ব্রেকিং:
পোরশার হাপানিয়া সীমান্ত থেকে সাত বাংলাদেশীকে আটক করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ

বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
ধামইরহাটের আগ্রাদ্বিগুন বাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ পুলিশ নিহত ধামইরহাটের গকুল গ্রাম থেকে গলায় ফাঁশ দেওয়া এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ পত্নীতলায় আদিবাসী প্রেমিক যুগলের লাশ উদ্ধার চাকুরির প্রলোভনে মান্দার মেয়েকে ঢাকায় ধর্ষণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়া বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার গাঙচিল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধামইরহাটে মাদক সেবনের দায়ে ৬ জনের জেল ও জরিমানা আত্রাইয়ে ডেঙ্গু সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপাহারে পরিস্কার অভিযান সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত আত্রাই থানা পুলিশের অভিযানে ৯জন আটক গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে নিয়ামতপুরে আলোচনা সভা সাপাহারের করল্যা চাষে বিপ্লব
১১০৮

ঠিকাদারদের অবহেলায় রাজশাহী-নওগাঁ সড়কে ভোগান্তি চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০১৯  

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় উত্তরাঞ্চলের ব্যস্ততম রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়ক নির্মাণ কাজের ঠিকাকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কন্সট্রাকশনের উদাসিনতার কারণেই এই জনভোগান্তি বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যস্ততম এই আঞ্চলিক মহাসড়কটির রাজশাহীর অংশের ২১ কিলোমিটার সম্প্রসারণ কাজ তিনটি প্যাকেজের মধ্যে দুটির কাজ পায় ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন। এর মধ্যে প্যাকেজ-১০ এর অধীনে সাড়ে ৫কিলোমিটার রাস্তার কাজ ২৭ কোটি টাকায় এবং প্যাকেজ-১১ এর অধীনে ৮কিলোমিটার রাস্তার কাজ ৩৯ কোটি টাকায়। প্যাকেজ-১২ তে ৮কিলোমিটার রাস্তার কাজ ৩৯ কোটি টাকায় পান আমিনুল হক প্রাইভেট কোম্পানির আমিনুল হক ওরফে মনির হোসেন। 

অভিযোগ রয়েছে ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন তাদের দুটি প্যাকেজই বিক্রি করে দিয়েছেন মঞ্জুর রহমান পিটার নামের এক পরিবহন ব্যবসায়ীর কাছে। কাজে অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি কাজটি করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া তিনি যেটুকু কাজ করেছেন তাও খুবই নিম্নমানের বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাদের অভিযোগ, শুষ্কমৌসুমে কাজটি করা হয়নি। উল্টো দুই মাস আগে মোহনপুরের মৌগাছি থেকে কামারপাড়া পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের পুরনো কার্পেট তুলে ফেলে রাস্তার দুপাশে জমা করে রাখেন ঠিকাদার।

এতে করে পানি নিস্কাশনের জায়গা না পেয়ে রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে হাটুপানি হয়ে যাচ্ছে। এর উপর দিয়ে বাস চলতে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বর্তমানে একেবারেই যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। তারপরও এই সড়কে যান চলতে গিয়ে প্রায়ই গর্তে আটকে যাচ্ছে। যানবাহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনাও। এরফলে হুমকির মুখে পড়ছে পথচারীসহ স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও। 

কেশরহাট বাজারের রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক সংলগ্ন ভ্যাটেনারী ওষুধ ব্যবসায়ি শফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটির নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে হওয়ার পাশাপাশি কার্পেটিং তুলে রাখার জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ার কারণে যানবাহন উল্টে যাচ্ছে। ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে যেতে পারছেনা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। 
কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ বলেন, মহাসড়কটির কাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি। রাস্তাটির কার্পেটিং তুলে সড়কে রাখার ফলে পানি নিস্কাশন না হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণেই মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাস্তাটির কাজের মেয়াদ শেষ হবে আগামী নভেম্বর মাসে। ঠিকাদারের হাতে কিছুটা সময় থাকলেও বর্তমানে টানা বৃষ্টির কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। তাছাড়া এখন কাজ করলেও তা টিকবে না। এঅবস্থায় বর্ষাকালের আগে কাজটি শেষ না করার ফলে এই ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজশাহী ও নওগাঁসহ উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ একটি জনগোষ্টি। তারা অভিযোগ করেন, দুটির জেলার সীমানার মধ্যে থাকা ৬৬ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে রাজশাহীর অংশ মাত্র ২১ কিলোমিটার। শুধু এই অংশের কাজ এখনো শেষ হয়নি। নওগাঁ অংশের রাস্তার সব কাজই বর্ষার আগে শেষ হয়ে গেছে।

এবিষয়ে ওয়াহিদ কন্সট্রাকশনের মালিক ওয়াহেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কাজটির ক্রেতা পরিবহন ব্যবসায়ী মঞ্জুর রহমান পিটার বলেন, তাদের কাজ চলছে। বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে থেমে থাকছে। তবে আমাদের হাতে এখনো সময় আছে আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত। আবহাওয়া সাতদিন ভালো থাকলেই কাজটি শেষ করতে পারবো। পিটার আরো বলেন, কাজটি তিনি কিনে নেননি। ওয়াহেদুল ইসলামের পক্ষ থেকে তিনি করছেন মাত্র। ওয়াহেদুল ইসলাম কারো ফোন ধরেন না বলে তিনি তার ফোন নম্বরটিও দিতে রাজি হননি।

আমিনুল হক ওরফে মনির হোসেন বলেন, আমাদের কাজের আদেশ পেয়েছি সবার পরে। তারপরও যথাসময়েই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজটি শেষ হবে। তিনি বলেন, রাস্তার কার্পেট তুলেছিলাম দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য, কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাজ করতে পারছি না।

এবিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাজশাহীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইউনুস আলী বলেন, ধীরগতিতে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে বলে তার কাছে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। তবে বৃষ্টির কারণেই কাজ এগুচ্ছে না। বৃষ্টিতে কাজ টিকবে না বলে ঠিকাদাররা বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করছেন।
 

স/নু

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর