মঙ্গলবার   ২১ মে ২০১৯   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৬   ১৬ রমজান ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
৩৪৮৪

খাদ্য মন্ত্রীর মেয়ে জামাতার মৃত্যু এবং একটি বিশেষ সিন্ডিকেট

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০১৯  

খাদ্য মন্ত্রীর মেয়ে জামাতার মৃত্যু এবং একটি বিশেষ সিন্ডিকেট

আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ। আজকে আমরা যদি এক যুগে আগের বাংলাদেশ আর বর্তমান সময়ের বাংলাদেশের কথা চিন্তা করি তাহলে সব দিক থেকে নিজেদের অনেকে উন্নত এবং সমৃদ্ধ অবস্থায় দেখতে পারি। আমরা বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি, ট্র্যাফিক জ্যাম মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছি, স্বপ্ন দেখি ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তোলার, এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যখনই কেউ দেশের একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র দুর্নীতিমুক্ত করে ওই ক্ষেত্রটিকে উন্নত এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় তখনই তার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট কিংবা মাফিয়া গ্রুপ ষড়যন্ত্র শুরু করে। এমনই ঘটনা ঘটছে আমাদের বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী নওগাঁ- আসনের সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদারের বিরুদ্ধে। যিনি মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব নিয়েই স্বপ্ন দেখিয়েছেন উক্ত মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি মুক্ত করে দেশকে খাদ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ করার। স্বপ্ন দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার।

গত শনিবার রাত ৩টায় হঠাৎ করেই খাদ্যমন্ত্রীর মেয়ে কৃষ্ণা মজুমদারের জামাতা ডাক্তার রাজন কর্মকার হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে সাথে সাথে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগের কথা উল্লেখ করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। স্কয়ার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকসূত্রে জানা গেছে হৃদরোগে আক্রন্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া রাজন কর্মকারের শরীরে কোনো আঘাত বা জখমের প্রমাণ কিংবা কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যে কারণে রাজন কর্মকারের মৃত্যর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

উল্লেখ্য গত শনিবার রাজনের মৃত্যুর পর তার মৃত্যু নিয়ে সাথে সাথে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। একাধিক ডাক্তার তার মরদেহ দেখে এসে তার মৃত্যুকে হৃদরোগ জনিত বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পরদিন বেলা বাড়ার সাথে তার মৃত্যকে ঘিরে নানা ধরণের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। রাজন কর্মকারের মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যেতে সক্রিয় হয়ে ওঠে সেই মাফিয়া বা সিন্ডিকেট গ্রুপ।

আমরা জানি সাধন চন্দ্র মজুমদার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো  টলারেন্স ঘোষণা করেন এবং খাদ্যের মান নিশ্চিত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন। পাশপাশি দেশে অতিরিক্ত খাদ্য গোদাম নির্মাণ, ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধ করতে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ রাখেন, যার ফলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম কিংবা শত কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যায় একটি বিশেষ সিন্ডিকেট অন্যায় ভাবে এবং অবৈধ উপায়ে টাকা উপার্জন করতে ব্যর্থ হয়।

মেয়ে জামাতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সাধন চন্দ্র মজুমদারের বাসায় যখন শোকের মাতম চলছে, তিনি নিজেও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তার মেয়ে ঘরের প্রতিটি কোণে তার প্রিয় মানুষটিকে খুঁজে বেড়াচ্ছে ঠিক সেই সময়ে এটিকে ভিন্নরূপ দেয়ার জন্য বিকৃত মানসিকতার কিছু কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে আছে।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর