শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
ধামইরহাটে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে র‌্যালি ও পুরুস্কার বিতরণী মান্দায় ৩টি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সবাই ফেল! নিয়ামতপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন আত্রাইয়ে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা মান্দায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক ১ রাণীনগরে ছাত্রলীগের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ রোপণ রেলপথের দাবিতে হাঁপানিয়ায় মানববন্ধন নওগাঁয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মান্দায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙে ৩১ গ্রাম প্লাবিত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে রাণীনগরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত
৫০৫

বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাসবাদ নয়, টাইমস নাউকে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮  

জঙ্গিবাদসহ যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মাটি থেকে অনুমতি দেয়া হবে না বলে আবারো দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দানকারী দেশগুলোর প্রতি সতর্ক বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, মনে রাখবেন, যদি আমরা এ ধরনের কাজকে অনুমতি দিই, তাহলে আমাদের জনগণই এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

শনিবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস নাউ’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ মাধ্যমটির ন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স এডিটর সৃঞ্জয় চৌধুরী এই সাক্ষাৎকার নেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কোনভাবেই চাই না, আমাদের দেশের মাটিকে ব্যবহার করে যেকোনো প্রতিবেশি দেশে সন্ত্রাসী হামলা হোক। এজন্যই দেশে সন্ত্রাসবাদী কোনো ঘাঁটি আছে কিনা, কিংবা অন্য কোনো তৎপরতা চলছে কিনা; আমরা সবসময় তা খেয়াল করি। তেমন কিছুর খোঁজ পেলে আমরা দ্রুত আমরা পদক্ষেপ নিই। এটাই আমাদের স্পষ্ট ও সুদৃঢ় অবস্থান।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন আমরা আমাদের দেশের মাটিকে সন্ত্রাসী তৎপরতায় ব্যবহৃত হতে দেব?’

তিনি বলেন, আপনি যদি অন্য কোনো দেশে সন্ত্রাসী তৎপরতায় মদদ দেন, তো একদিন আপনার দেশই ভোগান্তির শিকার হবে। কারণ কোনো না কোনোভাবে দেশের কিছু মানুষ ওই অপতৎপরতায় উৎসাহিত হবে। এতে শান্তি বিনষ্ট হয়। আর শান্তি ছাড়া কোনো উন্নয়ন হয় না। এজন্য আমি দেশে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এক পর্যায়ে সৃঞ্জয় চৌধুরী বাংলাদেশে সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে যে সংকটগুলো তাকে (শেখ হাসিনা) মোকাবিলা করতে হয়েছে, তার অনেকগুলোই পাকিস্তানের সৃষ্টি করা বলে মন্তব্য করেন। এসময় তিনি ২০১৬ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো জঙ্গি হামলা না হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দেশ নাই, কোনো সীমানা নাই। বোন শেখ রেহানা ছাড়া পরিবারের বাকি সব সদস্যদের ৭৫’এর ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ৬ বছর পরে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আমি নিজেও বারবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি। এ প্রসঙ্গে ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় তার সমাবেশস্থলে বোমা পুঁতে রাখা এবং ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলো যদি একে অপরের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করে, তবে এই সংস্থাটি সফল হবেই। আমাদের এমন একটি পথ খুঁজে বের করতে হবে। যেখানে কোনো দেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। এটা নিশ্চিত হলে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে। হস্তক্ষেপ ঘটলে বন্ধুত্ব সম্ভব না।

তিনি আরো বলেন, প্রতিবেশিদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক সব সময়ই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত আঞ্চলিক সহযোগিতা। তবে প্রতিটি দেশেরই নিজ নিজ ভূমিকার পেছনে নিজস্ব কিছু কারণ থাকে। হুম, আমি স্বীকার করছি, আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালেও সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, মানুষ মারার চেষ্টা হয়েছে। সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা দেখা গেছে। তবে আমরা যেটা করেছি, তা হলো আমরা একে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি, কমিয়ে আনতে পেরেছি।

এ প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত করে দেশটির চিত্র কেমন, তা দেখার আহ্বার জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক একান্তই তাদের দ্বিপাক্ষিক ব্যাপার বলে উল্লেখ করে এ ব্যাপারে কোনই মন্তব্য করেননি তিনি।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রবাহিত আলোচিত তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ ও এর ন্যায্য হিস্যার প্রসঙ্গও টেনে আনেন শেখ হাসিনা। এতে তিনি তিস্তার পানি বণ্টনের সমস্যা সমাধানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারসহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সদিচ্ছা আশা করেন। তবে অভ্যন্তরীণ কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে এই ইস্যুতে বাধা দেয়ার ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ব্যাপারে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি তিনি।

এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানবিক কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। রোহিঙ্গাদের সুষ্ঠু প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা তাদের ধীরস্থিরভাবে আগানোর কথা বলেছি। কিন্তু তারা এখনো প্রস্তুত নয়।

“আমি মিয়ানমারকে বলেছি, রোহিঙ্গারা সে দেশে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছে। এজন্য মিয়ানমার সরকারের উচিত তাদের জন্য একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা। কেননা এখানে (বাংলাদেশ) তো তারা চিরদিনের জন্য থাকতে আসেনি। রোহিঙ্গারা এখানে চিরদিন অবস্থান করতেও পারবে না। তারা সন্ত্রাসীদের দ্বারা ব্যবহৃত হতে পারে।”, যোগ করেন শেখ হাসিনা।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর