সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

কি হয়েছিল সেদিন, সন্দেহের চোখ সহকর্মীর দিকে

নওগাঁ দর্পন

প্রকাশিত : ০৭:৩৪ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার

ডাক্তার রাজনের মৃত্যুকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নানা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। বিশেষ করে রাজনের কতিপয় সহকর্মীকে এই বিষয়ে বেশ সরব দেখা যায়। কিন্তু অবাক করা হলেও সত্য সেদিন যা ঘটেছিল তা পর্যালোচনা করলে সন্দেহের পাল্লাটা ভারি হয় সহকর্মীদের দিকেই ।

ডাক্তার রাজন অপারেশন করতেন ফাস্ট কেয়ার হাসপাতাল, গ্রীন লাইফ হাসপাতাল ও হেলথ্ এন্ড হোপ হাসপাতালে। অন্য হাসপাতালে সুযোগ থাকা সত্বেও পেশাদারিত্বের কারণে কখনো কাজ করেননি। কিন্তু সেদিন প্রথমবারের মত তিনি অপারেশন করতে যান মানারাত হাসপাতালে। এখানেই প্রশ্ন উঠে কার প্ররোচনায় তিনি মানারাত হাসপাতালে অপারেশন করতে গেলেন?

ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, আগেরদিন ডাক্তার মীর নওয়াজেশ আলী (রাজিব) তাকে ওরাল কন্সট্রাক্ট রিকন্সট্রাকশন ওটিতে যাওয়ার জন্যে জোর করতে থাকে। যার পিতা কিনা মুক্তিযুদ্ধের সময় বিতর্কিত ভূমিকায় ছিলেন। ডাক্তার রাজন তাতে রাজি হয় কিন্তু বিনা পয়সায় অপারেশন করবেন এই শর্তে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডা. রাজনের এক সহকর্মী চিকিৎসকের নিকট হতে জানা যায়, তাদের মধ্যে পেশাগত দ্বন্দ্ব ছিলো। সেদিন দুপুরের খাবার আর রাতের খাবারও ডাক্তার রাজিবের সাথেই গ্রহণ করেন রাজন। ডাক্তার রাজন ও ডাক্তার রাজিব ডিনারে গেলে সেখানে লাঞ্চ ও ডিনারে তাদের সাথে যোগ দেন ডাক্তার সাজিদ। কিন্তু প্রশ্ন হলো ডাক্তার সাজিদ সেই হাসপাতালে চেম্বার করে না , ওটির সাথেও তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিলোনা, তিনি হলেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক। উল্লেখ্য, ডা. সাজিদের সাথেও ডা. রাজনের পেশাগত দ্বন্দ্ব ছিলো। সেদিন আবার ছিলো সরকারি অফিসের দিন। তবে কেনো ডাক্তার সাজিদ অফিস সময়ে সেখানে ছিলেন? সেই ডিনারের পরেই কেন রাজন প্রস্থান করেন? রাজনের মত একজন অত্যন্ত উদার মানসিকতার সার্জন অপারেশন শেষ না করেই হাসপাতাল থেকে চলে আসার পেছনে অবশ্যই কোনো গুরুতর কারণ আছে ।

মানারাতের ওটি বয়, এনেসথেসিস্ট ও তার মিসেসে ডা. কৃষ্ণা মজুমদার এর সাথে কথা বলে জানা যায়, ডাক্তার রাজন হাসপাতালে ডিসকমফোর্ট ফিল করছিলেন। তিনি ফোনে ডা. কৃষ্ণা মজুমদারকে এই ডিসকমফোর্টের কথা বলেছিলেন। এমনকি বাসায় আসার পরেও বার বার এই শারীরিক অস্বস্তির কথা বলছিলেন। তবে কি সেই ডিনারে খাবারের সাথে কিছু মেশানো হয়েছিল অথবা কোনো বাকবিতণ্ডা যার কারণে ডাক্তার রাজন ডিসকম্ফোর্ট ফিল করতে শুরু করেন ?

রাতের ১১টা এর দিকে ডাক্তার রাজন প্রতিদিনের মত তার শ্বশুর সাধন চন্দ্র মজুমদারের কাছে যান। তার শ্বশুরকে ওষুধ খাওয়ানোর পর স্ত্রীকে বলেন তিনি ডিসকমফোর্ট ফিল করছেন এবং তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চান। তাই তারা সেখান থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরেন । বাসায় ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্কয়ার হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন আর ধারণা করেন হার্ট এট্যাকের কারণে তার মৃত্যু হয় ।

উপরের ঘটনাগুলোতে একটু চোখ বুলালেই ভেতরের কিন্তুগুলো পরিস্কার হয় ।

. কেন ডাক্তার রাজন সেদিন মানারাত হাসপাতালে প্রথমবারের মত ওটিতে গেলেন ?

২. ডাক্তার মীর নওয়াজেশ আলী রাজিব কেন তাকে জোর করে ওটিতে নিয়ে গেলেন, কেনইবা ওটি শেষ না করেই চলে এলেন ডাক্তার রাজন? 

. কেন ডাক্তার সাজিদ মানারাতে চেম্বার নেই, ওটিতে কাজ নেই তবুও বারডেমে অফিস থাকা সত্ত্বেও লাঞ্চ ও ডিনারে গেলেন আবার চলেও আসলেন ?

. কি এমন ঘটেছিল সেই ডিনারে বা কি ছিলো সেই খাবারে যে ডিনারের পরেই ডিসকমফোর্ট ফিল করতে শুরু করেন ডাক্তার রাজন ?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখন খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ডাক্তার রাজনের মৃত্যুর পেছনে ডাক্তার রাজিব বা ডাক্তার সাজিদের সম্পৃক্ততা নাই তো? একই সাথে তৈরি হয়েছে সহকর্মীদের তালিকা যাদের হাত থাকতে পারে এই ঘটনার পেছনে । আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বরাতে জানা যায়, অতিশীঘ্রই এসব ঘটনার পেছনের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনা হবে । সাধারণ জনগণকে মিডিয়া আর স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ভূয়া মিথ্যা প্রচারণা থেকে সাবধান থাকতেও আহ্বান জানায় তারা ।