রোববার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১০ ১৪২৬   ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
২৪৫

সাপাহারে রাস্তা বন্ধ করায় চলাচলে চরম বিঘ্ন

প্রদীপ সাহা, সাপাহার

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার গোপালপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গ্রাম্য প্রভাবশালী মহলের মদদে কয়েকজন আদিবাসী গোত্রের লোকজন গ্রামের মধ্যে চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

এঘটনার শিকার হয়ে ওই গ্রামের কয়েকটি পরিবার সহ বিভিন্ন গ্রামের চলাচলকারী পথচারীরা চরম বিপাকে পড়েছে।

জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরে ওই গ্রামের আদিবাসীপাড়ার বাসিন্দা বিমল উরাওয়ের সঙ্গে একই গ্রামের মুসলিমপরিবারের বাসিন্দা আবদুুল বারিকের বসত বাড়ির সীমানা ওজমিজমার রেকর্ড সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধসহ আদালতে মামলা চলেআসছে। এরই জের ধরে সম্প্রতি গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মদদেবিমল উরাও তার লোকজন নিয়ে ওই গ্রামে চলাচলের একমাত্র রাস্তায় বাঁশও কাঠের খুটি পুঁতে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারি স্থানীয় লোকজনসহ গোপালপুরমোড়সহ স্কুল মাদ্রাসাগামী, শিক্ষার্থীরা ও ভ্যান রিক্সাসহ রাস্তায় চলাচলকারী সকল প্রকার যানবাহনগুলোর চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

গ্রামের উত্তর পাড়ার বাসিন্দা আকবর আলী, এমরান আলী, ইউসুফ আলী, আহসান আলী, আবু সাঈদসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন, ওই গ্রামের লোকজনসহ অত্র এলাকার বিভিন্ন গ্রামের লোকজন বিগত প্রায় ৩০-৪০ বছর ধরে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছেন। আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দেয়ার কারণে বর্তমানে ওই গ্রামে বসবাসকারী লোকজনসহ পথচারীরা ওই রাস্তায় চলাচল করতে না পেরে সীমাহীন কষ্ট করে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করছে।

বর্তমানে ওই প্রভাবশালী মহল ও আদিবাসীদের ভয়ে গ্রামবাসী এক রকম নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

গ্রামবাসীদের এক অভিযোগের প্রেক্ষীতে অতি সম্প্রতি সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যান চৌধুরী ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই ঘটনাস্থলে গিয়ে জনস্বার্থে জনগনের চলাচলের রাস্তা হতে সকল প্রকার খুঁটি ও বেড়া অপসারন করে রাস্তাটি খুলে দেয়।

এরপর প্রশাসনিক কর্মকর্তাগন তাদের নিজ নিজ অফিসে পৌঁছানোর আগেই আবারো আদীবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন সকল নিয়মনিতী উপেক্ষা করে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়।

এরপর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আবারো অভিযোগ করা হয় কিন্তু রহস্যজনক কারণে এখনও রাস্তাটি বন্ধ থাকায় গ্রামবাসীসহ পথচারীরা চরম বিপদে পড়ে জরুরী প্রয়োজনে বিকল্প পথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে ওই গ্রামের উত্তর প্রান্তের বাসিন্দাদের দৈনিন্দন কাজ কর্ম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে।

বিশেষ করে রাস্তায় খুুঁটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বিমল উরাওয়ের লোকজন ভুক্তভোগীদের চলাচলে ভয়ভিতিসহ বিভিন্ন ধরনের বাধা প্রদান করছে বলে ভুক্তভোগী জনগন জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ওই পরিবারগুলো তাদের এ সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

উল্লেখ্য, গতবছর সেপ্টম্বর মাসে একই ঘটনায় ওই আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন ওই রাস্তায় একই ধরনের প্রতিবন্ধকার সৃষ্টি করেছিল। থানা প্রসাশনের হস্তক্ষেপে তারা তা খুলে দিতে বাধ্য হলেও রহস্যজকভাবে একবছর পরে আবার তারা ওই রাস্তায় একই ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জনগনকে বিপদে ফেলেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যান চৌধুরীর সাথে কথা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, উভয় পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে এবং সম্মতিতে আমরা রাস্তাটি খুলে দিয়ে এসেছি কেন জানি তারা আবার প্রতিবন্ধকাতার সৃষ্টি করল তা জানিনা। তবে অচিরেই আমরা বিষয়টির নিষ্পত্তি নিয়ে দরবার করে এর সমাধান করার চেষ্টা করব।

নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর