বুধবার   ২৭ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
১১১৬

নিয়ামতপুরে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০১৯  

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুরের দামপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পারভীন বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার অভিভাবকদের পক্ষে সফিকুল ইসলাম নামের এক সচেতন অভিভাকপ্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ইউএনও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে যোগাযোগকরে ওই শিক্ষার বিরুদ্দে অভিযোগ দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষিকা পারভীন বেগম ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা, স্লিপের ৫০.০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকা, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী সজ্জিত করনের ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা এবং স্থানীয় জনসাধারণের তহবিলহতে ১১,০০০/- (এগার হাজার) টাকা, মোট ২,২১,০০০/- (দুইলক্ষ একুশ হাজা) টাকা উত্তোলন করেন।

সমুদয় টাকা উত্তোলনের পর প্রধান শিক্ষিকা কারো সাথে কোন প্রকার পরামর্শ না করে নিজের ইচ্ছেমত যত সামান্য কাজ করে পূর্ণাঙ্গ টাকার ভাউচার তৈরী করে বিলভাউচার শিক্ষা অফিসে জমা দেন এবং বাকীটাকা আত্মসাত করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির(এসএমসি) এক সদস্য জানান, “কিছুদিন আগে বিদ্যালয় মেরামতের জন্য সরকারি তহবীল হতে দেড়লক্ষ টাকার বরাদ্দ আসে। বিদ্যালয় ভবণ, মাঠ ও টয়লেটসহ সংস্কারের অনেক কাজ থাকলেও প্রধান শিক্ষিকা ক্ষমতার জোর দেখিয়ে মাত্র বিশ-পঁচিশ হাজার টাকার বিদ্যালয়ের মেরামতি (রঙের) কাজ করেন।

স্লিপ পরিকল্পনা অনুযায়ী কোন প্রকার কাজই বিদ্যালয়ে হয়নি। এছাড়াও, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীকক্ষ সজ্জিত করনে জোর গুরুত্ব থাকলেও তা তিনি করেনি। এমনকি শিশুদের জন্য নতুন খেলনা কেনার কথা থাকলেও পুরোনো ভাংগা খেলনা দিয়েই চালাচ্ছেন শিশু শেণ্রী।

বরাদ্দের খরচের হিসাব-নিকাশ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বারবার গড়িমসি করে সময় ক্ষেপন করছেন।” ওই বিদ্যালয়ের এক শিশুর অভিভাবক শফিকুল ইসলাম জানান,“প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই অভিভাকদের সাথে কোন সমন্বয় করেন না। কোন অভিভাবক তার ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে অফিসে গেলে তিনি সৌজন্যমূলক আচরন পর্যন্ত করেন না।

প্রধান শিক্ষিকার এমন আচরনে অনেক অভিভাবকই ক্ষুব্ধ বলেন তিনি।”অভিযোগের ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকা পারভীন বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমারবিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। একটি কুচক্রী মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব কাজ করছে।”

বিদ্যালয়ের এসএমসির সভাপতি আব্দুল হাই বাবুর কাছে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়গুলো জানতে চইলে তা কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি।

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়া মারীয়া পেরেরা জানান,“অভিযোগ পাওয়া গেছে। শীঘ্রই সরেজমিনে তদন্ত করা হবে এবংতদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মিললে ওই প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স/শাহা

নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর