ব্রেকিং:
নওগাঁয় ১৫টি সাউন্ড বোমা, ৯টি ককটেল ও জিহাদী বইসহ ৬ শিবির ক্যাডার গ্রেফতার

সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৮ ১৪২৬   ১৪ সফর ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
পত্নীতলায় আদিবাসী প্রেমিক যুগলের লাশ উদ্ধার চাকুরির প্রলোভনে মান্দার মেয়েকে ঢাকায় ধর্ষণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়া বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার গাঙচিল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধামইরহাটে মাদক সেবনের দায়ে ৬ জনের জেল ও জরিমানা আত্রাইয়ে ডেঙ্গু সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপাহারে পরিস্কার অভিযান সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত আত্রাই থানা পুলিশের অভিযানে ৯জন আটক গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে নিয়ামতপুরে আলোচনা সভা সাপাহারের করল্যা চাষে বিপ্লব
৭৩২

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  

সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। ইশতেহারে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দলটি। বিশেষ অঙ্গীকারের প্রথম দুটি হলো প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ এবং তরুণ-যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। এবার ইশতেহারে এ দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের ইশতেহার ঘোষণা করেন। ওই সময় তিনি লিখিত বক্তব্যে দল ও সরকারের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে তিনি বিগত সময়ের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন।

গতকাল সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ইশতেহার পাঠ শুরু করেন। প্রায় ৫০ মিনিটের লিখিত বক্তব্যে শেখ হাসিনা ৮০ পৃষ্ঠার ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরেন। ইশতেহারের শুরুতেই ২১ বিশেষ অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এ অঙ্গীকারগুলো হলো—আমার গ্রাম, আমার শহর : প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ; তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি : তরুণ-যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর; কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা; দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ; নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশু কল্যাণ; পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা; সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল; মেগা প্রজেক্টগুলোর দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন; গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা; দারিদ্র্য নির্মূল; সব স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি; সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি; সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা; সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা; আধুনিক কৃষিব্যবস্থার লক্ষ্য যান্ত্রিকীকরণ; দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন; জনবান্ধব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা; ব্লু-ইকোনমি—সমুদ্রসম্পদ উন্নয়ন; নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা; প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অটিজম কল্যাণ এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন।

ইশতেহার ঘোষণাকালে লিখিত বক্তব্যে টানা দুইবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নিজে এবং দলের পক্ষ থেকে আমাদের যদি কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে, সেগুলো ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখার জন্য দেশবাসী আপনাদের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি কথা দিচ্ছি, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরো সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করব।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করি। আমাদের এবারের অঙ্গীকার, আমরা টেকসই বিনিয়োগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করব। এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণ কিছু পায়, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির সকল সুযোগ এবং সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।’

‘নৌকায় ভোট দিন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জন করে দেব’ : স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপনের সময় আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তি এ সময় ক্ষমতায় থাকলে, তা হবে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গ্লানিকর। তাই দেশবাসীর প্রতি আমার আকুল আবেদন, আগামী ৩০ তারিখে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করুন। আপনারা নৌকায় ভোট দিন, আমরা আপনাদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জন করে দেব, এটা আমাদের জাতির কাছে ওয়াদা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিভেদ, হানাহানি, জ্বালাও-পোড়াও, অগ্নিসন্ত্রাস, অবরোধ বিশৃঙ্খলার রাজনীতি চাই না। চাই গণতান্ত্রিক পরিবেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এ নির্বাচনে আমরা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে আগামী পাঁচ বছর যেসব লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সেগুলো তুলে ধরা হয় ইশতেহারে। একই সঙ্গে ১০ বছরে সরকারের অর্জনগুলোও উল্লেখ করা হয়। ইশতেহারে বিভিন্ন উপশিরোনামে তুলে ধরা হয় লক্ষ্য ও পরিকল্পনাগুলো।

গণতন্ত্র, নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ : ইশতেহারে বলা হয়, ‘বিগত ১০ বছরে জাতীয় সংসদই ছিল সব রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের চলমান প্রক্রিয়াকে আরো জোরদার করব। সংসদকে আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, গণমাধ্যম, বিচার বিভাগকে আরো শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা : এই উপশিরোনামে বলা হয়, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা লাভের সুযোগ-সুবিধা অবারিত করা হবে। সর্বজনীন মানবাধিকার সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে কোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় সরকার—জনগণের ক্ষমতায়ন : এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়ে জেলাভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন করা হবে। বিভিন্ন স্তরে স্থানীয় সরকারের জন্য বাজেট প্রণয়ন করা হবে। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে দায়িত্ব বিভাজন সুনির্দিষ্ট করা হবে।

দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন : এই উপশিরোনামে বলা হয়, একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, দুর্নীতিমুক্ত দেশপ্রেমিক গণমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ন্যায়পরায়ণতা এবং জনসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে।

জনবান্ধব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তোলা : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে জনমনে যে ভীতি বিরাজ করে তা দূর করে একটি জনবান্ধব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার। আগামী পাঁচ বছরে প্রয়োজনীয়সংখ্যক জনবল পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নিয়োগ করা হবে। সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কারের কাজ আগামী দিনে অব্যাহত থাকবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ : এই উপশিরোনামে বলা হয়, ‘দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও আইনের প্রয়োগ মুখ্য হলেও তা শুধু সরকারের দায় নয়, জনগণেরও দায় রয়েছে। আমরা মনে করি, দুর্নীতি দমনে প্রয়োজন সরকার ও জনগণের সমন্বিত পদক্ষেপ। দুর্নীতি দমন কমিশনকে কর্মপরিবেশ ও দক্ষতার দিক থেকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে।’

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মাদক নির্মূল : এ প্রসঙ্গে বলা হয়, আগামী দিনে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি অর্থায়নে সংশোধনাগারের সংখ্যা বাড়ানো হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

উচ্চ আয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন : এ প্রসঙ্গে দলটির অঙ্গীকার হলো—আগামী পাঁচ বছরে জিডিপি ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনকালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে পাঁচ হাজার ৪৭৯ ডলারের বেশি। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে। দারিদ্র্যের হার নেমে আসবে শূন্যের কোটায়।

অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ প্রকল্প : দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ১০টি মেগা প্রকল্প। এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ দৃঢ়সংকল্প। অবকাঠামো রূপান্তরের লক্ষ্যে বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করে ইশতেহারে বলা হয়েছে, পদ্মা রেলসেতু সংযোগ এবং কক্সবাজার-দোহাজারী-রামু-ঘুনধুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ত্বরান্বিত করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বুলেট ট্রেন চালু করা হবে। এক ঘণ্টায় চট্টগ্রাম পৌঁছানো যাবে। পর্যায়ক্রমে সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, খুলনা ও কলকাতা পর্যন্ত বুলেট ট্রেন সম্প্রসারণ করা হবে। মাতারবাড়ী কয়লা বন্দর, ভোলা গ্যাস পাইপলাইন ও উপকূলীয় অঞ্চলে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ : এ উপশিরোনামে বলা হয়েছে, সরকার প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে। উন্নত রাস্তাঘাট, যোগাযোগ, সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুচিকিৎসা, মানসম্পন্ন শিক্ষা, উন্নত পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, কম্পিউটার ও দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মানসম্পন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামকে আধুনিক শহরের সব সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রামে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ আরো বাড়ানো ও নির্ভরযোগ্য করার লক্ষ্যে গ্রুপ ভিত্তিতে বায়োগ্যাস প্লান্ট ও সৌরশক্তি প্যানেল বসানোর উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া হবে।

‘তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ : এ উপশিরোনামে বলা হয়েছে, একটি সুচিন্তিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে জাতীয় যুবনীতি পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। তরুণদের কল্যাণ ও উন্নয়নকাজে প্রশাসনিক গতি আনতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় গঠন করা হবে পৃথক যুব বিভাগ। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রসারিত করা হবে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে মেধা ও দক্ষতা বিবেচনায় রেখে বাস্তবতার নিরীখে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় ‘যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন করা হবে। বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি এই কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে ‘তরুণ কর্মসংস্থান কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

জাতীয় পর্যায়ে স্বল্প, মধ্যম ও উচ্চশিক্ষিত তরুণদের তথ্যসংবলিত একটি ইন্টিগ্রেটেড ডাটাবেইস তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজন ও তরুণদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির জন্য আবেদন করার আহ্বান জানাতে পারবে। কর্মসংস্থানে কৃষি, শিল্প ও সেবার অংশ যথাক্রমে ৩০, ২৫ ও ৪৫ শতাংশে পরিবর্তন করা হবে। ২০২৩ সাল নাগাদ অতিরিক্ত এক কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। এ ছাড়া ওই সময়ে নতুনভাবে এক কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার মানুষ শ্রমশক্তিতে যুক্ত হবে।

এ ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন; দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস; কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি : খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে নিশ্চয়তা; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি; শিল্প উন্নয়ন, শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রমনীতি; শিক্ষা; স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ; যোগাযোগ; ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণ : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি; সমুদ্র বিজয় : ব্লু ইকোনমি—উন্নয়নের নতুন দিগন্ত; জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা; শিশু কল্যাণ; প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ কল্যাণ; মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন; ধর্ম ও সংস্কৃতি; ক্রীড়া; ক্ষুদ্র, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অনুন্নত সম্প্রদায়; গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ; প্রতিরক্ষা : নিরাপত্তা সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা সুরক্ষা; পররাষ্ট্র; এনজিও; এমডিজি অর্জন এবং এসডিজি বাস্তবায়ন কৌশল; বদ্বীপ বা ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ উপশিরোনামে আওয়ামী লীগ নানা লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে আওয়ামী লীগ শাসনমালের উন্নয়নের বিবরণ তুলে ধরা হয় তথ্যচিত্রের মাধ্যমে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে মঞ্চে উঠে ইশতেহার ঘোষণা শুরু করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, কূটনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও খ্যাতিমান চলচ্চিত্র তারকারা উপস্থিত ছিলেন।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর