ব্রেকিং:
নওগাঁর মহাদেবপুরে বিএনপির সম্মেলনে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০, আটক ৫

মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৬   ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েটের ২৬ জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার ও ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বুয়েটে প্রশাসন
১২৭

পোরশায় গ্রাম আদালতে বাড়ছে মানুষের আস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, (পোরশা)

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০১৯  

নওগাঁর পোরশায় দিন দিন গ্রাম আদালতের প্রতি আস্থা রাখছেন সাধারণ মানুষ। মাত্র ১০টাকা ফি দিয়ে ফৌজদারি মামলা এবং ২০টাকা খরচে দেওয়ানী মামলা করতে পারেন ভুক্তভোগীরা। গরীব, দুঃখী অসহায় মানুষের স্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে উপজেলার নিতপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত।

গ্রাম আদালতের নিয়ম অনুযায়ী মাত্র ৯০দিনের মধ্যে আবেদনকারী এবং প্রতিবাদি তার মামলা নিস্পত্তি করতে পারবেন। প্রতন্ত অঞ্চলে স্বল্প খরচে অল্প সময়ে এই সুবিধা পেয়ে খুব খুশি এখানকার জনগণ। ছোট খাটো ঝামেলায় থানা পুলিশ কিংবা কোট কাচারি করতে হচ্ছেনা তাদের। বাড়িতে বসে থেকেই গ্রাম আদালতের মাধ্যমে কাঙ্খিত বিচার পেয়ে বেশ উচ্ছসিত জনগণ।

গ্রাম আদালত বিষয়ক উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ নাসির হোসেন জানান, জুলাই-২০১৭ইং থেকে এ বছরের জুন (২০১৯) পর্যন্ত ১৫৩টি মামলা গ্রাম আদালতে হয়েছে। এর মধ্যে ১১৫টি নিস্পত্তি হয়েছে। এছাড়াও ৩৫টি মামলা খারিজ/বাতিল হয়েছে এবং ৩টি মামলা ফেরত গিয়েছে। 

এ সমস্ত মামলা গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আবেদনকারী এবং প্রতিবাদি উভয়েই হয়রানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এমনকি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থের হাত থেকেও রক্ষা পেয়েছেন তারা। এমন আরো অনেক আবেদনকারী সঠিক বিচার পেয়ে লাভবান হয়েছেন।

উপজেলার দুয়ারপাল গ্রামের জয়নাল আবেদিন এর ছেলে মোজাম্মেল হক জানান, কিছুদিন আগে সাপাহার উপজেলার বেলডাঙ্গা গ্রামের মহিষ ব্যবসায়ী ইব্রাহীম আলি ভদু আমার নিকট থেকে ১লক্ষ টাকার মহিষ বাকি নেই। আমাকে ৫০হাজার টাকা দিলেও বাকি ৫০হাজার টাকা দিতে টাল বাহানা করে। এমতাবস্থায় আমি গ্রাম আদালতের স্মরণাপন্ন হয়ে মামলা করে প্রাক বিচারের মাধ্যমে প্রতিবাদির নিকট হতে টাকা আদায় করতে সক্ষম হই। 

উপজেলার খোদ্দ গানইর গ্রামের আরেক আবেদনকারী আজিমুদ্দীনের স্ত্রী  মাজেদা বেগম জানান, একই গ্রামের মৃতঃ কশিমুদ্দীনের ছেলে প্রতিবাদি শরীফর ২০হাজার টাকা পেতাম। কিন্তু সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে গ্রাম আদালতে মামলা করে আমি উক্ত টাকা ফেরত পাই। এমন শতাধিক আবেদনকারী এই গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ন্যায্য বিচার পেয়েছেন। আগামীতে গ্রাম আদালতকে আরো সক্রিয় করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলার সদর নিতপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম আদালতের বিচারক শাহ মোঃ আবুল কালাম চৌধুরীর বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ হচ্ছে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আইনি সহায়তা সু-নিশ্চিত করা। সে কারণেই আমি দায়িত্বে আসার পর থেকেই গ্রাম আদালত বিষয়ক সভা, সেমিনার, উঠান বৈঠক করে জন সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছি। এছাড়াও এ বিষয়ে বিভিন্ন ট্রেনিং এ অংশ গ্রহন করে জন-কল্যানে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ হচ্ছে সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত হবে জনগণের ন্যায় বিচারের কেন্দ্র বিন্দু। এখানেই জনগন তাদের সুখ, দুঃখের কথা অনায়াশে বলতে পারবেন। আর সে ভাবেই কাজ করে যাচ্ছি আমরা। বর্তমানে গ্রাম আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। আশা করছি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত আরোও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর