সোমবার   ২৭ মে ২০১৯   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৬   ২২ রমজান ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
১১২৭

স্বামীর হঠাৎ মৃত্যুতে স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা মজুমদার ষড়যন্ত্রের শিকার!

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০১৯  

স্বামীর হঠাৎ মৃত্যুতে স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা মজুমদার ষড়যন্ত্রের শিকার!

হঠাৎ মৃত্যু কখন কার ভাগ্যে আসবে তা কারো জানা নেই। অথচ এক শ্রেণির মানুষ স্বাভাবিক বা সৃষ্টিকর্তার লেখা মৃত্যুকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে। কারণ একটাই তাদের স্বার্থ হাসিল করা। গতকাল রোববার মাঝ রাতের দিকে ঠিক তেমনই একটা ঘটনা ঘটেছে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের জামাতা ডা. রাজন কর্মকারের মৃত্যু নিয়ে।

সুস্থ সবল স্বামীর হঠাৎ মৃত্যুতে স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা মজুমদার পরিবারের জীবন থমকে যায় এমন খবর শুনামাত্র। কিন্তু এই মৃত্যুকে নিয়ে একশ্রেণির কুচক্রী মহল খাদ্যমন্ত্রীর মেয়ে ডা. কৃষ্ণা মজুমদারের উপর মিথ্যা হত্যার মতো জঘন্য দোষারোপ করে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোন তথ্য প্রমাণ ছাড়া স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা মজুমদার তার পরিবারকে  মানসম্মানক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র কারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের পক্ষ থেকে।    

জানা যায়, হাস্যোজ্জল সুখী দম্পত্তি ডাক্তার রাজন কর্মকার আর ডাক্তার কৃষ্ণা মজুমদার। একই পেশায় কর্মরত ছিলেন দুইজন। দক্ষ এবং যথেষ্ট পেশাদারীত্বের সুনাম আছে দুজনেরই। কর্মজীবন আর সামাজিক জীবন মিলিয়ে তাদের ভালবাসার কমতি ছিলো বলার কোনো সুযোগ নেই। হাজার হাজার হাস্যোজ্জল আর ভালবাসাপূর্ন ফেসবুকে দেয়া ছবিই বলে দেয় কতটা বোঝাপড়ার আর সাজানো ছিলো তাদের জীবন।

কিন্তু ডাক্তার রাজনের মৃত্যুর পর স্ত্রী কৃষ্ণা মজুমদারের স্বামী হারানোর শোকের উপরেই চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে স্বামী হত্যার মতো অন্যায় অভিযোগ। কারো কাছে নেই প্রমাণ, রাজনের জীবন যাপনে ছিলনা দাম্পত্য কলহের লেশমাত্র প্রকাশ। তবু কলহ আর হত্যার অভিযোগ; যেই অভিযোগের নেই কোনো সূত্র। নেই কোনো ভিত্তি। 

হার্ট এট্যাক ভূমিকম্পের মত। কখন আসবে কেউ বলতে পারে না। রাজন ছিলেন উচ্চ রক্তচাপের রোগী। রোগীদের সুস্থ করায় যে মহান ডাক্তারের কাজ। অথচ সেই ব্যক্তিই  কিছুটা বেখেয়াল ছিলেন নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে। তিনি ডাক্তার প্রদীপ কুমারের কাছে নিয়মিত চিকিৎসা নিতেন। নিজের পেশার প্রতি তিনি এতটাই সচেষ্ট ছিলেন যে কাজের চাপে প্রায়ই শারীরিকভাবে অসুস্থ হতেন। কিন্তু তাকে ঠিকমত ওষুধ খাওয়াতে বেগ পেতে হতো পরিবারের সদস্যদের।

মৃত ডাক্তার রাজন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের মেয়ের জামাই বলেই আজ এতটা ব্যতিব্যস্ত মিডিয়া। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে রাতারাতি অবৈধ খাদ্য মজুদ আর নানা দূর্নীতির লাগাম টেনে ধরেছেন সাধন চন্দ্র মজুমদার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেয়া দূর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে সব থেকে সফল তার খাদ্য মন্ত্রণালয়। আর এই কাজ করতে গিয়ে সাধন মজুমদার চক্ষুশূল হয়েছেন অনেকের। আজ এই সকল দূর্নীতিবাজরা প্রতিশোধের সুযোগ পেয়েছে। সিন্ডিকেটগুলো ন্যায় অন্যায় জ্ঞান হারিয়ে যাচ্ছেতাই অভিযোগ সাজাচ্ছে।

ডাক্তার রাজনকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

এবিষয়ে স্কয়ার হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আসাদ বলেন, ‘রবিবার ভোররাত ৩টা ৪৫ মিনিটে রাজন কর্মকারকে তার পরিবার হাসপাতালে নিয়ে আসে। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

কর্তব্যরত ডাক্তার আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলার পরেও একদল অতিউৎসাহী ডাক্তারদের দেখা যাচ্ছে যারা এখনই বলে দিচ্ছে এটি হত্যাকান্ড। ময়নাতদন্তের আগেই কে তাদের অনুমতি দিয়েছে এটি হত্যাকান্ড হিসেবে মতামত দেয়ার আর কিভাবেই বা তারা বলছে এই হত্যা তার স্ত্রীই করেছে? দেশের প্রচলিত আইনে যে এভাবে প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা অন্যায় তারা কি সেটা জানেনা? নাকি সিন্ডিকেটগুলো থেকে মোটা অংকের ইশারা তাদের জ্ঞানশুন্য করে দিচ্ছে?

স্বার্থ উদ্ধার আর মিডিয়াতে হিরো সাজার এক ঘৃণ্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ডাক্তারদের ভেতরকার গ্রুপিং আর নোংরা রাজনীতি নতুন কিছু নয়। কনক কান্তি বড়ুয়া গ্রুপ, প্রান গোপাল গ্রুপ, আজিজ গ্রুপ, ইকবাল আর্ম্লান গ্রুপ এই নামগুলো শুধু গ্রুপিং এর নগ্ন প্রদর্শন মাত্র।

এদের মাঝেই কিছু গ্রুপ যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন দূর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট এর সাথে আর নিজেদের মধ্যকার শত্রুতাকে কাজে লাগিয়ে উত্তপ্ত করছে পরিবেশ। এই ঘোলা পানিতেই মাছ শিকার করে খাদ্যমন্ত্রীর অর্জন আর সুনাম নস্ট করে আবার খাদ্যমন্ত্রণালয়কে দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত করতে মরিয়া স্বার্থান্বেষী মহল।

আইনশৃংখলা বাহিনী ইতোমধ্যে এইসব সিন্ডিকেটের সদস্য, তাদের সাথে আতাতকারী ডাক্তার গ্রুপ এবং অন্যান্য স্বার্থান্বেষীদের তালিকা তৈরি করে ফেলেছে। যারা এই ঘটনাকে ভিন্ন স্বার্থে ব্যবহারের চেস্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠিনতর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এখন সাধারন মানুষ হিসেবে আমাদের ভাবা উচিত সেই স্ত্রীর কথা যে তার স্বামীকে হারিয়েছে। প্রমাণবিহীনভাবে তাকে দোষী না বানিয়ে আমাদের তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমরাও চাই ময়নাতদন্তের মাধ্যমে সঠিক সত্যটা বের হয়ে আসুক। আইনের আওতায় আসুক সেইসকল দূর্নীতিবাজ তাদের দোসরারা যারা মৃত্যু আর ভালবাসা নিয়েও ছিনিমিনি খেলতে পিছ পা হয়না

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর