সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
ঠাকুরগাঁওয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৮ জনের রাণীনগরে গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে কৃষকের ৫টি গরু চুরি পোরশায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু রাণীনগরে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় তরুন তরুনীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত গনসচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশের র‌্যালী সাপাহারে জনসচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা রাণীনগরে গাঁজাসহ আটক ২ নওগাঁ ১১ জনের ডেঙ্গু সনাক্ত, ৮ জন চিকিৎসাধীন আত্রাই থানা পুলিশের সচেতনতা মূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে গনসচেতনতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালী অনুষ্ঠিত সাপাহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মশক নিধন লিফলেট বিতরণ ৬ দফা দাবিতে নওগাঁ প্রেসক্লাবে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন মান্দায় ‘মাদক ও ইভটিজিং সচেতনতা কার্যক্রম’র আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
৭৯

যেভাবে পোঁছবেন সন্তানের মনের মণিকোঠায়

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০১৯  

ভাল বাবা মায়ের কোনো সংজ্ঞা হয় না। কোনো তুলনা হয় না। এটা একটা ‘জার্নি’। কয়েকটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেই আপনার সন্তানের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেন আপনি। 

বয়ঃসন্ধিতে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে শিশুসুলভ আচরণ বিরাজ করে, অন্যদিকে তারুণ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো বিকশিত হতে শুরু করে। এ সময় দৈহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে শিশুরা পরিপক্কতা অর্জন করে।

এ বয়সে ছেলে-মেয়েদের চিন্তাভাবনা ও মেজাজের স্কেল সবসময় এক থাকে না। কখনো তারা আলোকিত, কখনো বিমর্ষ, কখনো বা পরিব্যপ্ত হয় এক ধরনের অস্থিরতায়। এই অস্থিরতা তাকে বিভিন্নভাবে আলোড়িত করে তোলে। পরিবারের সদস্যদের কথা শোনা, তাদের মান্য করার ইচ্ছাও প্রচ্ছন্ন থাকে।

এ বয়সে সমবয়সীদের প্রতি আকর্ষণ থাকে। প্রত্যেকে চায় নিজস্ব কিছু চেতনার আলোকে জগত ও জীবনকে উপলব্ধি করতে। এই বয়সে তারা স্বাধীনভাবে চলতে চায়। এই স্বাধীন ভাবে চলা ফেরার পথে যদি বাবা-মা বাঁধা দেয় তাহলে ছেলেমেয়েরা বিপথে যায়, এমনকি অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। আবার পরিবারে বাবা-মায়ের মধ্যে অশান্তি থাকলে ছেলে-মেয়েরা বাইরে গিয়ে শান্তি খুঁজতে চেষ্টা করে।

এক্ষেত্রে বাবা-মাকে পালন করতে হয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সন্তানের ১২-১৭ বছর বয়সে অভিভাবকরা খানিকটা সচেতন হলেই সুন্দর ভবিষ্যত পাবে শিশুরা। বয়সসন্ধির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনার সন্তানের হাতটা ধরুন শক্ত করে। 

মন দিয়ে কথা শুনুন: আপনার সন্তানের সব কথা খুব মন দিয়ে শুনুন। আপাত ভাবে সেগুলো যতই অযৌক্তিক মনে হোক না কেন। তবু ও কী বলছে বা কী বলতে চাইছে সেটা আগে শুনুন, বিচার করুন। তারপরই আপনার বক্তব্য তুলে ধরুন ওর সামনে। তবে আপনার মতামত ওর ওপর চাপিয়ে দেবেন না। 

ঘ্যানঘ্যান করবেন না: কোনো কাজ করা নিয়ে আপনার সন্তানের সামনে এক কথা বারবার বলবেন না। এই সময়টায় আপনার কথায় বৈচিত্র খুঁজতে থাকে অপরিনত মন। অন্যথায় বেঁকে বসতে পারে আপনার সন্তান।

বন্ধুত্ব: বাবা-মা কখনও বন্ধু হতে পারে না। আপনি ওর ‘বন্ধু স্থানীয়’ বা ‘বন্ধুর মতো’ হতে পারেন। তবে বন্ধু কখনই নয়। ও হয়ত আপনাকে সমস্ত কথা বলবে না। তবে এমন একটা বাতাবরণ তৈরি করুন যাতে ওর যেকোনো সমস্যার বেশিরভাগটাই আপনাকে এসে নির্দ্বিধায় বলতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনার প্রতিক্রিয়াও মার্জিত হওয়া প্রয়োজন।  

মানসিক পরিবর্তন: সময় বদলেছে, প্রত্যক বাবা-মাকে মনে রাখতে হবে আপনার সন্তানের শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিক পরিবর্তন হয়েছে। কাজেই আপনার পেরিন্টিং স্টাইলেও এ বার পরিবর্তন আনা দরকার। ছোটবেলায় যে ভাবে ওকে শাসন করতেন, তার ধরন বদলে ফেলুন আজই।  

‘হিট ব্যাক’ আসতে পারে: অতিরিক্ত মারধর করবেন না। এতে পাল্টা আক্রমণ করতে পারে আপনার সন্তানও। তার চেয়েও বড় কথা হলো, আলোচনার মাধ্যমে আপনার কথাগুলো ওকে বোঝান। 

পারস্পরিক আলোচনা দরকার: সপ্তাহে অন্তত একটা দিন সময় বাঁচিয়ে রাখুন ফ্যামিলি মিটিং-এর জন্য। এই দিনটায় ওর মুখোমুখি বসে ওর অভাব-অভিযোগগুলো নিয়ে পারস্পরিক আলোচনা করুন বাড়ির সকলে। এ ক্ষেত্রে ওর মন বুঝতে সুবিধে হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ওর থেকে আড়াল করার প্রয়োজন নেই। বরং আলোচনা করুন। রাজনীতি ইত্যাদি বিষয় ওর মতামত জানতে চান। এতে ওর মানসিক বিকাশ হবে। 

সেক্স এডুকেশন প্রয়োজন: যৌনতা নিয়ে বিভিন্ন ট্যাবু ভেঙে বেরিয়ে আসুন। কোনো ব্যাপারেই হঠাৎ করে সীমারেখা টানতে যাবেন না। তার চেয়ে বরং বিশ্লেষণের মাধ্যেমে ওর সামনে এ বিষয়ে একটা চিত্র তুলে ধরুন। মনে রাখবেন, কোনো বিষয় থেকে ওকে আটকানোর চেষ্টা করলেই সেই বিষয়ের প্রতি ওর ঝোঁক বেড়ে যাবে।

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলাও: ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা না করিয়ে বিভিন্নরকম শারীরিক খেলাধূলায় ওকে উৎসাহ দিন। এতে ওর মন হালকা হবে। অনুভূতিগুলো প্রকাশ পাবে। বাইরের জগতে মিশতে ওকে উৎসাহ দিন।

সম্মান দু-তরফেই: আপনি আপনার খুদের থেকে সম্মান আশা করবেন এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু আপনি কি খেয়াল করেছেন ওর সঙ্গে আপনি কেমন ব্যবহার করেন? খেয়াল রাখুন। ওকেও ওর প্রাপ্য সম্মান দিন। তাতেই যথার্থ সম্মান ফেরত পাবেন আপনিও। বয়সের ফারাকের কারণে দুজনের পছন্দ মিলবে না কখনও। তবু ওর পছন্দের প্রতি আগ্রহ দেখালেই বিপরীতে আপনিও গুরুত্ব পাবেন।

নির্দেশ নয়, অনুরোধ করুন: এই বয়সের বাচ্চারা একটু বেশিই অভিমানী হয়। কাজেই আপনার বাক্যচয়ন, শব্দ চয়নে গুরুত্ব দিন। নির্দেশ না দিয়ে অনুরোধ করুন। এতে ফল পাবেন। বাবা-মাও যে ওর ওপর নির্ভর করছেন সেটা ওকে বোঝান। 

গতিবিধিতে নজর: আপনার সন্তান কী ধরনের বই পড়ছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, কী ধরনের ওয়েবসিরিজে আশক্ত সে সবদিক খেয়াল রাখুন। ওর স্মার্টফোনেও নজর রাখুন। পাশাপাশি ওর কথাবার্তাও খেয়াল করুন। তবে কোনো বিষয়ে নির্দেশ চাপিয়ে দেবেন না।

কাউন্সিলিং প্রয়োজন: বয়সসন্ধি এমন একটা সময় যখন অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানের গতিবিধি বুঝতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। যদি মনে হয় আপনার সন্তান আপনার থেকে কোনো কথা লুকিয়ে রেখেছে, তখন তাকে এমন কারো কাছে নিয়ে যান যিনি ওর মানসিক পরিস্থিতি বুঝতে সক্ষম।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন