ব্রেকিং:
পোরশার হাপানিয়া সীমান্ত থেকে সাত বাংলাদেশীকে আটক করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ

বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
ধামইরহাটের আগ্রাদ্বিগুন বাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ পুলিশ নিহত ধামইরহাটের গকুল গ্রাম থেকে গলায় ফাঁশ দেওয়া এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ পত্নীতলায় আদিবাসী প্রেমিক যুগলের লাশ উদ্ধার চাকুরির প্রলোভনে মান্দার মেয়েকে ঢাকায় ধর্ষণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়া বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার গাঙচিল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধামইরহাটে মাদক সেবনের দায়ে ৬ জনের জেল ও জরিমানা আত্রাইয়ে ডেঙ্গু সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপাহারে পরিস্কার অভিযান সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত আত্রাই থানা পুলিশের অভিযানে ৯জন আটক গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে নিয়ামতপুরে আলোচনা সভা সাপাহারের করল্যা চাষে বিপ্লব
১৮৮

মান্দায় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০১৯  

নওগাঁর মান্দায় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে প্রসাদপুর সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখককের বিরুদ্ধে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় দলিল লেখককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাব-রেজিস্ট্রার ওই অফিসে ২৫/০১/১৭ ইং তারিখে যোগদানেরপর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি করে চলেছেন বলে মনে করছেন সচেতনরা। এছাড়া তিনি মহাদেবপুর উপজেলার অতিরিক্ত সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে রয়েছেন।

জানা গেছে, প্রসাদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে মুল দাতাকে বাদ দিয়ে নকল ব্যক্তিকে দাতাকে সাজিয়ে গত ১৯/৬/১৯ ইং তারিখে দানপত্র হিসেবে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। যার দলিল নম্বর ৪৪০৩। প্রকৃত জমির দাতা কছিম উদ্দিন হওয়ার কথা থাকলেও অন্য এক ব্যক্তিকে দাতা সাজানো হয়। জমি রেজিস্ট্রির পর ওই ভূয়া ব্যক্তির ছবি দলিল থেকে সরিয়ে প্রকৃত দাতা কছিম উদ্দিনের ছবি লাগানো হয়। কিন্তু দাতা কছিম উদ্দিন গত ৬/৬/১৯ ইং তারিখে মারা গেছেন। বাড়ি উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের মদকচক গ্রামে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে ২৬/৬/১৯ ইং তারিখে তাকে মৃত দেখানো হয়। কছিম উদ্দিন আগে মারাগেলেও ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে নকল ব্যক্তিকে দাতা সাজিয়ে পরে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। জমি রেজিস্ট্রির কয়েকদিন পর মৃত দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত সনদ নেয়া হয়।

মৃত কছিম উদ্দিনের চার ছেলে-সাইফুদ্দিন, শরিফুল, আশরাফুল ও আলমগীরতাদের চার বোনদের বঞ্চিত করতে মৃত বাবাকে জীবিত দেখিয়ে ভুয়া ব্যক্তিকে বাবা সাজিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার শংকর চন্দ্র বর্মন ও দলিল লেখক হামিদুর রহমানের যোগসাজসে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। জমি রেজিস্ট্রি হওয়ার পরওই নকল দাতার ছবি সরিয়ে আসল দাতার (কছিম উদ্দিন) ছবি দলিলে সংযুক্তকরা হয়। এ ঘটনায় দলিল লেখকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। জমি রেজিস্ট্রির কয়েকদিন পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।

গ্রহিতাদের একজন আশরাফুল বলেন, বাবা মারা যাওয়ার আগে সব কাগজপত্র ঠিক করা ছিল। হঠাৎ করেই বাবা মারা যান। মারা যাওয়ার কয়েকদিন পর দলিল লেখকের মাধ্যমে চার একর ৩৬ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। মুলত চারবোনকে বঞ্চিত করতেই এটা করা হয়েছিল। এরপর বোনেরা বিষয়টি জানতে পেরে আমাদের সাথে দ্বন্দ্ব শুরু করে। পরে স্থানীয় ভাবে বসে আমরা বিষয়টিআপোষ করে নিয়।

দলিল লেখক হামিদুর রহমান বলেন, কাগজপত্র দেখেই জমির দলিল করে দিয়েছি। যেব্যক্তি মারা গেছে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার সনদপত্র আমার কাছে আছে।একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। গত ১৫ দিন আগে সাময়িক ভাবে বহিস্কারকরা হয়েছে।

মান্দা প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির সাধারন সম্পাদক এরশাদ আলী বলেন, দলিল লেখক হামিদুর রহমান বেশকিছুদিন থেকে অফিসে আসতেছে না। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে কিছু অভিযোগ শুনতে পাচ্ছি, যে মৃত ব্যক্তিকেজীবিত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তবে কোন পক্ষই আমার কাছেঅভিযোগ করেনি।

আরো জানা গেছে, উপজেলার কুশুম্বা ইউনিয়নে শামুকখোল মৌজায় সরকারি সম্পতি (ক-তফসিল অর্পিত) ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার এর যোগসাজসে দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। ওইমৌজায় গত ৫/৩/১৮ ইং তারিখে ২৪২১ নম্বর দলিলে এবং আরএস-১২৮ নম্বরখতিয়ান যার দাগ নম্বর হাল- ৪৯২ এবং এসএ-৭ নম্বর খতিয়ান যার সাবেক দাগ- ২৭০ এর ১৬ শতাংশ কাতে সাড়ে ৩ শতাংশ জমি বুদ্ধেশ্বর এর তিন ছেলে সমর, অমল ও শ্যামল কে দাতা সাজিয়ে জগমোহন এর ছেলে সঞ্জিত কুমারকে রেজিস্ট্রি করে দিতে সহযোগীতা করা হয়।

এছাড়া ৪৯২ নম্বর দলিলে গত ১৪/০১/১৮ ইং তারিখে একই খতিয়ানের ১৬শতাংশ কাতে ৭ শতাংশ জমি গোড়ার ছেলে আনন্দ কুমারকে দাতা সাজিয়েনওফেলের ছেলে রফিকুল ইসলাম রেজিস্ট্রি করে নেয়। এসএ খতিয়ান মুলে গ্যাজেট হওয়ায় কেস নম্বর ৪/৮৩ সালে ভিপি সম্পত্তি হিসেবে মান্দা সহকারী ভূমি কমিশনারের কার্যালয় হতে ডিসিআর মুলে সরকারকে রাজস্ব প্রদান সাপেক্ষে শামুকখোল গ্রামের ভূমিহীন আব্দুল জব্বার ও তার দুই ছেলেকে বিধি মোতাবেক ৯ শতাংশ জমি লীজ দেয়া হয়েছে।

ভূমিহীন আব্দুল জব্বার বলেন, একই কাগজের ৯ শতাংশ জমি আমি সরকারেরকাছ থেকে লীজ নিয়ে গত ১০/১২ বছর থেকে বসবাস করে আসছি। আবার ওইকাগজের বাঁকী জমি আরো দুই ব্যক্তি ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে রেজিস্ট্রি করেনিয়েছেন। জমির প্রকৃত মালিক ভারতে থাকেন। তাদের কোন আত্মীয় স্বজন এখানে থাকেন না। গ্রহিতা সঞ্জিত কুমার বলেন, জমির প্রকৃত মালিক তরনি মোহন দাস। তার ভাগ্নেদের কাছ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছি। তবেভূমি উন্নয়ন করের রশিদের বিষয়ে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

মান্দা ও কুশুম্বা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার লতিফুর রহমান বলেন, ওই জমির বিষয়ে ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ দেয়া হয়েছে। তবে কি ভাবে রশিদ দেয়া হয়েছে তার সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। মান্দা প্রসাদপুর সাব-রেজিস্ট্রার শংকর চন্দ্র বর্মনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে, বিষয়গুলো জানার পর তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননা।তবে অফিসে একসাথে বসে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন তিনি।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর