রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৬ ১৪২৬   ২২ মুহররম ১৪৪১

নওগাঁ দর্পন
সর্বশেষ:
পত্নীতলায় আদিবাসী প্রেমিক যুগলের লাশ উদ্ধার চাকুরির প্রলোভনে মান্দার মেয়েকে ঢাকায় ধর্ষণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়া বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার গাঙচিল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধামইরহাটে মাদক সেবনের দায়ে ৬ জনের জেল ও জরিমানা আত্রাইয়ে ডেঙ্গু সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপাহারে পরিস্কার অভিযান সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত আত্রাই থানা পুলিশের অভিযানে ৯জন আটক গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে নিয়ামতপুরে আলোচনা সভা সাপাহারের করল্যা চাষে বিপ্লব
৫৫

আউসের ফলন-বাজার দরে কৃষকের লোকসান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

চলতি মওসুমের রোপা আউসের পাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন চাষিরা। নওগাঁর মাঠগুলোতে আউস কাটায় ব্যস্ত কৃষক। তবে আশানূরুপ ফলন না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে নতুন ধানের বাজার দর কম পেয়ে হতাশ হয়ে পরছেন চাষিরা। একই অবস্থা উত্তরের অন্যান্য জেলাগুলোতেও।

যদিও আউস চাষে খরচ কম। তারপরও বাজার দর ও ফলন কম পাওয়ায় কৃষককে লোকসান গুনতে হচ্ছে। চাষিরা বলছেন- এবার বিঘা প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, ধান উৎপাদনের বড় জেলা নওগাঁর ১১ টি উপজেলায় এবার প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে আউসের আবাদ করেছেন কৃষক। যা গেল বছরের চেয়ে কিছু বেশী। এ জেলায় এবার ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় দুই লাখ ৮০ মেট্রিক টন। সেই হিসেবে বিঘা প্রতি ধনের উৎপাদন হওয়ার কথা ১৮ থেকে ২০ মন। কিন্তু বন্যার কারনে জেলার মান্দা উপজেলায় কিছু ফসল নষ্ট হয়েছে। এছাড়া নিচু জমির ধান রোপনের পর পরই বর্ষার পানিতে ডুবে গেছে। ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

কৃষকরা জানান, গেল মওসুমে বোরো ধানের বাজার দর না পেয়ে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে। সেই ক্ষতি তুলতে এবার বেশী জমিতে আউস চাষ করেছেন তারা। কিন্তু এ ফসলও তাদের হতাশ করেছে।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চাষি আব্দুর রউফ জানান, আউসে বিঘা প্রতি এবার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। বৃষ্টি নির্ভর আউস চাষের শুরুতেই অনেক জমিতে বিশেষ করে উঁচু জমি প্রস্তুত করতে সেচ দিতে হয়েছে। এতে বারতি খরচও হয়েছে। আবাদ শেষে ধানের ফলন পাচ্ছেন ১৪ থেকে ১৫ মন।

একই এলাকার চাষি ময়েন উদ্দিন জানান, ১ বছর আগে আউসের ফলন হয়েছিলো ১৮ থেকে ২০ মন পর্যন্ত। ধানের দামও ছিলো ভাল। কিন্তু এবার ফলন-দামে কোন টাতেই লাভবান হতে পারছেন না। বর্তমান বাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৪৭০ টাকা মন দরে। এতে প্রতি বিঘায় লোকসান হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।

আউসে সার, বীজ ও সেচের জন্য প্রনোদনা দিয়েছে সরকার। এ প্রসঙ্গে চাষিরা বলছেন- সরকারী প্রনোদনার পরিমান খুবই কম। তাছাড়া এই প্রনোদনা থেকে প্রকৃত চাষিরা বঞ্চিত। বিশেষ করে বর্গা চাষিদের কপালে জোটে না কখনই।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, এরই মধ্যে নওগাঁ জেলায় প্রায় ৯০ শতাংশ আউস ঘরে তুলেছেন চাষিরা। উৎপাদন খরচ কম লাগে তাই ক্রমেই চাষিরা আউস চাষে বেশী আগ্রহী হচ্ছেন। এবার ফলন কম কিছুটা কম হলেও বাজার দর ভাল পেলে চাষিরা লাভবান হবেন।

বেশী আবাদ হলে অন্য মওসুমের মত আউসের ধান কিনে সরকারী ভাবে মজুদ করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

নওগাঁ দর্পন
নওগাঁ দর্পন
এই বিভাগের আরো খবর