মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৫ ১৪২৬   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
১২১

ইনস্টাগ্রাম কী মানসিক রোগের কারণ?

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯  

ছবি তুলেই তা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন নিশ্চয়ই। কিন্তু এই সোশ্যাল মিডিয়াই মানসিক ভাবে ক্ষতিকর বলে দাবি করছে নতুন একটি গবেষণা। রয়্যাল সোসাইটি ফর পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইয়ং হেলথ মুভমেন্টের গবেষণা অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর এই সোশ্যাল মিডিয়া। মানসিক অবসাদ ছাড়াও মানসিক রোগের কারণও হতে পারেন এই ইনস্টাগ্রাম।

যুক্তরাজ্যের প্রায় ১৫০০ জন কিশোর-কিশোরী ও দুই হাজার জন ২০-২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে একটি জরিপ চালানো হয়। তাদের ঘুমের সময়, উদ্বেগ, হতাশা সব কিছু পর্যবেক্ষণ করা হয় এই জরিপে।

এতে দেখা যায় ফিয়ার অব মিসিং আউট (ফোমো)-এর শিকার বেশির ভাগ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী মানুষ। এর পরেই দ্বিতীয় ক্ষতিকারক হিসেবে উঠে আসে স্নাপচ্যাটের নাম।

কিন্তু কী সমস্যা ইনস্টাগ্রামে?

ইনস্টাগ্রামে ছবি দেয়া বা কোনো মুহূর্তকে বন্দি করে তা সারা বিশ্বের কাছে ছড়িয়ে দেয়ার মধ্যে এক মানসিক শান্তি কাজ করে। সেখানে আসা লাইকের সংখ্যা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

ফেসবুকেও লাইক বা কমেন্টের চাপ থাকলেও আজকাল অনেকেই ফেসবুকের তুলনায় ইনস্টাগ্রামে বেশি ছবি পোস্ট করে থাকেন। সেলিব্রিটিরাও বেশির ভাগই ফেসবুকের বদলে ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট খোলেন।

তাদের ফলো করার সুবিধার জন্যই হত তো গত কয়েক বছরে ইনস্টাগ্রামের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। কিন্তু জরিপে দেখা গেল, মাঝ রাতেও ইনস্টাগ্রামে নিজের পোস্টের ভিউয়ার, লাইক বা কমেন্ট দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকেই।

কোনো কারণে খারাপ মন্তব্য বা ভিউয়ার কম হলে বেশি মাত্রায় চিন্তায় পড়ে যান অনেকেই। মনোবিদদের মতে, ইনস্টাগ্রামের ছরিব ভিউ আর লাইক নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ছি যে আমরা মানসিক আরাম পাচ্ছি না।

ইনস্টাগ্রামে ছবিকে সুন্দর করে তুলতে সকলেই প্রায় ফোটো এডিট ব্যবহার করে থাকেন, যার মানেই আসল ছবিকে লুকিয়ে রাখে। এর ফলে আত্ম সচেতনতা ও নার্সিসিস্ট এক মনোভাব প্রকাশ পায়।

এছাড়া এই চাপের কারণে হতাশা, মনের চাপ, মানসিক নানা রোগের শিকার হচ্ছেন মানুষ এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠছে, এমনকি, ছবি লাইক না করায় পরিচিতদের মধ্যে সম্পর্কও খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

কী করবেন?

চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনে দিনে নির্দিষ্ট একটি সময়ের বাইরে একেবারেই ইনস্টাগ্রামে অন করবেন না। অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈরি হলে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর