• বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৫ ১৪২৬

  • || ১৪ শা'বান ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
২৪

কৌশল নিয়ে এলোমেলো বিএনপি, নেই ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও!

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২০  

ঈদ আসে, ঈদ যায়। তবুও সাংগঠনিক ভঙ্গুরতায় রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করতে পারে না বিএনপির হাইকমান্ড। উপরন্তু দলভ্যন্তরে বাড়ছে দলীয় বিভক্তি-কোন্দল। যারই ফলশ্রুতিতে অদ্যাবধি অনুষ্ঠিত সবগুলো নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে দলটির।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের গভীর অহংবোধে একাধিক খণ্ডে বিভক্ত বিএনপি। একপক্ষ লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে, অন্যপক্ষটি দুর্নীতির মামলায় কারান্তরীণ দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির অপেক্ষায়। তাদের যাঁতাকলে পড়ে বিভ্রান্ত তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

সূত্র বলছে, দুই বছরেরও অধিক সময় ধরে দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাভ্যন্তরে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও দলের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দল পুনর্গঠন কিংবা খালেদার কারামুক্তিতে কোনরূপ ভূমিকা রাখতে পারেননি। উপরন্তু ব্যস্ত হয়েছেন পদ-মনোনয়ন বাণিজ্যে। ফলশ্রুতিতে অর্থ ও নারী মনোরঞ্জনের বদৌলতে তারেককে ‘খুশি’ রাখতে পারা অযোগ্য-অজনপ্রিয়-অদক্ষ ও মাঠের রাজনীতিতে পুরোপুরিভাবে অনভিজ্ঞদের পকেটে যাচ্ছে বিভিন্ন নির্বাচনের মনোনয়ন কার্ড। বঞ্চিত হচ্ছেন দলের দুর্দিনে মাঠে থাকা নেতাকর্মীরা। কিন্তু এতে ভ্রুক্ষেপ নেই তারেক রহমানের। এজন্য দলের অভ্যন্তরে একটি কথা প্রচলিত হয়েছে, ‘যার অর্থের জোর যত বেশি, তারেক রহমান করে ভারী তার পেশী’।

এদিকে বিএনপি ঘনিষ্ঠ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, তারেক রহমানের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের ফলে দলে দিন দিন কোন্দল-বিভক্তি প্রকাশ্য হচ্ছে। তবে এসব থেকে উত্তরণে নেই দলীয় কোন রাজনৈতিক কৌশল। এমনকি দলে ‘একে-অপরকে না মানা’র কারণে নীতি-নির্ধারকরা কোন সিদ্ধান্তেও পৌঁছতে পারছেন না। দলের অনাগত দিনের কর্মকৌশল নির্ধারণেও হচ্ছেন ব্যর্থ।

বিএনপির নীতি-নির্ধারক মহল বলছে, লন্ডনস্থ তারেক রহমানের একক ইচ্ছায় বিএনপি চলছে। তিনি একদিকে গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্কাইপেতে যুক্ত হচ্ছেন। আবার প্রায় দিনই স্কাইপেতে কথা বলছেন নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে। তবে দলের সাংগঠনিক বেশির ভাগ কাজই তিনি অন্যদের পাশ কাটিয়ে করাচ্ছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে দিয়ে। যা সিংহভাগ সময়ই স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে দলে আলাদা দুটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ একে আগের হাওয়া ভবনের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের ভাষ্য, দলে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য তারেক এমন দ্বিমুখী কৌশল বেছে নিয়েছেন। এর ফলে দলের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তার দীর্ঘ দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ভুল বোঝাবুঝিও। এমতাবস্থায় নড়বড়ে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা শূন্য বলে মন্তব্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশিষ্টজনরা বলছেন, মাঠের রাজনীতিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ দল বিএনপি এখন তার অতীত কর্মের ফল ভোগ করছে। তাদের পাপের পাল্লা এতোটাই ভারী যে, তারা দিশেহারা হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয়। কেন্দ্রীয় কমিটিসহ তৃণমূলের সর্বত্র হতাশা বিরাজ করছে। এ কারণে তাদের রাজনৈতিক কোন কৌশল নেই। নেই দলীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোরও বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা। এসব বিবেচনা করেই তারা নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে অনলাইন-অফলাইনে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তবে সুবিধা করে উঠতে পারছে না, সরকারের সুদক্ষ ও সুচতুর বুদ্ধিমত্তার কাছে।

নওগাঁ দর্পন
রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর