মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬   ১৫ সফর ১৪৪১

১০৮ বছরের অপূর্ণ স্বপ্ন সান্তাহার-রহনপুর রেলপথ শুর হবে সাধনচন্দ্র

নওগাঁ দর্পন

প্রকাশিত : ০৮:০৪ পিএম, ২ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার

১০৮ বছরের অপূর্ণ স্বপ্ন এবার বাস্তবায়ন হবে বলে এবার আশা করছে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী। নওগাঁ ১ (পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর) আসনের সাংসদ এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী সাধনচন্দ্র মজুমদার বলেছেন, উত্তরাঞ্চলের দুই জেলা নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের ১০০ বছরের বেশি সময়ের স্বপ্ন ও প্রাণের দাবি রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প নতুন সরকার শুরু করবে। এর জন্য সরকারকে বারবার তাগাদা দেবেন তিনি।

১০৮ বছর আগে জরিপের পর বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশন থেকে নওগাঁ হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পর্যন্ত ৬৬ মাইল দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের পক্ষে মত দেওয়া হয়। পরে প্রকল্পটি হাতে নিয়েও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—কোনো সরকারই জনগুরুত্বপূর্ণ এই দাবি বাস্তবায়ন করেনি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অনগ্রসর এই জনপদে সারা বছর যাত্রীর পাশাপাশি উৎপাদিত কৃষিপণ্য ধান, আম, পাট, আখ, গম, ভুট্টা ইত্যাদি পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারবে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘটবে বড় উন্নতি। এখন সড়কপথই ভরসা।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, সান্তাহার জংশন থেকে নওগাঁর ওপর দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর স্টেশন পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের গণদাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১০ সালে তৎকালীন ইস্টার্ন বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করে। জরিপ দলের নেতা ডেলগ্রিন তাঁর রিপোর্টে অবিলম্বে এ রেলপথ নির্মাণের জন্য জোর সুপারিশ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর থেকে উত্তরাঞ্চলের জনগণের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের রেলওয়ে বোর্ড ১৯৬৩ সালে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুনরায় কাজ শুরু করে। গঠিত জরিপ দলের তৎকালীন প্রধান মরহুম আশরাফ আলী ডেলগ্রিনের রিপোর্টের পক্ষে মত দেন। তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ১৯৪ পৃষ্ঠার লিখিত রিপোর্টে প্রকল্পের একটি ব্লূপ্রিন্ট ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও রেলওয়ে বোর্ড রহস্যজনকভাবে হঠাৎ প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সংসদে এই প্রকল্পের কথা উপস্থাপন করেছিলেন সংসদ সদস্য মরহুম আবুল কালাম আজাদ ও মরহুম মোজাফ্ফর রহমান চৌধুরী। স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় সান্তাহার-রহনপুর রেলপথ প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ৬৬ মাইল দীর্ঘ বগুড়ার সান্তাহর-চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলওয়ে প্রকল্পটিতে ব্রডগেজ ও মিটার গেজ লাইন স্থাপনের কথা ছিল। এ রেলপথে রাখার কথা ছিল ১১টি স্টেশন। সান্তাহার জংশন ও রহনপুর স্টেশনের মধ্যকার এই স্টেশনগুলো হলো নওগাঁ শহর, হাঁপানিয়া হাট, হযরতপুর, জাহাঙ্গীরাবাদ, মহিষবাথান, নজিপুর, মধইল, সাপাহার, পোরশা উপজেলার সারাইগাছী বাজার, বেজোড়া ও দাদপুর। প্রকল্পে দুটি রেল সেতু নির্মাণের কথাও ছিল। একটি নওগাঁ শহরের ডিগ্রি কলেজের উত্তর ধারে ছোট যমুনা নদীর ওপর এবং অন্যটি পত্নীতলা উপজেলার নজিপুরে আত্রাই নদীর ওপর। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ তথা বরেন্দ্র অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

নওগাঁ ১ (পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর) আসনের সাংসদ এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী সাধনচন্দ্র মজুমদার বলেন, আমি সংসদের প্রথম অধিবেশনেই প্রকল্পটি নিয়ে কথা বরবো। এবারের শাসনকালেই আমি রেললাইনটি নির্মাণের কাজ শুর করা এবং  শেষ করতে চেষ্টা করবো। নওগাঁর ইতিহাস গবেষক, কবি ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আতাউল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘এই রেল যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময়ে জনগণের দাবি থাকলেও শুধু নেতৃত্বের অভাবে এবং তাঁদের দুর্বলতার কারণে নওগাঁর মধ্য দিয়ে সান্তাহার থেকে চাঁপইনবাবগঞ্জের রহনপুর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপন হয়নি। হলে এই দুই জেলায় ধান, আমসহ উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্বল্পমূল্যে ও দ্রুত পরিবহন অনেক সহজ হয়ে যেত।’

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এই রেললাইন স্থাপনের একটি বড় অন্তরায়। এ ছাড়া এ এলাকায় যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁরা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননি। এর গুরুত্ব অপরিসীম।’

 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘জেলায় সড়ক ছাড়া অন্য কোনো যোগাযোগব্যবস্থা নেই। নদীপথে যোগাযোগের সুযোগ নেই। এখানে রেল যোগাযোগ স্থাপন হলে এলাকার সাধারণ মানুষের অনেক সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে এই জেলা ও বরেন্দ্র এলাকায় ধান, আম, বরই ইত্যাদি কৃষিপণ্য ব্যাপকভাবে উৎপাদন হয়। সম্প্রতি ব্যাপকভাবে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। অচিরেই এর উৎপাদন শুরু হবে। রেলপথ হলে যাত্রী ও কৃষকদের উৎপাদিত এসব পণ্য পরিবহনে অনেক সুবিধা হতো। শুধু সড়কপথের ওপর নিভর্রশীল থাকতে হতো না।’

রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, এই প্রকল্পটি সম্পর্কে আমি জানি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে প্রকল্পটি