বুধবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৬   ০২ রজব ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
১৬১৩

নওগাঁ ১১ জনের ডেঙ্গু সনাক্ত, ৮ জন চিকিৎসাধীন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০১৯  

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

নওগাঁয় ১১জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। বাঁকী তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সিফাইত জান্নাত তিথি। নওগাঁ সদর উপজেলা চাকলা বক্তারপুরে বাড়ি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্হস্থ অর্থনীতি বিভাগে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

হঠাৎ করে গত ২৭ জুলাই গায়ে জ্বর, শরীর ও মাথা ব্যথা এবং সাথে বমি। এরপর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে ডেঙ্গু। ঢাকার কেয়ার মেডিকেলে জায়গা সংকুলান না হওয়ার গত ২৯ জুলাই বাড়িতে এসে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসায় হাসপাতাল থেকে স্যালাইন ও প্যারাসিটামল দেয়া হচ্ছে। মাঝে মধ্যে বমি হচ্ছে। সাথে ১০৪ ডিগ্রি উপর জ্বর।

সিফাইত জান্নাতের মতো নওগাঁয় ১১জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৬জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলা/নারী। যারা ঢাকাতে কেউ পড়াশুনা করছে আবার কেউ আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তদের হাসপাতালে আলাদা ভাবে রাখা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে। রোগীদের আলাদা ঘরে রেখে মোশাড়ি মধ্যে রাখা হয়েছে। গত ২৭ জুলাই নওগাঁ সদর হাসপাতালে সদর উপজেলার তিলকপুর গ্রামের সুখি আক্তার (২০) নামে ছাত্রী ডেঙ্গু রোগ নিয়ে ভর্তি হয়। সেদিনই তাকে উন্নত চিকিৎসার নওগাঁ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে ৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া ৩ জনের অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাদের রামেকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী সিফাইত জান্নাত তিথি বলেন, যা খাচ্ছি তা বমি হয়ে বেরিয়ে আসছে। গায়ে প্রচন্ড জ্বর, কমছে না। চিকিৎসা চলছে। উন্নতির কিছুই বুঝতে পারছি না। শিক্ষার্থী মহেদী হাসান বলেন, ঢাকার মিরপুরে থাকি। ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষে পড়াশুনা করি। গত ২২ জুলাই রাত ১১টার দিকে সুস্থ মানুষ ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে নামাজ পড়তে উঠব কিন্তু শরীর ব্যথায় আর উঠতে পারছিলাম না। সময় যতই যাচ্ছে শরীর ব্যথা বাড়ছে ও জ্বর হচ্ছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষার ডেঙ্গু পজেটিভ আসছে। বাড়িতে এতে মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন অনেকটাই সুস্থ। তবে শরীর ব্যথা।

মান্দা উপজেলার তুরুগবাড়িয়া গ্রামের গৃহবধু লাইলি বেগম (৪০) বলেন, কয়েকদিন আগে ঢাকার শ্যামলীতে ভাগ্নীর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। মশা কামড় দিয়েছে বুঝতে পারিনি। তিনদিন পর শরীর ব্যাথা ও সাথে বমি। এরপর হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর পর ডেঙ্গু ধরা পড়ে। বাড়িতে এসে মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। জ্বর পড়ছে না। বমি হচ্ছে।

নওগাঁর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: রওশন আরা খানম বলেন, সারাদেশে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কোন যন্ত্র ছিলনা। ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে ‘এনএস-১ ডিভাইস’ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। পরীক্ষা পর ডেঙ্গু পজিটিভ আসায় সঠিক চিকিৎসা প্রদান হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য মূল হচ্ছে- স্যালাইন ও প্যারাসিটামল ট্যাবলেট। আমাদের পর্যন্ত পরিমান ওষধ আছে। তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু মশা সাধারন পরিস্কার পানিতে জন্মে থাকে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে না থাকে এজন্য সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর