রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৬ ১৪২৬   ২২ মুহররম ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
পত্নীতলায় আদিবাসী প্রেমিক যুগলের লাশ উদ্ধার চাকুরির প্রলোভনে মান্দার মেয়েকে ঢাকায় ধর্ষণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়া বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার গাঙচিল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধামইরহাটে মাদক সেবনের দায়ে ৬ জনের জেল ও জরিমানা আত্রাইয়ে ডেঙ্গু সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপাহারে পরিস্কার অভিযান সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত আত্রাই থানা পুলিশের অভিযানে ৯জন আটক গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে নিয়ামতপুরে আলোচনা সভা সাপাহারের করল্যা চাষে বিপ্লব
১৩৩

রাণীনগরে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মালটা চাষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

মাল্টা বিদেশী ফল হলেও বর্তমানে চাষ হচ্ছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায়। দেশের উত্তরাঞ্চলের খাদ্য ভান্ডার নামে পরিচিত নওগাঁ জেলা। ধান উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ জেলার রাণীনগর উপজেলা। বর্তমানে এই উপজেলায় ধানের পাশাপাশি অধিক লাভজনক মাল্টা চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই উপজেলা এখন মাল্টা চাষের উপজেলা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। আর আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে ধান চাষে ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকরা।

ধানের দাম না থাকায় উপজেলার কৃষকরা ধানে লাগাতার লোকসান দিয়ে আসছেন। যার কারণে এই অঞ্চলের মানুষ ধানের পাশাপাশি অধিক লাভজনক মাল্টা চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই মাল্টা চাষ। আবার মাল্টা বাগান দেখে উপজেলার অনেক মানুষই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন নতুন মাল্টার বাগান তৈরি করার জন্য। বর্তমানে ৬হেক্টর জমিতে উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ভার্মিক পদ্ধতিতে বারি-১ জাতের মাল্টার বাগান তৈরি করা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই এই সব বাগানে মাল্টার গাছে থোকায় থোকায় মাল্টা এসেছে। এই বাগানগুলো দেখার জন্য প্রতিদিনই অন্যান্য এলাকার মানুষরা আসছেন। তবে দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভালো জাতের মাল্টা গাছের চারা রোপণ করতে পারলে এবং নিবিড় পরিচর্যায় মাল্টার ফলন ভালো হয়। এই অঞ্চলে উৎপাদিত মাল্টার স্বাদ ও গুনগত মানও খুবই ভালো।

উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের মাল্টা চাষী সরফরাজ খাঁন বলেন, তিনি ১৫শতাংশ পতিত জমিতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দু’বছর আগে তাদের সরবরাহকৃত মাল্টা চারা নিয়ে তৈরি করেন মাল্টা বাগান। বর্তমানে তার বাগানের প্রতিটি মাল্টা গাছে থোকায় থোকায় সবুজ মাল্টা ঝুলছে। গাছ লাগানোর ১৮মাস পরই গাছে মাল্টা ধরতে শুরু করেছে। স্বাদে ও গুনে বিদেশী মাল্টার মতই।

বর্তমানে তিনি প্রতি কেজি মাল্টা ৭০-৮০টাকা দরে কেজিতে বিক্রি করছেন। চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছে প্রায় ১০কেজি করে মাল্টা ফল এসেছে। আগামী বছরে প্রতিটি গাছে ৪০-৫০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

প্রতিদিনই তার মাল্টার বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে। তারাও এই রকম বাগান তৈরি করার আশা প্রকাশ করছে। আমিও দর্শনার্থীদের বাগান তৈরি করার সকল পরামর্শ দিয়ে আসছি।প্রথম বছরেই তিনি মাল্টা চাষে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন। তিনি আগামীতে এই বাগানের পরিসর আরো বৃদ্ধি করবেন বলে জানান।

সরফরাজ খাঁনের মাল্টা বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম, সান্ত সহ অনেকেই বলেন মাল্টা চাষে সরফরাজ খাঁন একজন মডেল। তার বাগানে গাছে মাল্টা ফল দেখে মন ভরে গেছে। তিনি দেখে দিলেন বিদেশী ফলও আমাদের এলাকায় চাষ করা সম্ভব। এটি নাকি অনেক লাভজনক একটি ফসল। তাই আমরাও আগামীতে মাল্টার বাগান তৈরি করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, মাল্টা পুষ্টিকর ও রসালো একটি ফল। এই উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য খুবই পজেটিভ। বাজারে মাল্টার চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভাল রয়েছে। তাই মাল্টা চাষীরা দাম ভালো পেয়ে অনেক খুশি। তাই এই এলাকার মানুষরা দিন দিন অধিক লাভজনক ফসল মাল্টা চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

এছাড়াও যারা এই ধরনের বাগান তৈরি করবেন তাদের জন্য আমাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য সব সময় আমার অফিসের দুয়ার খোলা আছে।

স/শাহা
 

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর