সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
ঠাকুরগাঁওয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৮ জনের রাণীনগরে গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে কৃষকের ৫টি গরু চুরি পোরশায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু রাণীনগরে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় তরুন তরুনীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত গনসচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশের র‌্যালী সাপাহারে জনসচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা রাণীনগরে গাঁজাসহ আটক ২ নওগাঁ ১১ জনের ডেঙ্গু সনাক্ত, ৮ জন চিকিৎসাধীন আত্রাই থানা পুলিশের সচেতনতা মূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে গনসচেতনতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালী অনুষ্ঠিত সাপাহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মশক নিধন লিফলেট বিতরণ ৬ দফা দাবিতে নওগাঁ প্রেসক্লাবে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন মান্দায় ‘মাদক ও ইভটিজিং সচেতনতা কার্যক্রম’র আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
২৮

মুশফিকের লড়াকু ইনিংসে বাংলাদেশের ২৩৮

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০১৯  

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম রোববার অনেকটাই ফাঁকা। মালিঙ্গার বিদায়ী ম্যাচে দর্শকদের উল্লাসে শ্রীলংকা মরণ কামড় দিতে মুখিয়ে ছিল। চাপে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিউয়ে যাওয়া প্রেমাদাসায় দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে নিজেদের ভুলে রুখে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। শুরুতে তামিম-সৌম্যরা আউট হয়ে দলের চাপ বাড়িয়ে ফেরেন। মিঠুন-মাহমুদুল্লাহ দলকে আরও বিপর্যয়ে ঠেলে দেন মুশফিক-মিরাজের দৃড়তায় অপেক্ষা করা লজ্জা সামল দেয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ২৩৮ রান।

ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শুরুর ৬৮ রানে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার ১১, তামিম ইকবাল ১৯ রান করে ফেরেন। সাকিবের অভাব পূরণের দায়িত্ব পাওয়া মোহাম্মদ মিঠুন এ ম্যাচেও ব্যর্থ হন। তিনি করেন ১২ রান। এরপর মাহমুদুল্লাহ ৬ করে ফিরলে ব্যাটিং বিপর্যয় প্রকট হয়ে ওঠে বাংলাদেশের।

সাব্বির রহমান এবং মোসাদ্দেক হোসেনকে সেই চাপ সামাল দিতে হতো। সঙ্গ দিতে হতো দারুণ ছন্দে থাকা মুশফিককে। কিন্তু তারাও পর পর ব্যর্থ হয়ে ফেরেন। বাংলাদেশ দল ১১৭ রানে হারায় ৬ উইকেট। সেখান থেকে মুশফিকুর রহিম এবং মেহেদি মিরাজ গড়েন ৮৪ রানের জুটি। মিরাজ ৪৩ রান করে আউট হন। সেঞ্চুরির পথে থাকা মুশফিক ৯৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ইনিংসের শেষ ওভারের পঞ্চম বলে সিঙ্গেল না নিয়ে বাউন্ডারির ঝুকি নিলে হয়তো তিনি সেঞ্চুরি পেয়ে যেতেন। 

হাফসেঞ্চুরি হলো না মিরাজের

বিপদের সময় দারুণ এক ইনিংস খেলে গেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু হাফসেঞ্চুরি না হওয়ার আক্ষেপ থেকেই গেল! ৪৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছে এই ব্যাটসম্যানকে। আউট হওয়ার আগে অবশ্য সপ্তম উইকেট জুটিতে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে যোগ করে যান গুরুত্বপূর্ণ ৮৪ রান।

বাংলাদেশের রান ২০০ হবে কিনা, তা নিয়েই ছিল ঘোর সংশয়। মুশফিক ও মিরাজের সৌজন্যে সেটা পেয়েছে বাংলাদেশ। দলীয় রানের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংগ্রহেও মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ ছিল মিরাজের, কিন্তু নুয়ান প্রদীপের বলে ৪৩ রান করে তিনি ধরা পড়েন দিমুথ করুণারত্নের হাতে। ৪৯ বলের ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন তিনি ৬ বাউন্ডারিতে।

মুশফিক-মিরাজের প্রতিরোধ

মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাদের প্রতিরোধে চাপ কাটিয়ে পথে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

মুশফিক পূরণ করেছেন হাফসেঞ্চুরি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে অন্যপ্রান্ত ‍আগলে রেখেছেন মিরাজ। মোসাদ্দেক হোসেনের বিদায়ের পর সময় উপযোগী ব্যাটিং করে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে মুশফিকের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে মিরাজ গড়েছেন ৫০ ছাড়ানো জুটি।

মুশফিকের টানা দ্বিতীয় ফিফটি

সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝে আবারও জ্বলে উঠেছেন মুশফিকুর রহিম। চাপের মধ্যে পূরণ করলেন টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি। প্রথম ওয়ানডেতেও ফিফটি পেয়েছিলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৭তম হাফসসেঞ্চুরি পূরণের পথে মুশফিক ৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। আজ ৫ হাজার ৯৯২ রান নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। মাইলফলকটি স্পর্শ করে দারুণ ব্যাটিংয়ে পূরণ করেছেন আরেকটি হাফসেঞ্চুরিও। ৭১ বলে ফিফটি পূরণ করেন তিনি।

শর্ট বলের শিকার মোসাদ্দেক

দলের বেশ কয়েকজন সেরা খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে তরুণদের সুযোগ ছিল নিজেদের মেলে ধরার। যার মধ্যে অন্যতম মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও হতাশ করলেন তিনি।

কলম্বোর প্রথম ওয়ানডেতে করেছিলেন তিনি ১২ রান। এবার ১ বেশি করে ১৩ রান করে আউট হয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। শর্ট বলের শিকার তিনি। ইসুরু উদানার শর্ট ডেলিভারি লেগ সাইড দিয়ে তার কাঁধের অনেকটা ওপর দিয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু বলটি খেলতে গিয়ে করলেন ভুল। বল তার ব্যাটে হালকা ছোঁয়া দিয়ে আশ্রয় নেয় উইকেটরক্ষক কুশল পেরেরার গ্লাভসে। যাতে বাংলাদেশ হারালো ষষ্ঠ উইকেট।

সাব্বির রান আউট

বিপদ আরও বাড়লো বাংলাদেশের। এবার সাব্বির রহমান ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে। যাতে ৮৮ রান তুলতে বাংলাদেশের নেই ৫ উইকেট!

এমনিতেই বাজে পরিস্থিতির মধ্যে সফরকারীরা, ‍এর মধ্যে রান আউট হওয়ার যন্ত্রণা হলো সঙ্গী। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে ১১ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছে সাব্বিরকে।

আকিলার ঘূর্ণিতে কুপোকাত মাহমুদউল্লাহ

আবারও ব্যর্থ মাহমুদউল্লাহ। দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে বিপদ বাড়িয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

আকিলা ধনাঞ্জয়ার শিকার মাহমুদউল্লাহ। শ্রীলঙ্কান স্পিনারের ডেলিভারি ব্যাকফুটে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অনেকটা বাঁক নেওয়া বল সরাসরি আঘাত করে স্টাম্পে। তাতে দলের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৮ বলে মাত্র ৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ‍ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ।

ফিরে গেলেন মিঠুন

শুরুটা মন্দ ছিল না মোহাম্মদ মিঠুনের। যদিও বেশিদূর যেতে পারলেন না, ১২ রানে আউট হয়েছেন তিনি।

আকিলা ধনাঞ্জয়ার শিকার এই ব্যাটসম্যান। এই স্পিনারের বল মিড উইকেটে খেলতে গিয়ে সরাসরি ধরা পড়েন তিনি কুশল মেন্ডিসের হাতে। তার ২৩ বলের ইনিংসে ছিল একটি চারের মার।

আবারও ব্যর্থ তামিম

অধিনায়ক হিসেবে প্রথম কোনও সিরিজে এসেছেন তামিম ইকবাল। দলকে নেতৃত্বে দেওয়ার তার কাঁধে দায়িত্বটা সবচেয়ে বেশি। যদিও ব্যাট হাতে সেই প্রত্যাশার সামান্যও পূরণ ‍করতে পারছেন না তিনি। প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যর্থ এই ওপেনার।

আবারও বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়ানে ফিরেছেন তামিম। ইসুরু উদানার অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি খেলতে গিয়ে বল তার ব্যাটে লেগে আঘাত করে উইকেটে। আউট হওয়ার আগে ৩১ বলে ২ বাউন্ডারিতে করে যান ১৯ রান।

সৌম্য আউট

শুরুতেই ফিরে গেছেন সৌম্য সরকার। আগের ম্যাচের ‍মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও কিছুই করতে পারেননি, মাত্র ১১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন তিনি।

দলের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন সৌম্য। নুয়ান প্রদীপের বলে এলবিডাব্লিউয়ের শিকার হয়ে ১৩ বলে শেষ হয় তার ইনিংস। যাতে বাংলাদেশ ২৬ রানে হারায় প্রথম উইকেট।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

কলম্বোয় সিরিজ বাঁচানোর লক্ষ্যে নেমেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

সিরিজে টিকে থাকতে হলে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দলে একটি পরিবর্তন এনেছে টাইগাররা। পেসার রুবেল হোসেন বাদ পড়েছেন, তার জায়গায় ২০১৬ সালের পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা একাদশ: আভিষ্কা ফার্নান্ডো, দিমুথ করুণারত্নে (অধিনায়ক), কুশল পেরেরা, কুশল মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, লাহিরু থিরিমানে, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, আকিলা ধনাঞ্জয়া, ইসুরু উদানা, নুয়ান প্রদীপ, লাহিরু কুমারা।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর