায় ১ কিলোমিটার খাল খনন করেপানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা করা হলে আবারও জমিতে তিন ফসলের আবাদ করাসম্ভব হবে।

কুশারমুড়ী গ্রামের কৃষক মিনহাজ উদ্দিন বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ বছর আগেবোরো, আমন ও পাটের ফসল হতো। কিন্তু বর্তমানে জলাবদ্ধতা কারণে শুধুবোরো ফসল করা হয়। ডুবে যাওয়ার কারণে অন্য কোন আবাদ করা সম্ভব হয়না। জলাবদ্ধতা দুরীকরণে খাল খনন করা হলে ওই খালের পানি দিয়ে আবাদ করাহবে। এছাড়া খালের পানিতে মাছ চাষ ও হাঁস পালন করা হবে।

একই গ্রামের কৃষক আহাদ আলী মিয়া বলেন, খাল খননের সময় যদি আমারজমির উপর দিয়ে যায় সেক্ষেত্রে সরকারকে আমি জমি দিয়ে দিবো। আমারকোন আপত্তি থাকবে না। জলাবদ্ধতার কারণে সারা বছরই কয়েকশ বিঘা জমিতে পানি জমে থাকে। খাল খনন করা হলো কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজারকৃষকরা উপকৃত হবেন। আমাদের সবার জন্যই সুবিধা হবে

।মির্জাপুর গ্রামের সাইদুল, দোনইল গ্রামের আসব আলী, কুশারমুড়ীগ্রামের বয়জ্যেষ্ঠ সাইদুল ইসলাম ও শুম্ভনাথ মন্ডল বলেন, মাঠের উত্তর পাশ দিয়েপ্রায় ১ কিলোমিটার খাল খনন করে মরা নদীতে পানি নামার ব্যবস্থা করতেহবে। মরা নদীর মুখে বাঁধ কেটে সেখানে একটি স্লুইচগেট করা হলে নদীতেপানি নামানো হলে জলাবদ্ধা দুর হবে। আর স্লুইচগেট থাকার কারণে বন্যারসময় মাঠে পানি প্রবেশ করতে পারবে না। আর সামান্য বৃষ্টিতেই বোরোমৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে বোরো ফসল ডুবে যায়।

গত বছরহাঁটু সমান পানিতে বোরো ধান কাটতে হয়েছে। জুয়েল ও সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মাঠের পানি নিষ্কাষনের জন্য খাল খনন করাহলে একই জমিতে তিনটি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। আবার খালের পানিতেআমাদের মতো বেকার যুবকের মাছ চাষে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এতে করেএলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে। কৃষি বান্ধব সরকারের কাছেআমাদের দাবী জলাবদ্ধতা দূরীকরণে দ্রুত খাল খনন করা হোক।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: মাসুম আলী বেগবলেন, যেহেতু পূর্বে মাঠের পানি নিষ্কাষনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল।মাঠটি পরিদর্শণ করে স্থানীয় জনসাধারন এবং সরকারি সহযোগীতায়প্রকল্পের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

স/শাহা