মঙ্গলবার   ২১ মে ২০১৯   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৬   ১৬ রমজান ১৪৪০

নওগাঁ দর্পন
৬৭

আমিনুলের ঘুষের টাকায় বিএনপির এমপিদের শপথের নির্দেশ দেন তারেক জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ মে ২০১৯  

বিএনপির নির্বাচিত এমপিদের শপথের নেপথ্যে কাজ করেছে তারেক জিয়াকে দেয়া বিএনপির চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০২ আসনের সাংসদ আমিনুল ইসলামের ঘুষের অঢেল টাকা। তার টাকার চাপেই শেষ পর্যন্ত তারেক জিয়া বিএনপির বিজয়ী সাংসদদের শপথ নেয়ার অনুমোদন দেন। এখন বিএনপির নেতাদের মুখ থেকেই বেরিয়ে আসছে এর সত্যতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলোচিত ১০ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ বিএনপি আমলে দুর্নীতির নানা অভিযোগে ১০ বছরের অধিক সময় ধরে লন্ডনে ‘‘বিলাসবহুল পলাতক জীবন যাপন’’ করছেন তারেক জিয়া। তারেকের এই বিলাস-বহুল পলাতক জীবন মোটেও সহজ হতো না যদি তাকে অর্থ ও বাসস্থান দিয়ে সহায়তা না করতেন আমিনুল ইসলাম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নাচোল উপজেলার ঝিকড়া এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম খুবই হত দরিদ্র পরিবারে বড় হয়েছেন। হঠাৎ করেই যেনো তিনি পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ। দিন দিন বাড়তে থাকে তার সম্পদ। দেশের বিভিন্ন স্থানে খুলে বসেন চিংড়ি ঘেরসহ নানা ব্যবসা। তার সম্পদ অর্জন নিয়েও এলাকায় নানা সমালোচনা রয়েছে।

তিনি আরো জানান, দুই বছর আগেও এই আমিনুল ইসলাম বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী ছিলেন। কিন্তু তিনি ভেতরে ভেতরে তারেক জিয়া ও গিয়াস উদ্দীন আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তারেক জিয়া লন্ডনে পলাতক জীবন শুরু করলে আমিনুল ইসলাম তার লন্ডনের বাড়ীতে তারেক জিয়াকে বিনা ভাড়ায় আশ্রয় দেন।

শুধু আশ্রয় নয়, তারেকের বিলাস বহুর জীবন যাপনের জন্য অগাধ টাকা পাঠিয়েও সহযোগিতা করে আসছেন। তার বিনিময়ে হঠাৎ করেই দুবছর আগে তারেক জিয়ার নির্দেশে আমিনুল ইসলামকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ দেয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, গত সংসদ নির্বাচনে তারেক জিয়ার নির্দেশেই আমিনুল ইসলামকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০২ আসনে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। নির্বাচনে অবৈধ কালো টাকা ব্যাপক হারে ছিটিয়ে ভোট কিনে এমপিও হন তিনি।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হলে তারা শপথ নেবে না বলে শুরু থেকেই ঘোষণা দিয়ে আসছিলো। এরপর শেষ দিন হঠাৎ করেই তারা শপথ নেন। এরপর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, তারেক জিয়ার নির্দেশেই নির্বাচিত চার এমপি শপথ নিয়েছেন।

এদিকে শপথের বিপক্ষে সরব থাকা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর হঠাৎ পাওয়া তারেক জিয়ার নির্দেশ মানতে পারেননি। তাই তিনি তারেকের নির্দেশ অমান্য করে শপথ নেয়া থেকেও দুরে থাকেন বলে বিএনপির ওই নেতা জানান।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, আমিনুল ইসলামের দেয়া টাকায় গত কয়েক বছর ধরে লন্ডনে বিলাস-বহুল পলাতক জীবন যাপন করছেন তারেক জিয়া। আর একারণেই তারেক জিয়া তাকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দলের মনোনয়ন দেন। পরে এমপি নির্বাচিত হবার পর তার অনুরোধের ঢেঁকি গিলতেই তারেক জিয়া শপথ নেয়ার নির্দেশ দেন।

তারা আরো জানান, তারেককে রাজি করাতে আমিনুল ইসলাম প্রায়ই তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারেক জিয়াকে দেয়া বাড়ী ও অগাধ টাকা দেয়ার কথাও বার বার স্মরন করিয়ে দিয়ে চাপ দিয়েছেন। আর এসব কারণেই তারেক জিয়া বাধ্য হয়েছেন শপথ নেয়ার নির্দেশ দিতে।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারেক জিয়া নিজেই মনোনয়ন বানিজ্য করেছেন। আবার বিএনপির স্বার্থের কথা চিন্তা না করে শুধু টাকার লোভে পড়েই শপথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অথচ মাত্র চারজন এমপি নিয়ে বিএনপি এবার বিরোধী দলেও নেই। এটা বিএনপির জন্য লাভ নয়, বরং ক্ষতির কারণই হয়েছে।

বিএনপির আরেক নেতা বলেন, আমিনুল শপথ নিয়েছেন শুধুই এমপি হিসেবে সুযোগ সুবিধা নেয়া ও টাকা কামাইয়ের জন্য। এই সুযোগ সুবিধার ভাগ তারেক জিয়াও পাবেন লন্ডনে বসে থেকেই। তারা শপথ না নিলে তারেকের আয় কমে যেতো। একারণেই তিনি শপথ নিতে নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, আমিনুল ইসলাম সারাবছরই ঢাকায় থাকেন। তিনি এমপি হলেও এলাকার মানুষের উন্নয়নে তার কোন ভূমিকা থাকবে না। বরং সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বের করে এনে সেই টাকা লন্ডনে তারেক জিয়ার কাছে পাঠাবেন। রাজনীতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য দিয়ে তারেককে দেশের রাজনীতি সম্পর্কে আপডেট রাখছেন। প্রয়োজন মাফিক তারেকের কাছে অর্থ পাচার করেও সহায়তা করছেন।  তার চাইতে যোগ্য নেতা  চাঁপাইনবানগঞ্জ বিএনপিতে ছিলেন।

আমিনুলকে মনোনয়ন দেয়ার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপিতেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এতে বিএনপি এখন অভিভাবকহীন ও বিভক্ত দলে পরিণত হয়েছে। তারা বলছেন, এই শপথের পেছনে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কোন সমঝোতা বা আলোচনাও হয়নি। শুধুমাত্র আমিনুল ইসলামের টাকার লোভেই তারেক জিয়া শপথ নেয়ার অনুমোদন দেন বিএনপির চার সাংসদকে।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন