ব্রেকিং:
নওগাঁর মহাদেবপুরে বিএনপির সম্মেলনে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০, আটক ৫

মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৬   ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েটের ২৬ জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার ও ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বুয়েটে প্রশাসন
২০৯

রাণীনগরে দা, ছুরি ও বঁটি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০১৯  

আসন্ন ঈদুল আযহাকে ঘিরে কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। একদিকে হাপরে আগুনের শিখা অন্যদিকে হাতুড় পেটানোর টুংটাং শব্দে তৈরি হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি।

শহর থেকে শুরু করে গ্রামসহ সবখানেই কামাররা ব্যস্ত পুরোনো দা, ছুরি এবং বঁটিতে শাণ দিতে। আবার মোটর চালিত মেশিনে শাণদেয়ার কাজ চলছে পুরানো গুলোর। কেউবা ব্যস্ত নতুন নতুন দা-ছুরি তৈরিতে। তাই দম ফেলার যেন সময় নেই তাদের। সারা বছর অনেকটা অলস সময় পার করলেও এখন কামাররা ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।

রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন কামারদের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি দাতারা কোরবানির পশু কাঁটাছেড়া করার জন্যে পরিবারের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত সবকটি দা ছুরি, ধামা আর বটি শাণ দেয়ার জন্যে নিয়ে আসছে কামারদের কাছে। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কামারদের বিরামহীন ব্যস্ততা।

কামারের দোকানে অনেকেই বসে আছেন। একজন ক্রেতা ছমির উদ্দিন বলেন, কয়েক দিন আগে একটা চাপাতি এবং বড় চাকু দিয়েছি। তা তৈরি না হওয়ায় আধা ঘন্টা বসে থেকে তা তৈরী করে নিলাম।

কামার দোকান গুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। অন্য সময়ের চেয়ে দোকানে কর্মচারীর সংখ্যাও বেড়েছে। পোড়া কয়লার গন্ধ, হাপরের হাঁসফাঁস আর হাতুড়ি পেটানোর টুংটাং শব্দে তৈরি হচ্ছে চকচকে ধারালো দা, চাপাতি, ছুরি, বঁটিসহ নিমিষে মাংস কাটা-কুটার উপকরণ।

কয়েকজন কামারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্প্রিং লোহা ও কাঁচালোহা সাধারণত এ দুই ধরনের লোহা ব্যবহার করে এসব উপকরণ তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণ গুলোর দাম তুলনামূলক ভাবে কম। লোহার মানভেদে স্প্রিং লোহা ৪০০ টাকা, নরমাল ২৫০ টাকা, পশুরচামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০, দা ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পশুজবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে শুরু, বঁটি ২০০ থেকে ৪০০, চাপাতি ৫০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়।

বিক্রেতারা আরও জানান, বছরের ১১ মাসে তাঁদের ব্যবসা হয় এক রকম আর কোরবানির ঈদের আগের এক মাসে ব্যবসা হয় আরেক রকম। ঈদুল আযহা এলেই উপজেলার কামারের দোকানিদের বেচা বিক্রি ও ব্যস্ততা বেড়ে যায়।

রাণীনগর সদরের বটতলীর কামার ভবান চন্দ্র মহন্ত জানান, বছরের বাঁকি সময়টার বেশির ভাগই হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। কোরবানি এলেই বেচাবিক্রি ও লোকজনের মরিচা পড়া দা, বঁটি, ছুরি ইত্যাদি সরঞ্জাম ধারালো করার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তবে পর্যাপ্ত পরিমান কয়লা না পাওয়ায় একটু দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কামাররাও একই কথা জানান।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর