বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৬ ১৪২৬   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
২১৭২

আমি কৃষকেরই সন্তান চাষীর সুখ-দু:খের আমিও ভাগিদার -খাদ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০১৯  

 

আমি কৃষকের সন্তান। নিজেও চাষাবাদ করি। ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ার কষ্ট বুঝি। বাজারে সরকারী দরের চেয়ে ধান-চালের দাম কম এ কথা সত্যি। উৎপাদন খরচ বেড়েছে শ্রমিক সংকটসহ নানাবিধ কারণে। আমি সব সময় খাদ্য শস্যের বাজার দর ও প্রান্তিক চাষী পর্যায়ে খোঁজ খবর রাখি। নির্ঘুম- নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি কিভাবে, কোন কৌশলে বা কোন উপায়ে কৃষকের ধানের দর সরকারী দরের সামঞ্জস্যে আনা যায়। 

সারাদেশে গুদামগুলোতে দ্রুত ধান-চাল কিনতে জোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি- খুব দ্রুত কৃষকের তালিকা দিতে। ১০৪০ টাকা দরে কার্ডধারী প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের ব্যবস্থা নিতে। 

কোন দালাল, ফরিয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের স্থান হবে না সরকারী গুদামে। সরকার দলীয় নেতাদের বলছি- আপনারা প্রভাব খাটাবেন না। সাধারন কৃষককে ধান দিতে সহযোগীতা করুন। 

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁ জেলা আইন শৃঙ্খলা সভা শেষে এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে বুধবার দিনব্যাপী উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে সরকারিভাবে ধান-চাল কেনার উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় চাষি, ব্যবসায়ী,সরকারি কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন খোঁজ খবর নেন। 

মন্ত্রী বলেন- স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে কৃষকের তালিকা আসতে কিছুটা দেরী হয়েছে। তাই সময় মত ধান কেনা শুরু করা যায়নি। এখন সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে। দুএক দিনের মধ্যেই আশা করছি বাজার দর সরকারী দরের সামঞ্জস্যে চলে আসবে। 

কৃষকেদের উদ্দ্যশ্যে মন্ত্রী বলেন- আমি আপনাদেরই লোক। আপনারা ধৈর্য্য ধারন করুন। আপনাদের কষ্টে আমিও কষ্ট পাই। আপনাদের উন্নয়নের জন্য আমি কাজ করে যাচ্ছি। মাত্র কয়েক মাস হলো আমি মন্ত্রী হয়েছি। সঠিক পথে খাদ্য বিভাগের গাড়ি ও গতি তুলতে কিছুটা সময় লাগবে। এখানে আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। কোন ভাবেই কৃষককে নি:স্ব হতে দিবনা। আমি কৃষক বাঁচানোর সংগ্রামে নেমেছি। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া সেই সংগ্রাম সম্ভব নয়। 

দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য রয়েছে। উপরন্তু এবছর বোরোতে ভাল ফলন হয়েছে। তাই শুরুতেই কিছুটা দর কম হয়েছে।ইতিমধ্যেই সরকারী ক্রয় শুরু হয়েছে।আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে শিগগিরিই ভাল দর পাবেন। আন্দোলন আমিও করছি; কৃষকের উন্নতির জন্য। কৃষকের মঙ্গলে নির্ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করছি। তবে অনেক সময় সেটি কার্যকর করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। কিন্তু ভাল কিছু করার অনেক পরিকল্পনা আছে।

সরকারী কৃষি ভুর্তকী, প্রণোদনা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ পরিচালনায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে অতীতের মত আগামীতেও চাষিদের কাছে যথাযথভাবে দ্রুতই পৌছে যাবে সার বীজ ও অন্যান্য প্রণোদনা। বোরোতে ব্যাপক সহযোগীতা করা হচ্ছে। 

কৃষিতে আধুনিকায়ন আনতে বিশেষ করে ভুর্তকীর মাধ্যমে চাষিদের হাতে ধান ও শস্য কাটার মেশিন তুলে দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ আলোচনা করে তাঁর দিক নির্দেশনায় ও কৃষি মন্ত্রনালয়সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে সাথে নিয়ে নতুন নতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আনৎনেরপরিকল্পনা রয়েছে। যাতে সহজেই অল্প সময়ে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারেন। এছাড়া সারাদেশে সরকারি গুদামের ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেশ কিছু অত্যাধুনিক প্যাডি সাইলো নির্মানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এতে একদিকে ধান কিনে সরকারী মজুদ বাড়ানো, অন্যদিকে কৃষকের হাতে সরাসরি অর্থ তুলে দেওয়া যাবে। 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্ম শত বর্ষকে সামনে রেখে আমরা আরো বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে সংসদে আসন দিয়েছেন। আর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক আশা করে আমাকে খাদ্যমন্ত্রনালয়ের মত একটি বড় ও স্পর্শকাতর মন্ত্রনালয়ের দায় দিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা নিয়ে আপনাদের সহযোগিতায় সঠিক ভাবে সেই দ্বায়িত্ব পালন করতে চাই। যেন তাঁর দেয়া সন্মান আজীবন ধরে রাখতে পারি। 

কাউকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে দেশের সাধারন মানুষকে ঠকতে দিবনা। আমার বিরুদ্ধে যতো ষড়যন্ত্রই করুক, যে যতো কথেই বলুক; সাধারন আমাকে সাধারন মানুষের কাছ থেকে কেউ আলাদা করতে পারবে না। চলতি মওসুমের ধান, চাল ও গম কেনা চলছে। অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে কেনা হবে। দেশে খুব বেশী খাদ্য উদ্বৃত্ত হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনে বিদেশে চাল রপ্তানী করা হবে। 

চলতি মওসুমের ধান-চাল সংগ্রহ সফল করতে মাঠ চসে বেড়াচ্ছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় এবার খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংগ্রহ করার লক্ষ্যে কাজ করছে খাদ্য বিভাগ। প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। 

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, বাজার মনিটরিং শুরু করা হয়েছে। যাতে সিন্ডিকেট ধান কিনে কৃষককে কেউ ঠকাতে না পারে সেদিকে তিক্ষ্ন নজ রাখা হয়েছে। 

বাজার পরিস্থিতির খোঁজ খবর নিতে কথা হলে উত্তরাঞ্চলের চালকল মালিকরা জানান, বোরো মওসুমে সাধারনত সরু ধানের চাল হয়। বছরে এক মওসুমেই এই ধানের উৎপাদন করেন চাষিরা। তাই এই ধানের চাহিদা থাকে সারাবছর। কাঁচা ধানের দর কম থাকলেও ক্রমেই দর উর্দ্ধমূখী হয়ে থাকে। মিলার ও ব্যবসায়ীরা ধান কেনা শুরু করেছেন। অল্পদিনের মধ্যেই বাজার দর সরকারী বাজার দরের সাথে সবঞ্জস্ব্যে চলে যাবে।

দিনাজপুর জেলার ধান-চাল ব্যাবয়ী আলতাফ জানান, আবহাওয়া ভাল থাকায় কৃষকরা কিছুটা ধিরে ধান বিক্রি করছেন। মিলার ও আরতদাররাও ধীর গতিতে ধান কিনছে। কেন না বোরো মওসুমের কাঁচা ধান কেউ কিনতে চান না। শুকানো ধান না কিনলে সারা বছর মজুত রাখা যায় না। 

সারাবছর মজুত রাখার উদ্দেশ্যে কৃষকের কাছ থেকে শুকানো ধান কিনতে চায় ব্যবসায়ীরা। তাই শুরুতে দর কিছুটা কম থাকে। কিন্ত পরবর্তীতে চাষিরা ধানের ন্যাজ্য দাম পান। এবারও বাজার দরের সেই ধারা পরিলক্ষিত।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর