শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
ধামইরহাটে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে র‌্যালি ও পুরুস্কার বিতরণী মান্দায় ৩টি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সবাই ফেল! নিয়ামতপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন আত্রাইয়ে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা মান্দায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক ১ রাণীনগরে ছাত্রলীগের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ রোপণ রেলপথের দাবিতে হাঁপানিয়ায় মানববন্ধন নওগাঁয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মান্দায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙে ৩১ গ্রাম প্লাবিত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে রাণীনগরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত
৬৩

৩৫ বছরেও স্থায়ী হয়নি সরকারি চাকরি, মানবেতর জীবন যাপন আ: খালেকের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০১৯  

মৎস কর্মকর্তা আব্দুল খালেক।

মৎস কর্মকর্তা আব্দুল খালেক।

সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের স্বপ্ন থাকে চাকরি শেষে তাদের পরিবারের আর্থিক বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। চাকরি শেষেই তারা পাবেন সরকারি পেনশন যা দিয়ে চলবে তাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর সরকারি মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেও কোনো পেনশন পাচ্ছেন না আব্দুল খালেক। ফলে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে আব্দুল খালেকের পরিবারকে।

আব্দুল খালেক জানান, ১৯৮৪ সালের ১৭ জুলাই তিনি চাকরিতে যোগদান করেন এবং চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি অবসর গ্রহণ (পিআরএল) করেন। চাকরির শুরুতে তিনি যশোরের ঝিকরগাছার থানা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

এরপর দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, কুষ্টিয়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দপ্তরের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দপ্তরের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার ব্যবস্থাপক এবং সর্বশেষ রাজশাহী সদরের মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার ব্যবস্থাপক হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল খালেক।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ চাকরি জীবনে কোনো পদোন্নতি পাননি তিনি। প্রারম্ভিক বেতন ছাড়া অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাননি। উন্নয়নখাতে প্রকল্পের চাকরি ১৯৮৪ সালে শুরু করেন। ১৪ বছর পর ১৯৯৮ সালে রাজস্বখাতে তাকে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৬ সালে তার চাকরির পদ নিয়মিতকরণ করা হয়। কিন্তু ননক্যাডার পদে নিয়োগবিধি না থাকার কারণে চাকরি স্থায়ী করা হয়নি। প্রায় ৩৫ বছর চাকরি করার পর চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি এক বছরের জন্য পিআরএল এ যান।

অবসরে যাওয়ার আগে তার পদ স্থায়ী না হওয়ায় তিনি অবসরভাতা (পেনশন) পাচ্ছেন না। তাই এখনো অবসরভাতা পাবার জন্য আবেদনও করতে পারেননি। ফলে বৃদ্ধ বয়সে তাকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। 

আব্দুল খালেক অভিযোগ করেন, ১৯৮৪ সালে তারা ৬জন একসঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে থানা মৎস্য কর্মকর্তা পদে এডহক ভিত্তিতে যোগদান করেছিলেন। এরপর উপজেলা পরিষদ চালু হলে প্রেষণে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে বদলি/পদস্থ করা হয়। পরে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত বিভাগীয় প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে চাকরি করেছেন। কিন্তু সারাজীবন চাকরি করে দেশের উন্নয়নে কাজ করে গেলেও এদের কারোই চাকরি স্থায়ী হয়নি। এদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। আব্দুল খালেকসহ দুজন পিআরএল এ রয়েছেন। আর দুজন এখনো চাকরিতে আছেন। তাদের কেউই অবসরকালীন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা না পেয়ে চিন্তিত রয়েছেন।

আব্দুল খালেক বলেন, তাদের পরে দ্বিতীয় মৎস্য চাষ উন্নয়ন প্রকল্প, তৃতীয় ও চতুর্থ মৎস্য চাষ উন্নয়ন প্রকল্পে ননক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে যারা যোগদান করেছিলেন তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ হয়েছে। তারা অবসর ভাতাও নিয়মিত পাবেন। কিন্তু একই পদে যোগদান করে সারাজীবন কাজ করেও তিনি অবসর ভাতা পাচ্ছেন না।

চাকরিজীবনে বঙ্গবন্ধু পরিষদের খুলনা বিভাগের অর্থ সম্পাদক, রাজশাহী বিভাগের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন আব্দুল খালেক। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করে তিনি বলেন, সারাজীবন দেশের উন্নয়নে কাজ করেছি। শেষ জীবনে এসে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানসম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই। পেনশন আমার অধিকার। আমাদের ৬জনকে পেনশন সুবিধা দিয়ে আমাদের পরিবারকে বাঁচান।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর