মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ১ ১৪২৬   ১৭ মুহররম ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
পত্নীতলায় আদিবাসী প্রেমিক যুগলের লাশ উদ্ধার চাকুরির প্রলোভনে মান্দার মেয়েকে ঢাকায় ধর্ষণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়া বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার গাঙচিল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধামইরহাটে মাদক সেবনের দায়ে ৬ জনের জেল ও জরিমানা আত্রাইয়ে ডেঙ্গু সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপাহারে পরিস্কার অভিযান সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত আত্রাই থানা পুলিশের অভিযানে ৯জন আটক গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে নিয়ামতপুরে আলোচনা সভা সাপাহারের করল্যা চাষে বিপ্লব
৯৫

শুভ জন্মদিন রানা

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ মে ২০১৯  

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

‘সুমন (হাবিবুল বাশার সুমন) ভাই, একটা হলেও ম্যাচ জেতা চাই’ - ২০০৭ সালে বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনকে এই কথাটা বলেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জেতানো ক্রিকেটার। যিনি ভাগ্যের পরিহাসে জায়গা পাননি বিশ্বকাপগামী স্কোয়াডে।

তার বলা কথা রাখতেই হয়তো সেবার একটি নয় তিন-তিনটি জয় পেয়েছিলো বাংলাদেশ দল। হারিয়েছিল ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তিদের। সেই ক্রিকেটারের জন্ম হয়েছিলো আজ থেকে ঠিক ৩৫ বছর আগে ১৯৮৪ সালের ৪ঠা মে’তে।

ক্লাব ক্রিকেটে খেলাঘর থেকে কলাবাগান, আবাহনী, ভিক্টোরিয়া পেরিয়ে অল্প দিনের মাঝেই পেয়েছিলেন লাল-সবুজের জার্সিখানা। ১৯ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচের দিন তেমন কিছু করতে না পারলেও বাঁহাতি স্পিনে সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন জাতীয় দলকে লম্বা সময়ের জন্য সার্ভিস দেয়ার।

সাল ২০০৫, দেশের মাটিতে খেলতে এসেছে তখনকার দিনে বাংলাদেশের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জিম্বাবুয়ে। এর আগে কখনো ওয়ানডে সিরিজ না জেতা বাংলাদেশের জন্য এটি ছিলো নিজেদের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুযোগ।

কিন্তু কিসের কি! সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে জিতে উল্টো সিরিজ জেতার পথে সফরকারী জিম্বাবুয়েই। ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভাব সেই ক্রিকেটারের যিনি কিনা পরবর্তীতে অধিনায়কের কাছে আবদার করেছিলেন একটিমাত্র জয়ের।

পরপর দুই ম্যাচে বাঁহাতি স্পিনের জাদুতে কুপোকাত করলেন জিম্বাবুইয়ানদের। দুই ম্যাচে সমান চারটি করে নিলেন ৮টি উইকেট। জিতলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। দুই ম্যাচেই জেতালেন সিরিজ হারতে বসা বাংলাদেশ দলকে।

সিরিজ নির্ধারণী পঞ্চম ম্যাচেও হাড়কিপটে বোলিংয়ে দশ ওভারে দিলেন মাত্র ২১ রান, নিলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজার উইকেট। সেই ম্যাচের সকল আলো মোহাম্মদ রফিকের দিকে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিলো এই ক্রিকেটারেরও।

পরবর্তীতে মোহাম্মদ রফিকের সঙ্গেই বেঁধেছিলেন বাংলাদেশ দলের সেরা বাঁহাতি স্পিন জুটি। কিন্তু ফর্মের পরতিতে ২০০৭ বিশ্বকাপের আগে দিয়েই বাদ পরে যান দল থেকে। সময়মতো কামব্যাক করতে না পারায় জায়গাও পাননি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে।

দল যখন দেশ ছাড়ে তখন প্রিয় বড় ভাইয়ের কাছে আবদার করেছিলেন একটি জয়ের। সেই বড় ভাই তিন-তিনটি জয় এনে দিলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একটি জয়ও এপারে থেকে দেখা হয়নি দেশের ইতিহাসের অন্যতম প্রতিভাধর এই ক্রিকেটারের।

ব্যাট-বল উভয় হাতেই সমান পারদর্শী এই ক্রিকেটারের মাঝেই খোঁজা হতো ভবিষ্যতের সেরা অলরাউন্ডারকে। কিন্তু সেই তিনিই যে সবাইকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান মাত্র ২২ বছর বয়সে।

বাংলাদেশ দলকে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জেতানো ক্রিকেটার বাংলাদেশকে করে গিয়েছেন আরো একটি রেকর্ডের ভাগীদার। যে রেকর্ড না হলেই খুশি হবে বিশ্বের যেকোনো দেশ। মাত্র ২২ বছর ৩১৬ দিন বয়সে মৃত্যুবরণ করে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সময় বেঁচে থাকা ক্রিকেটারের নামটিও যে তার।

আজ থেকে ঠিক ৩৫ বছর আগে পৃথিবীর আসা সেই ক্রিকেটার পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন আজ থেকে ১২ বছর আগে এক মার্চ মাসে। বাংলাদেশ হারিয়েছে সম্ভাবনাময় এক অলরাউন্ডার মানজারুল ইসলাম রানাকে।

পরপারে পাড়ি জমানোর আগে নিজের নামের পাশে ৬ টেস্টে ২৫৭ রান ও ৫ উইকেট এবং ২৫ ওয়ানডেতে ৩৩১ রান ও ২৩ উইকেট লিখিয়েছেন রানা। 

তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও তাঁর দেয়া শক্তি কখনো ভোলেন না মাশরাফি-মুশফিকরা। তাই তো তার জন্ম কিংবা মৃত্যু দিনের আশেপাশে কোনো ম্যাচ থাকলে সেই ম্যাচে জয়ব্যতীত কিছু ভাবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

বেঁচে থাকলে আজ হয়তো জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে বসে মাশরাফি-তামিম-মুশফিকদের সাথে হৈ-হুল্লোড় করে কাটতেন ৩৫টি মোমবাতি লাগানো কেকটা। সেই কেক নিয়ে মাততেন অভিনব সব দুষ্টুমিতে। কিন্তু নিয়তি কেড়ে নিয়েছে তাকে, যিনি ওপর থেকে হয়ত দেখতে পান সবই, কিন্তু অংশ নিতে পারেন না কোনো কিছুতেই!

 

স/নু/১১

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর