• বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৫ ১৪২৬

  • || ১৪ শা'বান ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
১২৫৯

মহাদেবপুরে সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলার গ্যাং লিডার সাজু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০১৯  

ছবি. সাজু

ছবি. সাজু

নওগাঁর বদলগাছী-মহাদেবপুর উপজেলার দৈনিক কালের কন্ঠের প্রতিনিধি ও বদলগাছী প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক দুলু পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে মহাদেবপুর থেকে বদলগাছী ফেরার পথে হত্যার উদ্দ্যেশে অর্তকিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন সন্ত্রাসীরা।

হামলার পূর্বে সান্ত্রাসীদের গ্যাং লিডার সাজু তার ০১৭২৭৮৬৪৩১৫ মোবাইল নম্বর থেকে সাংবাদিক দুলুর মোবাইলে ফোন করে চলার পথে তার অবস্থান জানতে চায়। এর কিছু পরই দুই মোটরসাইকেল যোগে পাঁচ জন সন্ত্রাসী মহাদেবপুর মাতাজী সড়কে সারাসন মোড়ের উত্তর পার্শ্বে ফাঁকা জায়গায় দুলুর মটরসাইকেলের গতি রোধ করে সাজুই প্রথমে জানতে চেয়েছিল আপনি কি সাংবাদিক।

আপনার মোবাইলে কি কোন ফোন এসেছিল। এভাবে সন্ত্রাসীরা জানতে চাওয়ার কারনে ধারনা করা হয় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক দুলুকে চিনে না কিন্তু সাংবাদিকের মোবাইলে ফোন এসেছিল জানার পরই প্রথমেই দুলুর উপর আক্রমন করে সাজু।

পাঁচজন সন্ত্রাসীর মধ্যে চারজন সন্ত্রাসী পিছনে ছিল আর সাজু সামনে এসে সাংবাদিক দুলুর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে সে। তখন তারা লোহার রড দিয়ে বার বার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেছে এবং এলোপাতাড়ি কিল ঘুসি মারতে থাকে । লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ডান হাত দিয়ে তা প্রতিহত করার কারনে ডান হাত ভেঙ্গে যায়। লোহার রডের একটি আঘাত গলায় লাগে এবং পিছন থেকে মাথায় মারার চেষ্টা করলে পিঠে আঘাত লাগে।

এ সময় সন্ত্রাসীদের কবল থেকে প্রাণে বাঁচতে সাংবাদিক দুলু জোড়ে চিৎকার করেন এবং পিছনের দিকে দৌড়ানোর চেষ্টা করে। তার আর্তচিৎকার শুনে গ্রামবাসী ছুটে আসে। এ সময় সন্ত্রাসীরা মটর সাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। ঘটনার দিন ফোন করে সাংবাদিক দুলুর অবস্থান জানতে চাওয়া মোবাইল ফোন ০১৭২৭৮৬৪৩১৫ নম্বর দিয়ে খোলা সাজু (ঝধলঁ) নামে ইমো আইডি থেকে সাংবাদিক দুলু সাজুর ছবি সংগ্রহ করে দেখতে পায় তার উপর সন্ত্রাসী হামলার গ্যাং লিডার ছিল সাজু নিজেই।

বিষয়টি দেখার পর সাজুর ইমো আইডির ভিডিও ক্লিপ সংগ্রহ করে রাখেন। এবং তাৎক্ষনাৎ বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদলগাছী মহাদেবপুর সার্কেল আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম, মহাদেবপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সহ মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই এরশাদ কে বিষয়টি অবগত করা হয় যে সন্ত্রাসী হামলার গ্যাং লিডার ছিল সাজু নিজেই।

এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায় সাজু ছিল বর্তমান বদলগাছী-মহাদেবপুর আসনের এমপি ছলিম উদ্দীন তরফদারের ছেলে মোঃ সাকলাইন মাহমুদ রকি ও তার ভাগ্নে শাকিল হোসেন এর বিশ্বস্ত । ঘটনার দিন মহাদেবপুর বাসষ্ট্যান্ড মোড়ে সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে অপ্রতিষ্ঠানিক চড়া সুদ দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠানে শাকিল হোসেন এর আমন্ত্রণে পেশাগত দায়িত্ব পালনে অংশগ্রহন করেন সাংবাদিক দুলু।

সেই অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিক দুলু ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক এমপির চেলে রকিকে বলে সে বদলগাছীর উদ্দেশ্য রওয়ানা দেয়। এমন সময় ওই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ঘোষনা করেন মানববন্ধন অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা শেষ পর্যায়ে। তখন বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহব্বান জানান সাকলাইন মাহমুদ রকি কে।

এসময় দুলু মটর সাইকেল যোগে বদলগাছীর উদ্দেশ্য রওয়ানা দেয়। এর কিছু পর মাত্র এক দেড় কিলোমিটার পথ অতিবাহিত না হতেই ০১৭২৭৮৬৪৩১৫ নং থেকে দুলুর মোবইলে ফোন করে দুলুর চলমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায় সাজু এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই আক্রমন করে সন্ত্রাসীরা।

উক্ত অনুষ্ঠানে সাংবাদিক দুলুকে আমন্ত্রন করার কারনই ছিল তাকে হত্যা পরিকল্পনার অংশবিশেষ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। আত্রাই নদীর বালু মহাল ও কৃষ্ণপুর গ্রামের সড়ক নির্মান কাজে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় তার উপর সন্ত্রাসী আক্রমনের পরিকল্পনা করা হয়।

এ ঘটনায় সাংবাদিক এমদাদুল হক দুলু সাজু সহ অজ্ঞাত আরো পাঁচ সন্ত্রাসীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন মহাদেবপুর থানায়। ঘটনার পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও আসামী গ্রেপ্তার করতে পারেনি থানা পুলিশ। সাংবাদিক দুলুর উপর আক্রমন করায় সকল স্তরের জনগন তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার সহ পরিকল্পনাকারীদের বিরূদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

সাজুকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই কে কে পরিকল্পনাকারী সব বেড়িয়ে আসবে। সাজু মহাদেবপুরের জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান পদে চাকুরি করেন। এ ঘটনার কয়েকদিন আগে মহাদেবপুরের আরো দুজন স্থানীয় সাংবাদিক নির্যাতিত হয়। সে ঘটনার কোন সুব্যবস্থা না হওয়ায় সাংবাদিক দুলুর উপর সন্ত্রাসীদের আক্রমনের পুনরাবৃত্তি ঘটে।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর