শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৭ ১৪২৬   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
চাকুরির প্রলোভনে মান্দার মেয়েকে ঢাকায় ধর্ষণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়া বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার গাঙচিল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধামইরহাটে মাদক সেবনের দায়ে ৬ জনের জেল ও জরিমানা আত্রাইয়ে ডেঙ্গু সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপাহারে পরিস্কার অভিযান সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত আত্রাই থানা পুলিশের অভিযানে ৯জন আটক গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে নিয়ামতপুরে আলোচনা সভা সাপাহারের করল্যা চাষে বিপ্লব
১৭৩

পত্নীতলায় সরকারের ৫২লাখ টাকা হরিলুটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০১৯  

নওগাঁর পত্নীতলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে খাল পুনঃখনন ও আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারের নামে সরকারের ৫২লাখ টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। পূর্বে খননকৃত খাল প্রকল্প হিসাবে দেখিয়ে নাম মাত্র লোক দেখানো কাজের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সহযোগী হিসাবে কাজ করেছে কাঁটাবাড়ি পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সমিতি (এলসিএস) নামে একটি সংগঠন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, আওয়ালীগ নেতা আব্বাস আলী ও আবু তাহের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর থেকে ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে পত্নীতলায় ইউনিয়নের শম্ভুপুর বিল হতে কাঁটাবাড়ির উপর দিয়ে আত্রাই নদী পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈঘ্যের খাল পলি অপসারণে ২ লাখ ৪ টাকা ব্যায় করা হয়। এরপর ২০১৪-২০১৫ সালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ওই খালের হাঁফ কিলোমিটার ২ লাখ টাকা ব্যায়ে পলি অপসারণ করা হয়।

গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে উক্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। এজন্য উপজেলার কাঁটাবাড়ি পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সমিতি নামে একটি সংগঠনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মধ্যে এই কার্যক্রমের সাথে জড়িত হন পত্নীতলায় ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

তিনি আরো একটি সাবকমিটি গঠনের মাধ্যমে কাঁটাবাড়ি পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সমিতির সাথে যোগ দেন। প্রকল্পের ৫২ লাখ ৪৮ হাজার টাকার বিবরণিতে জানা গেছে, খাল পুন:খননে ব্যায় ৩২ লাখ টাকা, ১২শ’ মিটার বাঁধে ব্যায় ১১ লাখ ২৪ হাজার টাকা, তিনটি বাঁশের সাঁকোতে ব্যায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ও রেফারেন্স লাইন বাবদ ৭৫ হাজার ৮শ’ ৮২ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ ভিত্তিতে সরেজমিনে খাল পরিদর্শণ করে দেখা গেছে, খালের দক্ষিণ প্রান্ত তথা কাঁটাবাড়ি অংশে কিছু জায়গায় খালের পাশ থেকে ঘাস পরিষ্কার করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। অপর দিকে আত্রাই নদীর ডান তীর ইসাপুর হতে হাড়পুর কাঁটাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারে কোন কাজ করা হয়নি। কাঁটাবাড়ি হাড়পুর গ্রামের ওসমান আলী, মোরশেদ আলম, রায়হান জানান, আমরা সবাই কাঁটাবাড়ি পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সমিতির সদস্য।

সংগঠনের নামে প্রকল্প দেওয়া হলেও কিভাবে টাকা এসেছে, কোথায় ব্যায় হয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। পত্নীতলায় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (৬ নং ওয়ার্ড) নুরুল ইসলাম জানান, ইতিপূর্বেও ওই খালে বরাদ্দ হয়েছিল। শুধুমাত্র জঙ্গল পরিষ্কার করা ছাড়া কোন কাজ হয়নি। বর্তমানে প্রকল্পের আওয়াতায় এই খাল পুন:খনন ও অত্রাই নদীর বাঁধ সংস্কারে কোন ঘটনাই তাঁর চোখে পড়েনি।

প্রায় ৫২ লাখ টাকা এলসিএস কমিটি এলজিইডি যোগসাজস করে প্রায় পুরো টাকা হরিলুট করেছেন। উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে খনন কাজটি তদন্ত করে এই লাটপাটকারিদের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।

এলসিএস কমিটির সদস্য ও পত্নীতলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, এ ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। যারা আমার নাম ব্যবহার করেছে তাঁরা সঠিক তথ্য না জেনেই কথা বলেছে। কাঁটাবাড়ি পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আইজুল হক বলেন, খাল খননে কিছুটা অনিয়ম হয়ত হয়েছে কিন্তু আমরা কাজ করেছি।

পত্নীতলায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা শাহ চৌধুরী বলেন, কাগজের কলমে খাল খনন ও বাঁধ সংস্কার হয়েছে। বাস্তবে কোন কাজ হয়নি। সংশ্লিষ্টরা সবাই মিলে প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগী করে লুটপাট করেছে। আমার মনে হয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার খরচ হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর পত্নীতলায় উপজেলা প্রকৌশলী সৈকত দাস বলেন, আমরা দেখেশুনেই প্রকল্প বিল পাশ করেছি।

ইতিমধ্যেই বাস্তবায়নকারী সংগঠনকে বিল প্রদান করা হয়েছে। এরপরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম উদ্দিন জানান, সিডিউল মোতাবেক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কোন প্রকার অনিয়ম হয়নি। পত্নীতলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ওই খালে পুন:খনন হচ্ছে এ পর্যন্ত জানা আছে। তবে বিস্তারিত জানা নেই।

স্থানীয়দের যদি অভিযোগ থাকে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে টাকা হরিলুট করা হচ্ছে তবে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ জানান, ওই খাল খননের কোন অভিযোগ নেই। তবে আগামী সপ্তাহে খালটি পরিদর্শণ করা হবে। যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর