সোমবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
১১০

কাশ্মীর সংকট আবারও পরমাণু যুদ্ধে গড়াবে: ইমরান খান

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

কাশ্মীর সংকট পরমাণু যুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এজন্য এ সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইমরান বলেন, আমি নিশ্চিত দুটি পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যদি যুদ্ধ হয় তা পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহারের দিকেই যাবে। এতে পুরো বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরাকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন হুশিয়ারি দেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

ইমরান খান বলেন, কাশ্মীর পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাকিস্তানের হাতে সীমিত বিকল্প রয়েছে। আন্তর্জাতিক সব সম্প্রদায়, বিশেষ করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত জাতিসংঘর কাছে যাওয়া ছাড়া আমাদের বেশি কিছু করার নেই। জাতিসংঘ, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর কাছে কাশ্মীর সংকট তুলে ধরা হয়েছে।

৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর বৈশ্বিক জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখতে না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন ইমরান খান।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হল এ পুরো বিষয়টি ঘটছে একটি বিশাল বাজারের জন্য। কিছু কিছু দেশ আছে যারা বড় বাজারের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারা ভারতকে এক বিলিয়ন মানুষের একটি বাজার হিসেবে দেখে। কিন্তু তারা বোঝে না যে, এ মুহূর্তে যদি সেখানে হস্তক্ষেপ না করা হয়, তাহলে এটি শুধু এ উপমহাদেশের বিপর্যয় ডেকে আনবে না; বরং প্রত্যেকেই আক্রান্ত হবে।

পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী দেশের মাঝে আকস্মিক পরমাণু যুদ্ধ বাধতে পারে বলে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশির মন্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইমরান খান বলেন, একেবারে সত্য। কাশ্মীরে কম কিংবা বেশি হারে হলেও গণহত্যা চালাচ্ছে ভারত। সেখানে মানুষের ওপর জাতিগত হামলা হচ্ছে। আমি মনে করি, জার্মান নাৎসি শাসনের পর এ ধরনের হামলা দেখা যায়নি।

পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে কাশ্মীরের ৮০ লাখ মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন পার করছেন। যে কারণে এটি পাক-ভারত সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে। কারণ সেখানে অবৈধ দখলদারিত্ব ও গণহত্যা পরিচালনা করছে ভারত। আর এটি থেকে বিশ্বের নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে তারা।

ইমরান বলেন, ‘তারা সন্ত্রাসবাদের জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের আধা-সামরিক পুলিশ বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলার পর একই ধরনের কাজ করেছিল নয়াদিল্লি। তারা এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং আমাদের ওপর বোমা বর্ষণ করে।’

পাকিস্তান আক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রথমে পারমাণবিক হামলার নীতির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই। আমি আগেও বলেছি যে, পাকিস্তান কখনও যুদ্ধ শুরু করবে না।

এ ব্যাপারে আমার অবস্থান পরিষ্কার। আমি শান্তিকামী, যুদ্ধবিরোধী। কিন্তু আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, যখন পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুটি প্রতিবেশী দেশ যুদ্ধ করে... যদি এটি প্রচলিত যুদ্ধও হয়, তাহলে এর শেষ হতে পারে পারমাণবিক যুদ্ধের মাধ্যমে। আল্লাহ না করুন, আমরা যদি যুদ্ধে হারের পর্যায়ে পৌঁছে যাই, তখন আমাদের কাছে দুটো রাস্তা খোলা থাকবে। হয় আত্মসমর্পণ করা, নইলে নিজেদের মৃত্যু পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা। আমরা অবশ্যই শেষটা বেছে নেব।’

নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর