বুধবার   ২৭ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
৭৯

মহাদেবপুরে পুলিশের সহযোগিতায় জাল স্বাক্ষরে থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২০  

নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের সহযোগিতায় মামলার এজাহারে সন্ত্রাসী হামলার শিকার রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে থানায় মামলা রেকর্ড করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মামলার এজহারে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর জাল করে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজসে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে বিকৃতভাবে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের হুমকি-ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িঘর ও ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম।

বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মাধ্যে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চললেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের রহট্টা গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালীর সাথে একই গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলামের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।

এর জের ধরে গত বছরের ১৫ নভেম্বর রাতে আব্দুল খালেক, লাবলু, মোখলেছার, আজিজুল, ইসমাইল, হানিফ, মোর্শেদ ও বাবুসহ অজ্ঞাত সাত থেকে আট জন রহট্টা গ্রামের মাঠে রফিকুলের সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির চিনি আতপ ধানে অতিরিক্ত মাত্রায় আগাছানাশক স্প্রে করে পুড়িয়ে দেয়।

এতে তার এক লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় গত ২১ নভেম্বর রফিকুল বাদি হয়ে ওই আট জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা (মামলা নং-৩৩) দায়ের করেন। আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদি পক্ষকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।

এ বিষয়ে রফিকুল গত ২৫ নভেম্বর নওগাঁর ‘বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে’ ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১০৭ ও ১১৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৬১২ মিস/১৯ (মহাদেবপুর)। মামলা তুলে না নেয়ায় ও জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সকালে প্রতিপক্ষ ইসমাইল এর নির্দেশে লাবলু, খালেক, বেলাল, মোর্শেদ, মোখলেছার, হানিফ, আজিজুলসহ ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি চাইনিজ কুড়াল, রামদা, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে রফিকুলের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

এসময় তিনি গুরুত্বর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় মামলা দায়ের না করলেও মামলার এজাহারে তার (রফিকুল) স্বাক্ষর জাল করে ছয় জনের নাম উল্লেখ করে সাত ডিসেম্বর মহাদেবপুর থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। যাহার মামলা নম্বর-১০।

জমিতে অতিরিক্ত মাত্রায় আগাছানাশক স্প্রে করে ধান পুড়িয়ে দেয়ার বিচার চাইতে গিয়ে বাদি নিজেই ভীষণ বিপদে পড়েছেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। বর্তমানে রফিকুল প্রতিপক্ষের ভয়ে এবং জীনব বাঁচতে নিজ বাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আমি কোন মামলা করিনি বা কাউকে মামলা করতে থানায় পাঠায়নি।

কিন্তু আমি মামলা করার আগেই পুলিশের সহযোগিতায় কে বা কাহারা আমার স্বাক্ষর জাল করে থানায় মামলা করেছে। মামলার এজাহারে যে স্বাক্ষর করা হয়েছে সেটি আমার না। রহস্যজনক কারনে এজাহারে প্রকৃত ঘটনা আংশিকভাবে উল্লেখ করা হয় এবং হামলার নির্দেশদাতা ইসমাইল ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বেলালের নাম নেই। হামলার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন চাইনিজ কুড়াল ব্যবহার করলেও তা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি।

এ হামলার ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহের জন্য প্রতিপক্ষের লোকজন পুলিশের সহযোগিতায় এটি করে থাকতে পারে। পাঁচ ডিসেম্বর আমি হামলার শিকার হই এবং সাত ডিসেম্বর মহাদেবপুর থানায় মামলা রেকর্ড হয়। যেদিন থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে, সেদিন আমি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলাম।’

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে “আমি (রফিকুল) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আমার কথিমতে কম্পিউটার টাইপকৃত এজাহার আমার ভাই আমজাদ হোসেন এর মাধ্যমে থানায় প্রেরণ করিতে বিলম্ব হইল।” আমজাদ হোসেন এর মাধ্যমে থানায় এজাহার প্রেরণ করার বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমজাদ হোসেন নামে আমার নিজের কোন ভাই নাই।

তবে এ নামে আমার একজন প্রতিবেশী আছে। আমি তার মাধ্যমে থানায় কোন এজাহার পাঠায়নি।’ মহাদেবপুর থানায় এজাহার পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে মুঠোফোনের মাধ্যমে জানতে চাইলে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘কেউ আমাকে মহাদেবপুর থানায় কোন মামলার এজাহার পৌঁছে দিতে পাঠায়নি। রফিকুলের উপর হামলা হওয়ার পর থেকে আমি এ পর্যন্ত কোন বিষয়ে থানায় যায়নি।

কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে আমার নাম ব্যবহার করতে পারে।’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বাদির জাল স্বাক্ষরে থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মহদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এটি আমার জানার বাইরে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখবো।’

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মহাদেবপুর সার্কেল) আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে এর সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স/র

নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর