মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৫ ১৪২৬   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
২০

এই ব্রিস্টলে ফিরুক সেই ব্রিস্টলের সুখস্মৃতি!

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৯  

ব্রিস্টল বাংলাদেশের জন্য অনেক স্মৃতির এক ভেন্যু। ব্রিস্টল মানে অ্যান্ডারসনকে আউট করে মাশরাফির সেই গগনবিদারী চিৎকার। জিমি সিডন্সের নির্দেশে মাশরাফি চুপ হলেও শেষ ওভারে জনাথন ট্রটকে ফিরিয়ে দিয়ে শফিউলের মাঠ প্রদক্ষিণ কিন্তু থামানো সম্ভব হয়নি। ব্রিস্টল অর্থ স্টুয়ার্ট ব্রডকে লং অফের ওপর দিয়ে মাশরাফির আছড়ে ফেলা। ব্রিস্টল মানে বাঙালীর কাছে অনেক কিছু। ২০১০ সালে এখানেই প্রথমবার ইংল্যান্ডবধ করেছিল বাংলাদেশ। এই ব্রিস্টলেই সত্যিকার অর্থে ‘দ্য ক্যাপটেন’ হয়ে ওঠেন মাশরাফি।

নয় বছর পর আবার সেই ব্রিস্টলে বাংলাদেশ জাতীয় দল। ইংল্যান্ডকে হারানো সেই ম্যাচের পাঁচজন কিন্তু এখনো স্কোয়াডে রয়েছেন। তামিম, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফি, রুবেল। তামিম-রিয়াদরা সেদিন কিছু করতে না পারলেও সেই ম্যাচে ছয় উইকেট ভাগাভাগি করে নেন মাশরাফি-সাকিব ও রুবেল।

ব্রিস্টলের স্মতিচারণ চলছে আর সেই ম্যাচ সম্পর্কে কিছু না বললে বিষয়টা অপূর্ণ থেকে যাবে। সেবার ইংল্যান্ডে ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড-স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডে ছিল দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও কিছু প্রস্তুতি ম্যাচ।

প্রত্যাশিতভাবে ইংল্যান্ডে সিরিজে দারুণভাবে ব্যর্থ হয়। প্রাপ্তি ছিল কেবল দুই টেস্টে তামিমের টানা দুটি শতক। প্রথম ওয়ানডেতে দারুণ খেলে টাইগাররা। হারলেও সেই ম্যাচে প্রাপ্তি ছিল অনেক। নটিংহ্যামের সেই ম্যাচের ফর্মটা ব্রিস্টলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচেও দেখা যায়। ইমরুল কায়েসের ৭৬, জহুরুল ইসলামে ৪০, মাহমুদউল্লাহ ২৬ ও মাশরাফির ২২ রানে ভর করে ২৩৬ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে জনাথন ট্রটের রানও বাঁচাতে পারেনি ইংল্যান্ডকে। ৫ রানে ম্যাচটা জিতে নেয় টাইগাররা।

সেই ম্যাচে ভাগ্যদেবী পক্ষে ছিলেন বাংলাদেশের। ফিল্ডিংয়ে বেশ কয়েকটি ক্যাচ ছাড়ে ইংল্যান্ড তাছাড়া মাঠেও ইংলিশ ফিল্ডারদের বদান্যতা বাংলাদেশের পক্ষে যায়। সেই ম্যাচে আরেকটা ঘটনা ঘটেছিল। ফিল্ডিং করার সময় পায়ে ব্যাথা পান ইয়ান বেল।তাই নিজের পজিশনে ব্যাটিং করতে নামেননি তিনি। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে অ্যান্ডারসনকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর জয় নিশ্চিত ভেবে বুনো হুঙ্কার ছাড়েন মাশরাফি। ড্রেসিং রুম থেকে ইশারা দিয়ে তাকে নিবৃত্ত করেন কোচ জিমি সিডন্স। সবাইকে অবাক করে দিয়ে এগারো নম্বরে ব্যাটিং করতে আসেন ইয়ান বেল। তার রানার হিসেবে নামেন ইয়ন মরগান। তবে শেষ ওভারের তৃতীয় বলে ট্রটকে জহুরুলের ক্যাচ বানিয়ে শেষ হাসিটা হাসেন শফিউল ইসলাম।

স্মৃতিবিজরিত সেই ব্রিস্টলে আবার মাশরাফি-তামিম-সাকিবরা। প্রতিপক্ষ এবার শ্রীলংকা। শত্রুপক্ষ হিসেবে ইংল্যান্ডের তুলনায় অনেক দুর্বল শ্রীলংকার এই দলটি। ‘বুড়ো’ মালিঙ্গা নেই বড় কোনো নাম, ম্যাচ উইনার বা প্রতিপক্ষকে একাই ঘায়েল করার মতো অসাধারণ ক্রিকেটার। সম্প্রতি দ্বীপদেশটার ফর্মটাও একবারে যাচ্ছেতাই। দুই-একজন বাদে বাংলাদেশের বোলারদের পেরেশান করার মতো কেউ নেই। আবার টাইগার ব্যাটসম্যানদের যে রুখবেন এক মালিঙ্গা ছাড়া ভরসা জোগানোর মতো বোলারও নেই দলটিতে। লংকানদের হারিয়ে দুটি পয়েন্ট পেতে তাই মুখিয়ে আছেন মাশরাফি।

ক্রিকেট খাতা-কলমে জয়ের বিষয় নয়। যে কেউ যে কোনো সময়ে খেলার গতি-প্রকৃতি বদলে দিতে পারেন বলেই ক্রিকেটকে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা বলা হয়। টাইগার সমর্থকদের প্রার্থনা, সেই অনিশ্চয়তা যেন অন্তত এই ম্যাচে না ঘটে। স্মৃতিবিজড়িত ও অনেক প্রাপ্তির এই ব্রিস্টলে যেন টাইগারদের পরাজয়ের কালিমা না লাগে।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর