শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ২ ১৪২৬   ১৮ সফর ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
পত্নীতলায় আদিবাসী প্রেমিক যুগলের লাশ উদ্ধার চাকুরির প্রলোভনে মান্দার মেয়েকে ঢাকায় ধর্ষণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়া বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার গাঙচিল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধামইরহাটে মাদক সেবনের দায়ে ৬ জনের জেল ও জরিমানা আত্রাইয়ে ডেঙ্গু সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপাহারে পরিস্কার অভিযান সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত আত্রাই থানা পুলিশের অভিযানে ৯জন আটক গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে নিয়ামতপুরে আলোচনা সভা সাপাহারের করল্যা চাষে বিপ্লব
১৫৪

বদলগাছীতে টেন্ডার ছাড়াই ৬ টি গাছ কর্তন!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০১৯  

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের মালঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের অজুহাতে উপজেলার শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত না নিয়ে, বন বিভাগের মূল্য নির্ধারণ ছাড়াই প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৬টি গাছের কোন টেন্ডার না করে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে গাছ গুলো কাটা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, গাছগুলো কাটার পর বেশ কিছু কাঠ সরিয়ে ফেলে কিছু কাঠ লোক দেখানোর জন্য জড়ো করে রাখা হয়েছে। এ ঘটনাটি জানাজানি হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান ঘটনাটি ধামাচাপা দেবার জোর তৎপর চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, উপজেলার মালঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের চতুর দিক দিয়ে অনেক পুরাতন কয়েকটি ইউক্যালেপর্টাস, কড়াই, আম, ও পাইকর গাছসহ অন্যান্য গাছ ছিলো। আর ঐ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক ও পথচারীরা গরমের সময় সেই গাছগুলোর নিচে বসে বিশ্রাম নিতেন। স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঐ গাছগুলো নিলামের জন্য গত মাসে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি আবেদন করলেও উপজেলা শিক্ষা কমিটির কোন মিটিং করেননি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও আবেদন সমন্ধে জানায়নি উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতিকেও।

উপজেলা শিক্ষা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই, বনবিভাগ থেকে কোন মূল্য নির্ধারণ ও ছাড়পত্র না নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে গত ২ অক্টোবর টেন্ডার ছাড়াই ১টি আম গাছ, ২টি ইউক্যালেপর্টাস, ২টি পাইকড় ও ১টি ফল গাছ কেটে ফেলে গাছের অধিকাংশ ডালপালা ও কাঠের গুড়ি গোপনে সরিয়ে ফেলেছেন। শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে গাছগুলো কেটেছেন ঠিকাদারের লোকজন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছগুলো কাটা অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। সেখানে গাছের অনেক ডালপালা ও কাঠের গুড়ি নেই। ৬টি গাছের গোড়া মাটিতে কাটা অবস্থায় আছে। আর তার সাইটে ঠিকাদারের লোকজন রডের কাজ করছিলো।

এবিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সামিনা ইয়াসমিন বলেন, ঠিকাদারের লোক ঐ গাছ গুলি কেটেছে। গাছগুলি কাটার জন্য কি কোন অনুমোদন আছে বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমি গত ১৯/৯/১৯ ইং তারিখে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর গাছ গুলির মূল্য নির্ধারণ করে নিলামের মাধ্যমে কাটার ব্যবস্থা করার জন্য একটি আবেদন পত্র দাখিল করে ছিলাম। কিন্তু কোন অনুমোদনের কাগজ আমি পাইনি।

তাহলে গাছ গুলি কাটলেন কি ভাবে বলে অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে ঠিকাদারের লোকজন গাছ গুলি কেটেছেন বলে জানান।

গাছ কাটা বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার রায়হান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, গাছ কাটতে খরচ হয় আর এই খরচের টাকা স্কুল দিতে পারেননা। তাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নির্দেশে আমাদের লোকজন গাছগুলো কেটেছে।

মালঞ্চা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিথুন বলেন, স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে গাছগুলো নিলামের জন্য আমরা একটি স্কুলে রেজুলেসান করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি দরখাস্ত গত মাসে প্রেরণ করেছিলাম। দরখাস্ত দেওয়ার পর আপনিকি গাছগুলো কাটার কোন অনুমোদন পেয়ে ছিলেন বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি গাছগুলো কাটার কোন অনুমোদন পাইনি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বলছেন আপনি গাছগুলো কেটে ফেলতে বলেছেন বলে অপর একটি প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি কখনো সরকারি গাছ কাটতে বলতে পারিনা । গাছগুলো কাটতে দেখে আমি ঠিকাদারের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে ঠিকাদারের লোক আমাকে বলেন শিক্ষা অফিসার নাকি গাছগুলো কাটতে বলেছেন। কথাটি শুনে আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাকি গাছগুলো কেটে রাখতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলেছেন।

আবেদন পাওয়ার পরো কেন বন বিভাগ থেকে মূল্য নির্ধারণ না করে ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির অনুমোদন না নিয়ে গাছগুলো কাটার কোন নির্দেশ দিলেন বলে প্রশ্ন করলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান বলেন, আমি ব্যস্ত থাকার কারণে গাছগুলো নিলামের জন্য কোন প্রক্রিয়া করতে পারিনি ঠিকাদারের পিরা পিরিতে আমি গাছগুলো কাটার নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমি যখন অন্য উপজেলায় চাকুরী করতাম তখনো ঐ উপজেলায় কোন স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের সময় আগেই গাছগুলো কেটে রেখে পরে বন বিভাগের মাধ্যেমে মূল্য নির্ধারণ করে নিলামের মাধ্যেমে বিক্রয় করা হতো।

অভিযোগ উঠেছে গাছের অধিকাংশ ডালপালা ও কাঠের গুড়ি গোপনে বিক্রয় করা হয়েছে বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, যদি চুরি হয়ে থাকে তাহলেতো আমার বলার কিছু নেই।

উপজেলার বন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, গাছগুলো টেন্ডার করার জন্য তারা আমাদের অফিসে আগে কোন আবেদন করেননি । কিন্তু গত ৩ অক্টোবর ঐ স্কুলের গাছের মূল্য নির্ধারণের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার একটি আবেদন করেছেন। মূল্য নির্ধারণ না করে ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সিধান্ত না নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কি গাছ কাটার নির্দেশ দিতে পারেন বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা কমিটির অনুমোদন ও মূল্য নির্ধারণ না করে কোন অবস্থাতেই কোন সরকারি গাছ কর্তন করা যাবেনা।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও নির্বাহী অফিসার মাসুম আলী বেগ বলেন, ঐ স্কুলের গাছ নিলামে বিক্রয়ের জন্য উপজেলা শিক্ষা কমিটির কোন মিটিং হয়নি। তাহলে শিক্ষা কমিটির অনুমোদন ও বন বিভাগের মূল্য নিধারণ না করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার গাছগুলো কর্তনের নির্দেশ দিলেন কি ভাবে বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা কমিটির অনুমোদন ও বন বিভাগের মূল্য নির্ধারণ ছাড়া যদি গাছগুলো কাটা হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর