মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৫ ১৪২৬   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
৪০

সাপাহারে ঠেকানো গেলনা বাল্যবিবাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৯  

ছবি- প্রতিকী

ছবি- প্রতিকী

নওগাঁর সাপাহারে একটি বাল্য বিবাহ ঠেকাতে পারলেননা ইয়ুথ গ্রুপের ছেলেরা। অবশেষে গভীর রাতে ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী লিলি আক্তার (১৪) কে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করালেন তার মা’বাবা। বাল্য বিবাহের বলি ওই লিলি উপজেলার কলমু ডাঙ্গা হঠাৎপাড়ার ফজলুর রহমান (খোকা)র মেয়ে। জানা গেছে বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই লিলির বাবা মা তার অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েকে পাশ্ববর্তী কলমুডাঙ্গা বড়িপাড়ার মতিবুর রহমানের ছেলে কাজেম (২১) এর সাথে বিবাহ দেয়ার জন্য কথাবার্তা ঠিক করে।

কিন্তু এই বাল্য বিবাহে বাঁধ সেঁধে বসে ওই গ্রামের কিছু ইয়ুথ গ্রুপের ছেলে, তারা কিছুতেই এই বিয়ে হতে দেবেনা বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। লিলির মা’বাবাও মেয়ের বিবাহ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে তারা এই বিয়ের আয়োজন করে। রাতেই লিলির বিয়ে হচ্ছে সংবাদ পেয়ে ইয়ুথ গ্রুপের ছেলেরা নিরুপায় হয়ে রাত ১১টার দিকে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে মোবাইল ফোন করে। শতবার ফোন করেও বিজিবির পক্ষ থেকে ফোন রিসিভ করা না হলে তারা উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার নম্বারে ফোন করে।

দু:খের বিষয় উপজেলা থেকেও তাদের ফোন রিসিভ না হওয়ায় শেষে রেজিঃ বিহীন স্থানীয় মৌলভী ডেকে বিয়ে পড়ানো হয় লিলির। এবিষয়ে পাতাড়ী ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট কাজী আব্দুল বারীর সাথে কথা হলে দু:খের সাথে তিনি জানান যে, ওই ইউনিয়নে তিনি বাল্যবিবাহের বিষয়ে মাইকিং করায় তার নিকট বিবাহের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। পাতাড়ী ইউনিয়নের অধিকাংশ বিয়েই বাল্য বয়সে হয়ে থাকে এতে কোন মেয়ের পিতা-মাতা স্থানীয় কাজীকে না ডেকে স্থানীয় মৌলভী দিয়ে বিয়ে পড়িয়ে দিচ্ছে।

এব্যাপারে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোন ফল না হওয়ায় তিনি হাল ছেড়ে দিয়েছেন। নির্বাহী অফিসার কল্যান চৌধুরীর সাথে কথা হলে এ বিষয়ে তাকে কেউ কোন কথা জানায়নি বলে জানিয়েছেন।

স/নু

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর