রোববার   ৩১ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
২৩১

সাপাহারে জমির জবর দখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০১৯  

নওগাঁর সাপাহারে সন্ত্রাসী কায়দায় রাতের অন্ধকারে এক ব্যক্তির সম্পত্তি জবর দখল করে বসতবাড়ী নির্মান করেছে এক লাঠিয়াল বাহিনী।

জানা গেছে, উপজেলার কৈবর্ত গ্রামের আব্দুল ওহাব এর প্রায় অর্ধশত বছর ধরে ভোগদখলীয় সেনপুর মৌজায় ৯শতাংশ জমিতে সেনপুর গ্রামের লাঠিয়াল আফজাল হোসেন একদল লাঠিয়াল বাহিনী সঙ্গে নিয়ে গত রোববার গভীর রাতে জবর দখল করে টিনের বেড়া দিয়ে কয়েকটি ঘর নির্মান করে দখল নেয়। সম্পত্তির মালিক আব্দুল ওহাব বর্তমানে ওই সম্পত্তি পুন:রুদ্ধারে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে ঘটনা স্থলে গিয়ে বিস্তারিত জানা যায় যে, কৈবর্ত্য গ্রামের আব্দুল ওহাব এর উক্ত জমির সাথে বেশ কিছু সম্পত্তির মালিক হয়ে দির্ঘ দিন ধরে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে খেয়ে আসছে। জমির আর এস রেকর্ড বাদ দিয়ে পূর্ববর্তী সমস্ত রেকর্ড তাদের নামে রয়েছে। ঘটনা চক্রে ওই এলাকার ১৫শতাংশ সম্পত্তির আর এস রেকর্ড তাদের নামে হয়নি। ফলে জমির মালিক নওগাঁ আদালতে একটি রেকর্ড সংশোধনীর মামলা দায়ের করে পূর্বের ন্যায় ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে খায়।

এরই মধ্যে কয়েক বছর আগে সেনপুর গ্রামের আফজাল হোসেন নামের তার বাড়ীর এক কাজের লোকের বসত বাড়ী না থাকায় আব্দুল ওহাব তার বাড়ীতে কাজ করার সুবাদে উক্ত ১৫ শতাংশ জমির পূর্ব ধারে তাকে বসত বাড়ী নির্মানের জন্য ৬ শতাংশ জায়গা ছেড়ে দেয়। এর পর ওই ব্যক্তি সেখানে বসত বাড়ী নির্মাণ করে বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছেন।

আব্দুল ওহাবের বাড়ীর কাজের লোক আফজাল বর্তমানে গ্রামের কিছু স্বার্থন্বেশী ব্যাক্তির যোগ সাজসে সম্পত্তিটি তার বাড়ী সংলগ্ন হওয়ায় সন্ত্রাসী কায়দায় পুরো সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে তা রাতের অন্ধকারে দখল করে নেয়।

এবিষয়ে জবর দখলকারী আফজালের সাথে কথা হলে তিনি বাড়ীটি রবিবার রাতে নির্মান করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কেন তিনি জবর দখল করেছেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, সম্পত্তিটি সরকার বাহাদুরের ২নং খাস খতিয়ানের। আব্দুল ওহাব এর নিকট থেকে তিনি জমিটির দখল ক্রয় করেছেন কিন্তু ১৫শতাংশের মধ্যে ৬শতাংশের দখল দিয়ে বাকিটি সেতার দখলে রাখতে চায় এজন্য আমি দখল করেছি।

অপর দিকে জমির মালিক আব্দুল ওহাব জানিয়েছেন, আমাদের বাড়ীর কাজ করায় এবং তার নিজস্ব কোন জায়গা না থাকায় আমি তাকে উক্ত সম্পত্তির ১৫ শতাংশের মধ্য হতে পূর্বাংশে ৬ শতাংশ জমির উপর বসবাস করে থাকতে দিয়েছি মাত্র। বর্তমানে উক্ত সম্পত্তি নিয়ে আব্দুল ওহাব গ্রুপ ও আফজাল গ্রুপের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে যেকোন মহুর্তে সম্পত্তির দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধতে পারে বলে গ্রামবাসী মনে করছেন।

এবিষয়ে স্থানীয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই নিউটন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন যে, ইতিপূর্বে ওই সম্পত্তি নিয়ে আফজাল হোসেন গোলযোগের সৃষ্টি করলে সরেজমিনে গিয়ে সম্পত্তিটি যেহেতু আব্দুল ওহাবের দখলে রয়েছে এবং সে রেকর্ড সংশোধনী মামলা করেছে সেহেতু সম্পত্তি তার দখলেই থাকবে বলে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছিল।তবে বর্তমানে আবারো জবর দখলের বিষয়টি তিনি জানেন না। অভিযোগ পেলে আনইগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর