মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৫ ১৪২৬   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
৯৪

নওগাঁর সর্ববৃহৎ আমের বাজার সাপাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০১৯  

নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায় বিভিন্ন জাতের আমের কেনা-বেচায় প্রায় ২ শতাধিক আমের সবোর্চ্চ আড়তে গড়ে উঠেছে সর্ববৃহৎ আমের বাজার। বাংলাদেশের মধ্যে নাম করা সাপাহার উপজেলার আমের রাজার খুবই সুস্বাদু জাতের আম সাপাহার উপজেলার আম্রপালী আম বাজারে না আসতেই হাজার হাজার মণ আম কেনা-বেচা হচ্ছে এই আম বাজারে।হয়তোবা কয়েক বছরের মধ্যে দেশের মধ্যে আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত অর্জন করবে বরেন্দ্র অঞ্চলের এই সাপাহার উপজেলা।

ইতোমধ্যে সাপাহার উপজেলার আমের রাজা রুপালী বা আম্রপালী বাজারে উঠতে আরো কিছুদিন দেরি, বাজরে এখন গোপালভোগ, হিমসাগর, নেংড়া ও গুটি জাতের আম উঠেছে। 

সাপাহার উপজেলা সদরের মেইন রাস্তার দু’পার্শ্বে জয়পুর হতে গোডাউনপাড়া পর্যন্ত দেড়, দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আমের আড়ত ঘরে ভরে গেছে।

রাজধানী ঢাকা বরিশাল,নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লাসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে শত শত আম ব্যাবসায়ী সাপাহারে এসে আমের আড়ত খুলে বসেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মন আম কেনা-বেচা হচ্ছে এসব আড়তে।

বর্তমানে বাজারে যে পরিমান আম কেনা-বেচা হচ্ছে রুপালী আম বাজরে নামলে এর চিত্র অনেকটাই পাল্টে যাবে।

নওগাঁ জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ আমের বাজার এখন সাপাহার উপজেলায়। তাই আমে যাতে কোন প্রকার কেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ মেশানো হয় না, বাংলাদেশে সকল স্থানে সাপাহার উপজেলার  আমের সুনাম আছে। এজন্য আম বাজার সমিতির মিটিংয়ে সকল আড়তদারদের বলা হয়েছে বলে আম ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি শ্রী কার্তিক শাহা, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল, মাহফুজুর রহমান বাবু চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত হোসেন জানিয়েছেন এবং আম বাজারজাত করে যানজটের সৃষ্টি না হয় সে জন্য প্রতিদিন পুলিশ প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করে চলেছে।

উপজেলার কৃষকরা এবারে ধানের আবাদে মূল্য বিভ্রাটে কিছুটা হিমশিম খেলেও আমের বাজার ভাল থাকায় ধানের ক্ষতি কিছুটা হলেও আমে পুশিয়ে নিতে পারবে বলে একাধীক আমবাগান মালিক জানিয়েছেন। 

এবিষয়ে উপজেলা সদরের বাগান মালিক সাইদুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এবারে ধান চাষ করে উপজেলার অনেকেই নিঃস্ব তবে আমাদের আম বাগান থাকায় ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে হয়তোবা।

বর্তমানে আমের বাজার দর অনেকটাই আম চাষীদের অনুকুলে। বাজারে এখন প্রতিমন নেংড়া আম বিক্রি হচ্ছে ১৬'শ থেকে ২হাজার টাকা দরে। গোপালভোগ ও হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ২হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে। বর্তমান আমের বাজার হিসেবে রুপালী আম ৩হাজার টাকার উপরে থাকবে। এবার প্রায় ১ কোটি টাকার আম কেনা বেচা হবে বলে বাগান মালিক ও আম ব্যাবসায়ীগণ জানিয়েছেন। 

উপজেলা কৃষি অফিসার মজিবর রহমান জানান, সাপাহারে প্রায় ৫হাজার হেক্টোর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১৭মেট্রিক টন আম উৎপাদন হিসেবে সারা সাপাহারে এবারে ৮০ থেকে ৯০হাজার মেট্রিক টন আমের উৎপাদন হবে। বর্তমানে বাজারে প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাজার মেট্রিক টন আম কেনা বেচা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

আম বাজার সর্ম্পকে উপজেলা নিবার্হী অফিসার কল্যাণ চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, কৃষক যাতে তাদের আম বাজারে বিক্রি করতে কোন বিড়ম্বনায় না পড়ে তাই আমি বাজার পরিদর্শন করেছি এবং কোন প্রকার অভিযোগ পাইনি। আমের বাজার ঠিক আছে তবে কেউ যদি কোন বিষয়ে অভিযোগ করে তাহলে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর