মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৮ ১৪২৭   ১০ শাওয়াল ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
৩৫১

মান্দায় শিবনদী প্রভাবশালীদের দখলে: দেখার কেউ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ আগস্ট ২০১৯  

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউপির ঠাকুরমান্দা বিলের মধ্যে প্রবাহিত শিব নদী যেন প্রভাবশালীদের দখলে। দেখার কেউ নেই। দেউল দূর্গাপুর নামক স্থানে শিব নদীর উজানের ভাটি অংশে বাঁশ এবং বাঁশের তৈরি ১৩০টি বানা দিয়ে প্রায় ১ শত ৫৬ হাত এলাকাজুড়ে বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

এতে করে শিব নদীর ভাটি অংশের রাজেন্দ্রবাটি, শ্রীকলা, সুসন্ডাসহ প্রায় ১৫/১৬ গ্রামের মৎস্যজীবীদের মাছ আহরণ বিঘ্নিত হওয়ায় তাদের জীবন জীবিকা ও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাদের সংসারে এমন অসহায়ত্ব নেমে আসলে তারা নিরুপায় হয়ে মান্দা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানায় অভিযোগ করেও নদীর উজান অংশে নির্মিত বাঁশের তৈরি এ বৃহৎ প্রতিবন্ধকতা অপসারণ হয়নি। তারা বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিলেও এক প্রভাবশালীর ইন্ধনে কোন কাজ হচ্ছে না।

সরজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ভারশোঁ ইউপির দেউল দূর্গাপুর শিব নদী এবং ঠাকুরমান্দা বিলের পানিতে বাঁশের তৈরি বানা দিয়ে মাছ ধরার জন্য বাঁধ নির্মাণ করেন আত্রাই উপজেলার হাট কালুপাড়া ইউপির বড় শিমলা গ্রামের আহাদ আলীর পুত্র সাহার আলী (৬৭)। যিনি বর্তমানে মান্দার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে শশুর বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থেকে ওই নদীতে বিলের মধ্যে প্রায় ৩/৪ মাস পূর্ব থেকে প্রায় ৭শত টি বাঁশ এবং বাঁশের তৈরি ১৩০টি বানা দিয়ে প্রায় ১ শত ৫৬ হাত এলাকাজুড়ে বাঁধ নির্মাণ করে পানিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। যাতে প্রায় ৭০ টি বাঁশের তৈরি ভাড় স্থাপন করা হয়েছিল। যা ভারশোঁ ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় লোকদের নিয়ে গিয়ে সেগুলো ভেঙ্গে ফেলেন।

এ ঘটনায় সাহার আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি গরিব মানুষ। মাছ আহরণ-ই আমার পেশা। আমি মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানায় কিছু পরিমান খাবার মাছ দেওয়ার কথা বলে নদীর মুখে বানা স্থাপনে অনুমতি নিয়েছি। আমি এই বিলে দীর্ঘদিন থেকে এভাবে মাছ আহরণ করে থাকি।

এব্যাপারে মান্দা উপজেলা সিনিয়ির মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদি হাসান এর সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, এবিষয়ে থানায় অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মান্দা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স ম জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নদীতে বানা স্থাপনে কোনরকম সমস্যা না হওয়ায় এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর