সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
ঠাকুরগাঁওয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৮ জনের রাণীনগরে গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে কৃষকের ৫টি গরু চুরি পোরশায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু রাণীনগরে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় তরুন তরুনীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত গনসচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশের র‌্যালী সাপাহারে জনসচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা রাণীনগরে গাঁজাসহ আটক ২ নওগাঁ ১১ জনের ডেঙ্গু সনাক্ত, ৮ জন চিকিৎসাধীন আত্রাই থানা পুলিশের সচেতনতা মূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে গনসচেতনতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালী অনুষ্ঠিত সাপাহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মশক নিধন লিফলেট বিতরণ ৬ দফা দাবিতে নওগাঁ প্রেসক্লাবে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন মান্দায় ‘মাদক ও ইভটিজিং সচেতনতা কার্যক্রম’র আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
৩২

শুরু হচ্ছে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০১৯  

প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ইংল্যান্ড। এবার টেস্ট বিশ্বকাপও শুরু হচ্ছে ক্রিকেটের জনকদের দেশ থেকেই। ইংল্যান্ডে আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হতে চলেছে টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্বকাপ। চলবে ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ২১ মাস!

অবাক হওয়ার কিছু নেই। মূলত এ দীর্ঘ সময়ের মাঝে আইসিসি স্বীকৃত নির্ধারিত টেস্ট ম্যাচের সিরিজ খেলবে ৯টি দেশ। এই সিরিজগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে সেরা দুই দল খেলবে ফাইনাল ম্যাচ।

এক সময় ক্রিকেট বলতে শুধু ছিল টেস্ট ম্যাচ। কিন্তু সময়ের দাবিতে ছোট হয়েছে ক্রিকেটের পরিসর, এসেছে নতুন ফরম্যাট। উদ্ভাবন হয় ওয়ানডে ক্রিকেটের। শুরুর দিকে ৬০ ওভার করে খেলা হলেও শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারের সীমায় বাঁধা পড়ে ওয়ানডে ক্রিকেট। দর্শকদের কথা মাথায় রেখে চালু হয় ওয়ানডে বিশ্বকাপও। তখন থেকেই টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে থাকে। সময়ের আবর্তে এরপর আসে টি-টোয়েন্টি। চার ছক্কার মার দেখতে দেখতে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরো কমে যায়। তবুও লাভজনক হওয়ায় আইসিসি এগোলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকে। ক্রিকেটের রাজকীয় ফরম্যাট তথা টেস্ট ক্রিকেট যেনো দিন দিন আরও আগ্রহ হারাতে শুরু করে।

দেরিতে হলেও আইসিসির নজর পড়ে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি। আবার মানুষকে টেস্টের প্রতি আকৃষ্ট করতে নতুন চিন্তা শুরু করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০০৯ সালে প্রথম বারের মতো আইসিসির মাথায় আসে টেস্ট বিশ্বকাপের ভাবনা। সমস্ত টেস্ট খেলুড়ে দেশকে নিয়ে এক অভিনব বিশ্বকাপের পরিকল্পনা পেশ করা হয় বার্ষিক মিটিংয়ে। নাম ঠিক করা হয় ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। একেই এখন টেস্ট বিশ্বকাপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

২০১০ সালে পরিকল্পনাটি পাশ হয় আইসিসিতে। পরিকল্পনা অনুসারে ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরিবর্তে টেস্ট বিশ্বকাপ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু আর্থিক কারণে পিছিয়ে আসে আইসিসি। টেস্ট বিশ্বকাপের পরিবর্তে পুনরায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন করা হয়। এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ দেখা দেয় ক্রিকেট মহলে। সেসময় ঠিক করা হয় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ হবে ২০১৭ সালে। কিন্তু এবারেও ব্যর্থতার মুখ দেখে পরিকল্পনাটি।

সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বার বার পরিবর্তিত হতে থাকে এই চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম। অপেক্ষার প্রহর শেষে এ বছর শুরু হতে চলেছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। শুরুটা হচ্ছে সেই ইংল্যান্ডেই। অ্যাশেজ টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু হবে এ বিশ্বকাপ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজের মাধ্যমে চলবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, থাকবে পয়েন্ট সিস্টেমও। মূলত দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজগুলো আরো বেশি আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামুলক করে তোলার জন্যই শুরু হচ্ছে এই টেস্ট বিশ্বকাপ।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ তথা টেস্ট বিশ্বকাপের রূপরেখা আগেই চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। নিয়মানুসারে, ২০১৯ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল অবধি হওয়া আইসিসি নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো এ বিশ্বকাপের ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হবে। টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের প্রথম ৯টি দেশকে নিয়ে চলবে এই বিশ্বকাপ। ২১ মাসের দীর্ঘ এ টুর্নামেন্টে প্রতিটা দেশের জন্য ৬টি করে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নির্ধারণ করে দিয়েছে আইসিসি। প্রতিটি সিরিজে থাকবে ১২০ পয়েন্ট। সে হিসেবে একেকটি দল সবমিলিয়ে ৭২০ পয়েন্টের এ টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আইসিসির নির্ধারিত সিরিজের বাইরের কোন সিরিজ অবশ্য এই পয়েন্ট সিস্টেমের বা টেস্ট বিশ্বকাপের অন্তর্ভূক্ত থাকবে না।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বিজয়ী নির্ধারণ হবে ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে। ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত সিরিজ শেষে পয়েন্ট তালিকার সেরা দুই দলকে নিয়ে হবে ফাইনাল ম্যাচ। ফাইনালের আয়োজক হিসেবে রাখা হয়েছে ইংল্যান্ডকে। সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সে বছরের জুন মাস। ভেন্যু হবে ক্রিকেটের মক্কা খ্যাত লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড।

যে দলগুলো খেলবে টেস্ট বিশ্বকাপ:

অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা এবং উইন্ডিজ।

পয়েন্ট সিস্টেম:

২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রতি ম্যাচের জয়ী দল পাবে ৬০ পয়েন্ট। ৩, ৪ ও ৫ ম্যাচের সিরিজে যথাক্রমে ৪০, ৩০ ও ২৪ পয়েন্ট করে পাবে জয়ী দল।

ম্যাচ টাই হলে ২,৩, ৪ ও ৫ ম্যাচের সিরিজে প্রতি দলের জন্য যথাক্রমে ৩০, ২০, ১৫ ও ১২ পয়েন্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ড্র হলেও পয়েন্ট ভাগাভাগি হবে দুই দলের মাঝে। সিরিজে  ম্যাচ সংখ্যার হিসেবে এখানেও থাকবে পরিবর্তন। ২, ৩, ৪ ও ৫ ম্যাচের সিরিজে প্রতি ম্যাচ ড্র করায় যথাক্রমে ২০, ১৩.৩, ১০ ও ৮ পয়েন্ট করে প্রতি দলের মাঝে ভাগ হবে।

বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৬ সিরিজের মাঝে  ৪টি সিরিজ হবে ২ ম্যাচের, ৩ ম্যাচের সিরিজ খেলবে ২টি। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ এবং নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে টাইগাররা।

২০১৯ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ দিয়ে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজের পর ফেব্রুয়ারিতেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। একই বছর জুলাইয়ে অ্যাওয়ে সিরিজ শেষে আগস্টে নিউজিল্যান্ডকে আতিথ্য দেবে টাইগাররা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে উইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে শেষ হবে বাংলাদেশের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপপর্ব।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্ত করা হয়েছে গোলাপী বল টেস্ট ও ডে-নাইট টেস্ট ম্যাচ। এছাড়া টেস্ট জার্সিতে নম্বর যোগ করে খেলা হবে এ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকেই।

নতুন এ টেস্ট বিশ্বকাপ টেস্ট ক্রিকেটকে কতটা আবেদনময় করে তুলতে পারে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর