বুধবার   ২৭ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
১০৭

মহাদেবপুরে স্কুল সংস্কার প্রকল্পের অর্থ হরিলুট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২০  

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও বরাদ্দের অর্থ হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের যোগসাজোশে নামেমাত্র কাজ করে বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ হজম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের বরাদ্দের অর্থ লুটপাটের সুযোগ করে দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানায়।

উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদ্যালয় মেরামত-সংস্কারের জন্য চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৮ লাখ টাকা এবং রাজস্ব বাজেটের আওতায় ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়াও রুটিন মেরামতের জন্য ৪৪টি বিদ্যালয়ে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

সরেজমিন কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, শুধুমাত্র যেন-তেনভাবে ক্ষুদ্র মেরামত ও রং করে বরাদ্দের টাকা হালাল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নামেমাত্র কাজ করলেও কয়েকটি বিদ্যালয়ে তেমন কোনো কাজ হয়নি। বিভিন্ন দোকানের প্যাড নিয়ে নিজেদের মতো করে ভাউচার তৈরি করে ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভ্যাট দিয়ে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করে সিংহভাগ হজম করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রকল্প মনিটরিং বা পর্যবেক্ষণ করার কথা থাকলেও তা ঠিকমতো করা হয়নি। উপজেলা এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিদর্শন শেষে কাজের ওপর প্রতিবেদন দেয়ার পর সহকারি শিক্ষা অফিসাররা বিদ্যালয়ে গিয়ে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান যাচাই করে বিল ছাড় করবেন বলে নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এ সবের কোনো তোয়াক্কা না করে শুধু বিল ভাউচারই জমা দেয়া হয়েছে মাত্র। যা খতিয়ে দেখার কেউ নেই। উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টেবিল ক্রয়, কোনরকম সংস্কার ও নিম্নমানের রং করে তিনটি দরজা ক্রয় এবং লাগানোর ভুয়া ভাউচার জমাদিয়ে মেরামতের নামে বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজে করা হয়েছে নানা অনিয়ম। পুরনো কাজের উপরে হালকা রং করে লোক চক্ষুকে ধুলো দেয়া হয়েছে। এস্টিমেটে শ্রেণীকক্ষের ভিতরে প্লাস্টিক পেইন্ট এর রং থাকলেও বাস্তবে করা হয়েছে নিম্নমানের রং। চকরাজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নামেমাত্র সংস্কার, বিদ্যালয়ের সম্মুখভাগে গ্রিল লাগিয়ে রং করা এবং দেয়ালে নি¤œমানের রং করে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

তিনটি দরজা না লাগিয়ে ভুয়া ভাউচার জমা দিয়ে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করার বিষয়টি অস্বীকার করে উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, ‘বরাদ্দের অর্থ দিয়ে সব কাজই সঠিকভাবে করা হয়েছে।’ জানতে চাইলে চকরাজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রওশন আরা বলেন, ‘বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের জন্য শিক্ষা অফিসে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। সভাপতি যেভাবে বলেছে আমি সেভাবে কাজ করে ভাউচার দিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করেছি।’ 

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাযহারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের জন্য শিক্ষা অফিসে কোনো টাকা দিতে হয় না। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সহকারি শিক্ষা অফিসার কাজের ব্যাপারে প্রত্যয়ন দিলে আমরা বিল দিয়ে দেই।’ সরেজমিন কাজ না দেখে প্রত্যয়ন দেয়ার ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহমুদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

স/সা

নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর