ব্রেকিং:
নওগাঁর মহাদেবপুরে বিএনপির সম্মেলনে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০, আটক ৫

শুক্রবার   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৯ ১৪২৬   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েটের ২৬ জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার ও ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বুয়েটে প্রশাসন
৭৩

একলা পথে বিএনপি, শীতলঘরে দুই জোট

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০১৯  

দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও পুনঃনির্বাচনের দাবিতে বিএনপি বর্তমানে বিভাগীয় শহরে সমাবেশ কর্মসূচি পালন করছে। তবে এসব কর্মসূচি পালনে দলটি ২০ দল বা ঐক্যফ্রন্টকে সঙ্গে রাখেনি। দুই জোটকে নিয়ে নানামুখি জটিলতা তৈরি হওয়ায় এককভাবে কর্মসূচি পালনের কৌশল নিয়েছে বিএনপি।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এক সময় জোট গঠন করে ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনেও একই কৌশলে সাফল্য আশা করেছিল। এ কারণেই একই সঙ্গে ২০ দলীয় জোট আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছিল দলটি। নির্বাচনে ভরাডুবিতে বিএনপির নীতি নির্ধারকদের জোটপ্রীতিতে ধস নেমেছে। শীর্ষনেতাদের অনেকেই এখন দুই জোটকে বোঝা বলে মনে করে শীতলঘরে রাখতে চান।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বড় শরিক জামায়াতের শক্তি সরকারের রোষানালে খর্ব হয়ে পড়ায় এটি নিয়ে এখন অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। ভেতরে ভেতরে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের উপর কর্তৃত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলেও দীর্ঘদিনের এই জোটকে নিয়ে কোনো কর্মসূচিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। অন্যদিকে নির্বাচনের সফলতায় আশায় গড়ে তোলা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতাদের প্রতি বিএনপিতে তৈরি হয়েছে আস্থাহীনতা ও অবিশ্বাস। প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়া ঐক্যফ্রন্টকে এখন এড়িয়ে চলতে চায় বিএনপির অনেক নেতাই।

এসব কারণেই আপাতত জোটবদ্ধ কর্মসূচিতে না গিয়ে এককভাবে দলীয় কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। শীর্ষনেতার মনে করছেন, দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজুবতেই এখন তাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত। বিভাগীয় শহরগুলোতে বিএনপির চলমান কর্মসূচিতে তাই জোটসঙ্গীদের যুক্ত করা হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির এখনকার অবস্থান হলো জোট ভাঙাও নয়, আবার কার্যকর রাখাও নয়। গত ১৩ জুলাই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এককভাবে কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

এদিকে দুই জোটকে ঠাগাই বিএনপির একক কর্মসূচি পালনের কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা ও সামালোচনা। গুঞ্জন উঠেছে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল অলির আলাদা জাতীয় মুক্তি মঞ্চ গঠনের পর থেকেই একক কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির এই একলা চলো নীতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এটাকে ঠিক একলা চলোনীতি বলা যাবে না। আমাদের সিদ্ধান্ত এই প্রোগ্রামগুলো বিএনপির আয়োজনে করা। এ কারণে জোটবন্ধুদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে শরিকদের সংশ্লিষ্ট করে সমাবেশ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের শরিকদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত আছে, যার যার সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো। সাংগঠনিক শক্তি জোরদার হলেই জোট বা ফ্রন্ট আরো শক্তিশালী হবে। এখন আমরা নিজস্ব কর্মসূচি ও সংগঠনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। শরিকরা চাইলে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসূচি পালন করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, সব দলকে নিজস্ব কর্মসূচি পালন করার স্বাধীনতা দেয়া আছে। এখন বিএনপি নিজের দলীয় কর্মসূচি পালন করছে। কেউ জোটে থাকতে না চাইলে জোর করে আটকে রাখা যায় না মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সবাই নিজ নিজ আদর্শ ও বিশ্বাস থেকেই জোটে এসেছে। আবার নিজ নিজ উদ্যোগে জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। বিএনপি তো কাউকে বের করে দেয়নি

অবশ্য বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও পুননির্বাচনের দাবিতে ২০ দলকে পাশ কাটিয়ে কর্ণেল অলির আলাদা মঞ্চ করাকে ভালো চোখে দেখেনি বিএনপি। এটা রীতিমতো একটা চ্যালেঞ্জ দলের জন্য। কর্ণেল অলি কৌশলে বিএনপিকে ছোট করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন বিএনপি ব্যর্থ। এছাড়া অলির মতো জোটের অন্যদলগুলোও বিএনপির ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। আর তাদের এই চ্যালেঞ্জের জন্যই একক কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকমান্ড।

বিএনপির এককভাবে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত স্বাগত জানিয়েছেন ২০ দলীয় জোটের শরিক এনডিপির সভাপতি অলি আহমদ। তিনি বলেন, দলীয় এবং এককভাবে বিএনপির কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ খুবই ভালো। যে যার মতো কর্মসূচি পালন করলে জোটও শক্তিশালী হবে, বিএনপিও শক্তিশালী হবে। দলীয়ভাবে বিএনপির শক্তিশালী হওয়ার ও বিস্তার লাভ করার প্রয়োজনও আছে। কর্নেল অলি বলেন, সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সমাবেশ, মিটিং-মিছিল করে জনগণকে সংগঠিত করলে একসময় সরকার পুনঃনির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতেও বাধ্য হবে।

বিএনপি’র একক কর্মসূচি পালনটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, রাজনীতিতে সাংগঠনিক ভিত্তি ঠিকঠাক রাখতে সময় দিতে হৎয়। বিএনইপ এককভাবে দলীয় কর্মসূচি পালনের মধ্যে দিয়ে দলকে সংগঠিত করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এটাকে আমরা পজেটিভলি নিচ্ছি। আমরাও দলীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে নিজেদের দলকে সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে নিচ্ছি। জোটভুক্ত দলগুলো সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত হলে ঐক্যফ্রন্ট আরও শক্তিশালি হবে। পরবর্তীতৈ ঐক্যবদ্ধভাবেই ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করছেন কাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০ দলীয় জোট আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করে নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনে ভরাডুবির পরে জোটের শরিকরা বিভিন্ন অযৌক্তিক প্রশ্ন তুলছে। শরিকদেরও নিজেদের শক্তির ওপর নির্ভর করে মাঠে নামতে হবে। প্রেস ক্লাব বা কোনো এসি হলরুমে আলোচনাসভা করে তো মানুষের কাছে যাওয়া যাবে না। খুন, গুম, ধর্ষণ, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, বন্যার মতো ঘটনাগুলোয় সাধারণ মানুষ সরাসরি ভুক্তভোগী। এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাদের মানুষের কাছে যেতে হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি ও পুনঃনির্বাচনের দাবিতে ইতোমধ্যে ৮ বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করছে বিএনপি। এরমধ্যে গত ৮ জুলাই বরিশাল, ২০ জুলাই চট্টগ্রাম ও ২৫ জুলাই খুলনায় সমাবেশ করে দলটি। এসব সমাবেশে ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের রাখা হয়নি। এসব একক কর্মসূচিতে দলের নেতাকর্মীদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি আগামীদিনের আন্দোলনে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সফলতা পেতে আশাবাদী করে তুলেছে।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর