শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৮ ১৪২৬   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

গাড়ি চার্জ হবে মাত্র ২০ মিনিটে

নওগাঁ দর্পন

প্রকাশিত : ১২:৫৯ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার

ইলেকট্রিক গাড়ির প্রসারে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে, এগুলো চার্জ হতে অনেক সময় লাগে। তবে এই সমস্যা সমাধানে জার্মানি ও স্পেনের একদল বিজ্ঞানী কাজ করছেন। তারবিহীন এক পদ্ধতি বের করেছেন তারা, যার সাহায্যে মাত্র ২০ মিনিটে একটি গাড়ি চার্জ করা সম্ভব বলে দাবি করছেন গবেষকরা।

স্পেনের সারাগোসায় ইলেকট্রিক গাড়ির জন্য এই অভিনব চার্জিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে।

প্রকৌশলী লুর্দেস গার্সিয়া জানান, ‘ইন্ডাক্টিভ অর্থাৎ তারবিহীন প্রযুক্তিতে গাড়ি চার্জ হয়। এক্ষেত্রে চার্জিং স্টেশনের টারমার্কের নিচে কয়েল বসানো থাকে। গ্রিড থেকে কয়েলে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। কোনো গাড়ি টারমার্কের ওপর সঠিকভাবে উঠলে কয়েল আর গাড়ির মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হয়। তখন কয়েল থেকে গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ হতে পারে। এভাবে কার, ভ্যান কিংবা ইলেকট্রিক বাস চার্জ করা যায়।’

গবেষকরা বলছেন, এই পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে সহজ ও নিরাপদ। বিজ্ঞানীরা এখন পরীক্ষামূলকভাবে সফল এই পদ্ধতির বাণিজ্যিক রূপ দিতে আগ্রহী।

প্রকৌশলী জোসে ফ্রান্সিসকো সান্স ওসোরিও বলেন, ‘একটি পরিপূর্ণ তারবিহীন চার্জিং স্টেশন তৈরির জন্য যা প্রয়োজন, তার প্রায় সবই আমাদের কাছে আছে। এখন আমরা কয়েল প্রস্তুতকারক খুঁজছি। কিন্তু এই কয়েলগুলো এতটাই অন্যরকম যে, এগুলো তৈরি করতে পারার মতো যুতসই কোম্পানি খুঁজে পাওয়া কঠিন হচ্ছে।’

ইউরোপীয় এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য, মানুষকে ইলেকট্রিক গাড়ির সুবিধা সম্পর্কে জানানো। কিন্তু তার আগে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে।

প্রকৌশলী আক্সেল বারকোভ বলেন, ‘প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, গাড়ি আর অবকাঠামোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের কাজটি সফলভাবে করা। পরের চ্যালেঞ্জ, ৫০ কিলোওয়াটের একটি চার্জিং স্টেশনে ৩ দশমিক ৭ কিলোওয়াটের একটি গাড়ি কীভাবে চার্জ করা সম্ভব। আর সবশেষ চ্যালেঞ্জটি হচ্ছে, গাড়ি ঠিক জায়গায় বসানো। পরীক্ষায় দেখা গেছে, টারমার্কের নিচে থাকা কয়েলের ওপর গাড়িটি কীভাবে বসছে, তার ওপর চার্জ হওয়া নির্ভর করে।

এর সমাধান হচ্ছে, এমন এক পদ্ধতি বের করা, যা গাড়িকে ঠিক জায়গায় বসাতে সাহায্য করবে। ফলে জ্বালানি অপচয় হবে না। ম্যাগনেটিক ফিল্ড, অপটিক সিস্টেম আর অ্যালগোরিদমের সাহায্যে সমাধানের পথ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রকৌশলী ইয়র্গ ক্যুফেন বলেন, ‘গবেষণার এই পর্যায়ে এসে আমরা ক্যামেরা আর রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন, অর্থাৎ আরএফআইডি ব্যবস্থার সাহায্যে একটি উপায় বের করতে পেরেছি, যা চালককে গাড়িটি ঠিক জায়গায় পার্ক করতে সহায়তা করবে।’

চার্জিং স্টেশনের সক্ষমতা বাড়াতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

প্রকৌশলী জোসে ফ্রান্সিসকো সান্স ওসোরিও বলেন, ‘এখানে আমরা একটি ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ে কাজ করছি। অন্য দেশে হয়তো অন্য ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ হতে পারে। এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি ঠিক করতে হবে। কয়েলের আকার নিয়েও একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইলে এসব বিষয় প্রয়োজন হবে।’

প্রকৌশলী আক্সেল বারকোভ জানান, ‘আমার মনে হয়, এই পদ্ধতিতে চার্জ গ্রহণে সক্ষম গাড়ি তৈরির কাজ শুরুর কাছাকাছি পৌঁছে গেছি আমরা। দু-এক বছরের মধ্যে এটি শুরু হতে পারে বলে আমার মনে হচ্ছে।’

গবেষকরা এবার এমন এক চার্জিং স্টেশন তৈরির চেষ্টা করছেন, যা দিয়ে গাড়ি চলার সময়ই চার্জ দেয়া সম্ভব হবে।