রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ২ ১৪২৬   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
ঠাকুরগাঁওয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৮ জনের রাণীনগরে গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে কৃষকের ৫টি গরু চুরি পোরশায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু রাণীনগরে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় তরুন তরুনীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত গনসচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশের র‌্যালী সাপাহারে জনসচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা রাণীনগরে গাঁজাসহ আটক ২ নওগাঁ ১১ জনের ডেঙ্গু সনাক্ত, ৮ জন চিকিৎসাধীন আত্রাই থানা পুলিশের সচেতনতা মূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে গনসচেতনতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালী অনুষ্ঠিত সাপাহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মশক নিধন লিফলেট বিতরণ ৬ দফা দাবিতে নওগাঁ প্রেসক্লাবে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন মান্দায় ‘মাদক ও ইভটিজিং সচেতনতা কার্যক্রম’র আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
৬৭

বদলগাছী মহিলা ডিগ্রী কলেজ ১৪ বছরেও হয়নি এমপিওভুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৯  

নওগাঁর ‘বদলগাছী মহিলা ডিগ্রী কলেজের’ডিগ্রী শাখা গত ১৪ বছরে এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন কোন বেতনভাতা না হওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন ১২ জন শিক্ষক। এমপিওভুক্ত নাহওয়ায় শিক্ষকরা যেমন হতাশ হয়ে পড়েছেন, তেমনি শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেনশিক্ষক ও সচেতন মহল।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার উন্নয়নে ১৯৯৫ সালে ‘বদলগাছী মহিলা ডিগ্রীকলেজ’ উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠদানের অনুমোতি দেয়া হয়। শিক্ষকদের প্রচেষ্টায়শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল করে। এতে স্বল্প সময়ে উপজেলায় সুনাম অর্জন করেকলেজটি। উপজেলার মধ্যে এটিই এক মাত্র মহিলা কলেজ। ২০০৫ সালে কলেজেডিগ্রী কোর্স চালু করা হয়।

বর্তমানে কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকেশিক্ষার্থীরা সংখ্যা ৪৫০ জন। ডিগ্রীর পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২৬জন। ডিগ্রী কোর্স চালু থেকে ফলাফলও সন্তোসজনক। ডিগ্রী পর্যায়েআটটি বিষয়ে ১২জন শিক্ষক রয়েছে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়াসম্পন্ন হয়েছে। নিয়োগ প্রাপ্ত এসব শিক্ষক দীর্ঘদিন এমপিওভুক্ত নাহওয়ায় সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে ওইসবশিক্ষকদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ হয়ে গেছে। অন্য কোনচাকরিতেও আবেদন করার সুযোগ নাই। হতাশাগ্রস্ত এসব শিক্ষকের কেউজীবন জীবিকার তাগিদে অন্য পেশা বেঁছে নিয়েছেন। কেউবা কোন উপায়না পেয়ে বাধ্য হয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের আশায় কলেজগুলোতে পড়ে আছেন।অনেকে আবার কলেজে আসাই ছেড়ে দিয়েছেন।

এসব শিক্ষক মানবেতর জীবন-যাপন করলেও যেন দেখার কেউ নাই।শিক্ষার্থী সুমি আক্তার ও জেসমিন সুলতানা সহ কয়েকজন শিক্ষার্থীবলেন, কলেজে থেকে আমাদের যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়। শিক্ষকরা ভালভাবে আমাদের ক্লাসে পাঠদান করান। নিয়মিত ক্লাস হওয়ায় ফলাফলও ভাল হয়।রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক শাকিরুল ইসলাম রাসেল বলেন, মাস্টার্স শেষকরার পর ভাবছিলাম এমন এক পেশায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করবো যা হবেসম্মানজনক। যেন সাধারন ভাবে জীবন যাপন করা যায়। এজন্যই শিক্ষকতাকেমহান পেশা হিসেবে বেঁছে নিয়েছিলাম।

২০০৫ সাল থেকে কলেজে শ্রমদিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘ ১৪ বছরেও কোন বেতন ভাতা পাইনি। ইতিমধ্যেসরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সও শেষ। তাই বাধ্য হয়ে সরকারি সিদ্ধান্তেরআশায় কলেজে পড়ে আছি। সংসার জীবনে দুই মেয়ে। বড় মেয়ে ৯ম শ্রেনীতেএবং ছোট মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ছে। জীবন জীবিকা চালাতে নওগাঁশহরের ইলেকট্রনিক্সের একটি দোকানে ম্যানেজার হিসেবে আছি। শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। আর এ কারিগরদের আজ করুন অবস্থা। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

দর্শন বিষয়ের প্রভাষক আতোয়ার রহমান বলেন, আমার বাড়ি জেলার ধামইরহাটউপজেলার রাঙামাটি গ্রামে। বাড়ি থেকে কলেজের দুরুত্ব প্রায় ৪০কিলোমিটার। ডিগ্রী চালু হওয়ার সময় প্রতিদিন প্রায় ৮০ কিলোমিটারআসা-যাওয়া করতাম। দীর্ঘদিনেও যখন এমপিওভুক্ত হলোনা তখন কলেজে যাওয়া অনিয়মিত হয়ে পড়ে। সংসারেও টানাপোড়ন দেখা দেয়। জীবন জীবিকার তাগিদে এখন সংসারে কৃষি কাজ করছি।

কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি প্রভাষক নজরুল ইসলাম বলেন, ডিগ্রী পর্যায়ে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের অবস্থা করুন ও নাজুক হয়ে পড়েছে। কয়েকজন শিক্ষক ২৫-৩০ কিলোমিটার দুর থেকে কলেজে আসে। তাদেরকে আমরা যাতায়াত ভাড়া পর্যন্ত দিতে পারিনা। শিক্ষকদের জীবন মানোন্নয়ন দ্রুত এমপিওভুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

বদলগাছী মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন চৌধূরী বলেন,নারী শিক্ষার মানোন্নয়নে উচ্চতর শিক্ষার জন্য এ কলেজে ২০০৫ সালে ডিগ্রী চালু করা হয়। উপজেলার মধ্যে একটিমাত্র মহিলা কলেজ। ২০১১ সালে ডিগ্রী পর্যায়ে এমপিও ভুক্তর জন্য তালিকা করা হয়েছিল। কিন্তু কি কারণে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তা জানা যায়নি। সরকারি নীতিমালার আলোকে শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে কলেজটি ২০১৮ সালে আবারও জরিপ করা হয়েছে। কলেজটি ডিগ্রী পর্যায়ে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যদি এমপিও ভুক্ত হয় তাহলে শিক্ষকদের পাঠদানের স্পৃহা আরোবাড়বে।

নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো: মোবারুল ইসলাম বলেন,এমপিওভুক্ত নির্ভর করে পাঠদানের অনুমোতি, শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষার্থীও ফলাফলের উপর। যেসব কলেজ গ্রেডিং এ নির্বাচিত হবে তাদের মধ্য থেকেই ডিগ্রী পর্যায়ে এমপিও বিহীন কলেজগুলো এমপিও ভুক্ত করা হবে। ইতোমধ্যে অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন শুরু হয়েছে।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর