রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
পত্নীতলায় আদিবাসী প্রেমিক যুগলের লাশ উদ্ধার চাকুরির প্রলোভনে মান্দার মেয়েকে ঢাকায় ধর্ষণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়া বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার গাঙচিল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধামইরহাটে মাদক সেবনের দায়ে ৬ জনের জেল ও জরিমানা আত্রাইয়ে ডেঙ্গু সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপাহারে পরিস্কার অভিযান সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত আত্রাই থানা পুলিশের অভিযানে ৯জন আটক গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে নিয়ামতপুরে আলোচনা সভা সাপাহারের করল্যা চাষে বিপ্লব
৪৮০

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি এখন মৃত্যুর দুয়ারে

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০১৯  

লাগাতার সংকটের কারণে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি এখন মৃত্যুর দুয়ারে। আশার কথা, এর মধ্যে দাঁড়িয়ে বিচ্ছিন্ন ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় চলচ্চিত্রকে টিকিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। দেশী চলচ্চিত্রকে বহির্বিশ্বে এবং বহির্বিশ্বের ছবির সঙ্গে এখানকার দর্শক, সমালোচকদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে হাতেগোনা যে আয়োজন চোখে পড়ে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ এ বছরও আয়োজন করেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। আগামীকাল উৎসবের ১৭তম আসরের পর্দা উঠছে।

এবারের আয়োজনে ৭২টি দেশের ২২০টি ছবি দেখানো হবে। এশিয়ান কম্পিটিশন, রেট্রোস্পেকটিভ, বাংলাদেশ প্যানোরোমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেনস ফিল্ম, শর্ট অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম, উইমেন ফিল্মমেকারস ও স্পিরিচুয়াল ফিল্মস— এ আট বিভাগে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। উল্লেখ করতে হয়, আয়োজক দেশ বাংলাদেশ এবং অন্য সব দেশের ছবির তুলনায় এবারের উৎসবে সবচেয়ে বেশি স্থান দখল করে নিয়েছে ভারতীয় চলচ্চিত্র। এ আয়োজনে ভারতের মোট ৩১ চলচ্চিত্র (এগুলোর মধ্যে একক দেশ হিসেবে ২৮টি ও যৌথভাবে নির্মিত ৩টি চলচ্চিত্র) অংশ নিচ্ছে। ভারতের পরই সমানসংখ্যক ২৯টি ছবি নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে ইরান ও বাংলাদেশের ছবি। এর মধ্যে একক ও যৌথভাবে ইরানের ছবি রয়েছে যথাক্রমে ২৮ ও একটি। বিপরীতে একক দেশ হিসেবে ২৬টি ও যৌথভাবে নির্মিত তিনটি ছবি রয়েছে বাংলাদেশের। এছাড়া অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে তুরস্কের ১৪, সার্বিয়ার ৬, মঙ্গোলিয়ার ৭, চীনের ৫ ও যুক্তরাষ্ট্রের ৪টি চলচ্চিত্র। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে এসব ছবি বাছাই করা হয়েছে।

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবারের উৎসবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ ও চলচ্চিত্রের উপস্থিতি থাকলেও গত দুই বছরে নির্মিত বিশ্বের আলোচিত চলচ্চিত্রের তেমন কোনো অংশগ্রহণ নেই; চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিচারকদের ক্ষেত্রেও একই দশা। যদিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা, গুরুত্ব ও তাত্পর্যের মানদণ্ড হিসেবে এসব বিষয়কেই সর্বাগ্রে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া সব দেশকে টপকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ বেশি থাকলেও সেখানকার পরিচিত ও খ্যাতিমান নির্মাতা এবং বিচারকদের অংশগ্রহণ নেই এ উৎসবে। বিষয়গুলো নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা হয় ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামালের—

৭২টি দেশের ২২০টি ছবির মধ্যে এক ভারতেরই ৩১টি চলচ্চিত্র এবারের উৎসবের বিভিন্ন বিভাগে প্রদর্শন করা হবে। ভারতীয় ছবির এত প্রাধান্য কেন এবার?

বিষয়টি পুরোপুরি কো-ইন্সিডেন্স (কাকতালীয়)। ভারত থেকে এবার এত বেশি ছবি জমা পড়েছে (১৫০টি) যে, চূড়ান্তভাবে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে হিমশিম খেতে হয়েছে। কারণ প্রতিটি ছবিই বিষয়গত দিক থেকে আলাদা ছিল। আসলে এ উৎসবে গত ১০ বছরে ইরানের ছবি ছিল সর্বোচ্চসংখ্যক। এ বছর ভারত উপরে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে একটা চাপ তো থাকেই, সবাই পরিচিত। কার ছবি রেখে কারটা নেব, এগুলোও ফ্যাক্টর।

সারা পৃথিবীতে গত দুই বছরে নির্মিত চলচ্চিত্র থেকে উল্লিখিত সংখ্যক ছবি বাছাই করেছেন। এর মধ্যে আলোচিত ছবিগুলোই নেই, কেন?

আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকে প্যারালাল ও ইনডিপেনডেন্ট ছবিগুলো রাখার। এর বাইরে বহু আলোচিত ছবি আছে যেগুলো আমরা এ উৎসবে প্রদর্শন করতে চাই। কিন্তু এসব ছবির পরিবেশক, প্রযোজকদের এত বেশি ডিমান্ড থাকে যে চাইলেই আমরা তা আনতে পারি না। এ ধরনের ছবি দেখানোর জন্য তারা গড়ে ৫০০ থেকে ৮০০ ডলার দাবি করেন, যা আমাদের পক্ষে কুলিয়ে ওঠা মুশকিল। বলতে পারেন আর্থিক সমস্যার কারণে চাইলেও আনতে পারি না।

তারকা নির্মাতা, বিচারকদেরও অংশগ্রহণ কম?

আসার কথা ছিল অনেকের, কিন্তু সময়ের সঙ্গে ব্যাটে-বলে মেলানো সম্ভব হয়নি। আগেরবার অপর্ণা সেন এসেছিলেন, কিন্তু এবার অনেকেই শুটিং ও সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এটা সম্ভব হয়নি।

এবারের উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘এশিয়ান কম্পিটিশন সিনেমা সেকশন’। এতে ২২টি চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা করবে। এর মধ্যে চারটি করে ভারত ও ইরানের আটটি ছবি রয়েছে, বিপরীতে এ বিভাগে বাংলাদেশ থেকে মাত্র একটি ছবি রাখা হয়েছে। নাম ‘কমলা রকেট’। অন্যদিকে রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগে সার্বিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা গোরান পাসকাইয়েভিচের সাতটি ছবি প্রদর্শন করা হবে। বাংলাদেশ প্যানোরোমা বিভাগে জয়া আহসান প্রযোজিত ছবি ‘দেবী’, ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘আলতা বানু’, রাজিবুল হোসেনের ‘হূদয়ের রংধনু’সহ মোট ১০ ছবি দেখানো হবে। এছাড়া উইমেন ফিল্মমেকার, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, স্পিরিচুয়াল ফিল্ম সেকশন ও চিলড্রেন ফিল্ম সেকশনে যথাক্রমে ২৮, ৫২, ২৪ ও ১৭টি ছবি দেখানো হবে। আর শর্ট অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্ট বিভাগে দেখানো হবে ৫৮টি ছবি।

এবারের উৎসবে এশিয়ান ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ও বাংলাদেশ প্যানোরোমা বিভাগের সেরা ছবি বাছাইয়ে ১৮ জন বিচারক দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে রয়েছেন নির্মাতা ও লেখক রফিকুজ্জামান, নির্মাতা এনামুল করিম নির্ঝর, নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন ও অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। এর বাইরে চীন, ভারত, নরওয়ে, ফ্রান্সসহ আরো কয়েকটি দেশের ১৪ জন বিচারক রয়েছেন। তবে এক্ষেত্রেও বিশ্বের নামিদামি চলচ্চিত্র বিচারকদের উপস্থিতি কম।

সব মিলিয়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এ বছরের আয়োজনের আকার সংখ্যাগত পরিসরের দিক থেকে দীর্ঘ হলেও সত্যিকার অর্থে বিশ্বমানের হয়ে উঠতে পারেনি। আয়োজকরা হয়তো অর্থ সংকটকে এ দুর্বলতার যুক্তি হিসেবে হাজির করছেন। কিন্তু সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব তার আয়োজনে নতুন নতুন চলচ্চিত্রকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি সারা বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা ও বিচারকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে— এমনটাই প্রত্যাশা চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের। এখন হয়তো সেদিকটাই ভেবে দেখার সময়।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর